অস্ট্রেলিয়ায় ভিসা-মাস্টারকার্ডে পেমেন্টে অতিরিক্ত চার্জ বন্ধ
অস্ট্রেলিয়ায় কার্ড দিয়ে পণ্য বা সেবা কেনার সময় এতদিন যে অতিরিক্ত ‘কার্ড সারচার্জ’ দিতে হতো, তা বন্ধ হয়ে গেছে। ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে দেশটির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো…
অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী অনিকা ওয়েলসকে বিশ্বের প্রভাবশালী উদীয়মান নেতাদের একজন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক সাময়িকী টাইম। ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে ভূমিকার জন্য তাকে ‘টাইম১০০ নেক্সট ২০২৬: দ্য ওয়ার্ল্ডস মোস্ট ইনফ্লুয়েনশিয়াল রাইজিং স্টারস’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
টাইম-এ প্রকাশিত লেখায় অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড অনিকা ওয়েলসের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, শিশুদের অনলাইনে সুরক্ষা জোরদারে কঠোর আইন প্রণয়নের জন্য বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরোধিতার মুখেও ওয়েলস কাজ করে গেছেন।
২০১৯ সাল থেকে প্রতিবছর ‘টাইম১০০ নেক্সট’ তালিকা প্রকাশ করে আসছে টাইম। রাজনীতি, বিনোদন, ক্রীড়া, ব্যবসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদীয়মান প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এই তালিকায় তুলে ধরা হয়।
গিলার্ডের ভাষায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও শিশুদের কল্যাণের মধ্যকার সম্পর্ক নতুন করে ভাবার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় ওয়েলস ‘অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর’। আইনটি নিয়ে বিরোধিতা সত্ত্বেও তিনি ‘অটল’ ছিলেন বলেও মন্তব্য করেন গিলার্ড।
গত বছরের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দেশব্যাপী ন্যূনতম বয়সসীমা কার্যকর হয়। এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বে প্রথম দেশ হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে এমন বিধিনিষেধ চালু করে।
তবে আইনটি কার্যকরের আগেই এর সমালোচনা শুরু হয়। ব্যবহারকারীদের বয়স কীভাবে কার্যকরভাবে যাচাই করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীরা নানা উপায়ে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়।
আইন কার্যকরের পরও এসব উদ্বেগ পুরোপুরি দূর হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, আইন কার্যকরের পর ১৬ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে প্রায় ৪২ দশমিক ১ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছিল। আইন কার্যকরের আগে এ হার ছিল ৫২ দশমিক ৪ শতাংশ।
অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগ আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক মনোযোগ পেয়েছে। একই ধরনের বিধিনিষেধ চালুর বিষয়ে অন্য দেশগুলোও পদক্ষেপ নিচ্ছে।
যুক্তরাজ্য গত জুনে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা চালুর পরিকল্পনার কথা জানায়। দেশটির সংস্কৃতিমন্ত্রী লিসা ন্যান্ডি সম্প্রতি জানিয়েছেন, সেখানে আগামী ২০২৭ সালের মার্চ থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়াই প্রথম দেশ, যারা দেশব্যাপী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা চালু করেছে। — আইস্টক
তবে টাইম-এর এই স্বীকৃতির আগে সরকারি অর্থে অনিকা ওয়েলসের বিদেশ ভ্রমণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৬ বছরের কম বয়সীদের নিষেধাজ্ঞার প্রচারণার অংশ হিসেবে করা কয়েকটি সফরও এ বিতর্কের মধ্যে ছিল।
ইন্ডিপেনডেন্ট পার্লামেন্টারি এক্সপেন্সেস অথরিটির (আইপিইএ) এক নিরীক্ষায় দেখা যায়, চার বছরে ওয়েলসের করা প্রায় ২৫০টি সফরের মধ্যে চারটি সংসদীয় ব্যয়সংক্রান্ত বিধিমালা পুরোপুরি অনুসরণ করেনি।
এর পর ওয়েলস মোট ১০ হাজার ১১৬ অস্ট্রেলিয়ান ডলার ফেরত দেন। এর মধ্যে ৮ হাজার ৯৩ ডলার ছিল খরচের অর্থ এবং ২ হাজার ২৩ ডলার ছিল জরিমানা।
ওয়েলস এর আগে বলেছিলেন, নিরীক্ষায় তার বিরুদ্ধে কোনো অসদাচরণ বা নৈতিক বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি বিষয়গুলোকে ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
তবে জনসমক্ষে আলোচিত অন্যান্য কিছু ভ্রমণ ব্যয়ও নিরীক্ষায় পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে নিউইয়র্ক সফরে প্রায় ৯৫ হাজার ডলার ব্যয় এবং বক্সিং ডে টেস্ট ম্যাচসংক্রান্ত ভ্রমণ ছিল। নিরীক্ষায় এসব ব্যয়কে যথাযথ বলে উল্লেখ করা হয়।
সূত্র: নাইন.কম.এইউ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au