অস্ট্রেলিয়ায় ভিসা-মাস্টারকার্ডে পেমেন্টে অতিরিক্ত চার্জ বন্ধ
অস্ট্রেলিয়ায় কার্ড দিয়ে পণ্য বা সেবা কেনার সময় এতদিন যে অতিরিক্ত ‘কার্ড সারচার্জ’ দিতে হতো, তা বন্ধ হয়ে গেছে। ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে দেশটির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো…
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পাবেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত এবং গত বছর পুরস্কারকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের কারণে ট্রাম্পের পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন কয়েকজন বিশেষজ্ঞ। তাঁদের মতে, পুরস্কারটি যিনি পাবেন, তাঁকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক চাপ সামলাতে হবে কি না, সেটিও এবার নোবেল কমিটির বিবেচনায় আসতে পারে।
গত বছর ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে পুরস্কার পাওয়ার জন্য ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মধ্যেই মাচাদোকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। পরে মাচাদো তাঁর পাওয়া নোবেল পদক ট্রাম্পকে উপহার দেন। ঘটনাটি নোবেল শান্তি পুরস্কারের ইতিহাসে নজিরবিহীন আলোচনার জন্ম দেয়।
অসলোর পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকন জেরলো মনে করেন, গত বছরের ঘটনাগুলো এবার নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর মতে, পাঁচ সদস্যের কমিটি এমন কোনো ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করার বিষয় বিবেচনা করতে পারে, যিনি ট্রাম্পের রাজনৈতিক চাপ সামলাতে সক্ষম।
জেরলো বলেন, কোনো ব্যক্তিকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দিলে সেটি ওই ব্যক্তির জন্য সুবিধা নাকি ক্ষতির কারণ হবে, বিশেষ করে তিনি ট্রাম্পের চাপের মুখে পড়বেন কি না, কমিটি বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় এবার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রাঞ্চেস্কা আলবানিজের নাম। নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিজয়ীর নাম ৯ অক্টোবর ঘোষণা করার কথা।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের সমালোচনা করায় ট্রাম্প পোপ লিওকে ‘দুর্বল’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তবে পোপ যুদ্ধের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি, সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান, সংলাপ এবং অভিবাসীদের প্রতি মানবিক আচরণের পক্ষে পোপ লিওর অবস্থানও আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি তিনি এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে বলেছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক করিম হাগাগ বলেন, পোপ শুধু ধর্মীয় নেতা হিসেবে নয়, বৈশ্বিক পর্যায়ে একজন গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাবিদ হিসেবেও ভূমিকা রাখছেন।
অন্যদিকে ফ্রাঞ্চেস্কা আলবানিজ গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও পশ্চিম তীরে দখলদারিত্বের সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
গত বছরের ঘটনা এবার নোবেল কমিটিকে আরও সতর্ক করে তুলতে পারে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের একটি সম্ভাব্য ধারণা হলো, ট্রাম্পকে নতুন করে ক্ষুব্ধ করতে পারে এমন কোনো সিদ্ধান্তের বদলে তুলনামূলকভাবে কম বিতর্কিত কাউকে পুরস্কার দেওয়া হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে সুদানের গৃহযুদ্ধে সাধারণ মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া স্থানীয় সংগঠনগুলোর নেটওয়ার্ক ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস’ অথবা যুদ্ধকবলিত শিশুদের নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’-এর নাম আলোচনায় এসেছে।
তবে নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসবিদ ওয়াইভিন্দ স্টেনারসেনের মতে, আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও উদারনৈতিক গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য নোবেল কমিটির ওপরও এক ধরনের চাপ রয়েছে।
তাঁর মতে, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পক্ষে যারা কাজ করছেন, তাঁদের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি কমিটির বিবেচনায় আসতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে পুরস্কৃত করা হলে আন্তর্জাতিক আইন ও জবাবদিহির পক্ষে বার্তা দেওয়া হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একইভাবে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতকে পুরস্কৃত করা হলে রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের গুরুত্ব তুলে ধরা হতে পারে।
এ বছর কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা ট্রাম্পের নাম নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য প্রস্তাব করেছেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট অসলোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকন জেরলোর মতে, ট্রাম্পের পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম।
নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী সাংবাদিক মারিয়া রেসাসও নোবেল কমিটির ওপর ট্রাম্পের চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, ক্ষমতা বা শক্তি প্রয়োগ করে সবকিছু নির্ধারণ করা যায় না; আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় কিছু নির্দিষ্ট মূল্যবোধ ও মানদণ্ডও রয়েছে।
আগামী ৯ অক্টোবর নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। তার আগ পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির।
সূত্র: রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au