অস্ট্রেলিয়ায় ভিসা-মাস্টারকার্ডে পেমেন্টে অতিরিক্ত চার্জ বন্ধ
অস্ট্রেলিয়ায় কার্ড দিয়ে পণ্য বা সেবা কেনার সময় এতদিন যে অতিরিক্ত ‘কার্ড সারচার্জ’ দিতে হতো, তা বন্ধ হয়ে গেছে। ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে দেশটির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো…
অস্ট্রেলিয়ায় অর্থনৈতিক সংকটের ঝুঁকি বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিনিয়োগের দ্রুত সম্প্রসারণের কারণে দেশটির অর্থনীতি বৈশ্বিক নানা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়া (আরবিএ)।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত আরবিএর ছয় মাস পরপর প্রকাশিত আর্থিক স্থিতিশীলতা পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের চাপ না থাকলেও বিদেশি বিভিন্ন ঝুঁকি অস্ট্রেলিয়াকে আর্থিক সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “প্রধান ঝুঁকিগুলো ক্রমেই বিদেশ থেকে আসছে।”
আরবিএ আরও বলেছে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এমন একটি অনিশ্চিত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের যুদ্ধ এখনো চলমান এবং এআই খাতে বিনিয়োগের ব্যাপক প্রবৃদ্ধি নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
আরবিএর মতে, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের সংঘাত বিশ্বব্যাপী সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। একই সঙ্গে, এই দুই যুদ্ধের দ্রুত অবসানের সম্ভাবনাও স্পষ্ট নয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, এ ধরনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়াতে পারে, যার প্রভাব অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
বর্তমানে এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে এই প্রযুক্তি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে গেলে তা আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার একটি কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে আরবিএ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই খাতে বিনিয়োগের বড় অংশই ভবিষ্যতে দীর্ঘ সময় ধরে দ্রুত মুনাফা বৃদ্ধির প্রত্যাশার ওপর নির্ভর করছে। সেই প্রত্যাশায় পরিবর্তন এলে বিনিয়োগের ধারা দ্রুত বদলে যেতে পারে।
আরবিএর ভাষায়, এআই খাতে বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি নিয়ে বাজারের মনোভাব পরিবর্তন হওয়া আন্তর্জাতিক আর্থিক অস্থিতিশীলতার সম্ভাব্য একটি ট্রিগার হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ায় এআই ব্যবহারের বিস্তার সাইবার হামলার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আরবিএ বলেছে, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি একসঙ্গে বাড়তে থাকলে কোনো একটি বড় আর্থিক চাপের সময় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো সাইবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এতে সম্ভাব্য আর্থিক সংকট মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সরকার জানিয়েছে, ওপেনএআইয়ের এক এজেন্টের মাধ্যমে দেশটির ব্যক্তিগত মেডিকেয়ার-সংক্রান্ত কিছু পরিসংখ্যানে প্রবেশ করা হয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ার আবাসন খাত নিয়েও সতর্ক করেছে আরবিএ। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো বাড়ি কেনা ব্যক্তিদের মধ্যে ‘নেগেটিভ ইকুইটি’র ঝুঁকি বাড়ছে।

“ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত অস্ট্রেলিয়ায় আর্থিক সংকটের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।” ছবি: সংগৃহীত
নেগেটিভ ইকুইটি বলতে এমন পরিস্থিতিকে বোঝায়, যখন কোনো বাড়ির মালিকের ঋণের পরিমাণ তার বাড়ির বর্তমান বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি হয়ে যায়।
আরবিএর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় আনুমানিক ১ শতাংশ বাড়ির মালিক বর্তমানে নেগেটিভ ইকুইটির মধ্যে রয়েছেন। এর মধ্যে ফেডারেল সরকারের ৫ শতাংশ ডিপোজিট স্কিমের আওতায় বাড়ি কেনা ব্যক্তিরাও রয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে বাড়ির দাম কমেছে। এর পেছনে সুদের হার বৃদ্ধি এবং মূলধনি লাভ কর ও নেগেটিভ গিয়ারিং-সংক্রান্ত কর সুবিধায় সাম্প্রতিক পরিবর্তনসহ বেশ কয়েকটি কারণ কাজ করছে।
তবে সামগ্রিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অবস্থান এখনো শক্তিশালী বলে জানিয়েছে আরবিএ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বাড়ার কারণে আর্থিক চাপ বেড়েছে। তারপরও ঋণ পরিশোধে খেলাপির হার তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে এবং অধিকাংশ ঋণগ্রহীতার হাতে এখনো পর্যাপ্ত আর্থিক সুরক্ষা বা বাফার রয়েছে।
আরবিএ বলেছে, অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী আর্থিক অবস্থান তাদের চলতি বছরের বাড়তি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতিজনিত চাপ সামাল দিতে সহায়তা করেছে।
এদিকে চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ায় চার দফা সুদের হার বাড়িয়েছে আরবিএ। সর্বশেষ মঙ্গলবার সুদের হার বাড়ানোর পর দেশটির সরকারি ক্যাশ রেট দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৬০ শতাংশে, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
আরবিএর সর্বশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি এখনো তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, যুদ্ধ, এআই খাতে বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা এবং সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
সূত্র: নাইন.কম.এইউ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au