নেত্রকোনায় গুলিতে নিহত সাংবাদিক, আগেও হামলার শিকার হয়ে ছিলেন ঝুঁকিতে
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে। স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও চোরাচালানের অভিযোগ নিয়ে লেখালেখি করতেন তিনি। এর আগেও তাঁর…
দেশে চালের পর্যাপ্ত উৎপাদন ও সরকারি মজুদ থাকলেও খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মূল্যস্ফীতি, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া, গমের আমদানি-নির্ভরতা এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে খাদ্যসংকটের ঝুঁকিতে পড়ছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে পৌনে দুই কোটি মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়বে। এতে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও বাজার স্থিতিশীল রাখার চাপে পড়েছে সরকার।
বাংলাদেশে চালের উৎপাদন চাহিদার চেয়ে বেশি হলেও গমের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। গত অর্থবছরে দেশে ৪ কোটি ২৪ লাখ টন চাল উৎপাদিত হয়েছে। বিপরীতে গম উৎপাদিত হয়েছে মাত্র ১১ লাখ ২৩ হাজার টন।
দেশে বছরে গমের চাহিদা প্রায় ৮০ লাখ টন। এর মধ্যে গত অর্থবছরে আমদানি করতে হয়েছে ৬৫ লাখ ৮১ হাজার টন। ফলে গমের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি পূরণ করতে হচ্ছে বিদেশ থেকে।
এফএওর সর্বশেষ মূল্যায়নে বলা হয়েছে, চালের উৎপাদনে স্বস্তি থাকলেও গমের আমদানি-নির্ভরতা, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানিসংশ্লিষ্ট ব্যয় খাদ্যনিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ তৈরি করছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, গত আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ০২ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে ৭ দশমিক ২২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এতে সীমিত আয়ের মানুষের খাদ্য কেনার ব্যয় আরও বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, খাদ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেই খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে খাবারের দাম সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়াও জরুরি। আয় না বাড়ায় দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের ঝুঁকি বাড়ছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি। জাহাজভাড়া, পরিবহন ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গম, আটা ও ময়দার দামেও চাপ তৈরি হচ্ছে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লে সব ধরনের উৎপাদন ব্যয় বাড়ে। কৃষকের উৎপাদন খরচ সক্ষমতার বাইরে চলে গেলে উৎপাদন কমে যেতে পারে। এতে চালের উৎপাদন প্রবৃদ্ধি কমার পাশাপাশি আমদানি-নির্ভরতা ও খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, খাদ্যের দাম সহনীয় রাখা এবং কৃষকের জন্য ভর্তুকি বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে সারসহ কৃষি উপকরণের সরবরাহ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট অনুযায়ী, গত চার বছরে দেশে নতুন করে ৮০ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়েছেন। দারিদ্র্যসীমার সামান্য ওপরে থাকা আরও ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ অর্থনৈতিক ধাক্কায় দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
এদিকে চালের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় সরকারের খাদ্যশস্যের মজুদ তুলনামূলক বড়। খাদ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, বর্তমানে সরকারের কাছে প্রায় ১৯ লাখ ৬৪ হাজার টন চাল এবং ৩ লাখ ১২ হাজার টনের বেশি গম রয়েছে।
সব মিলিয়ে চাল, গম ও ধানসহ সরকারি খাদ্যশস্যের মজুদ ২৩ লাখ ৪৫ হাজার টনের বেশি। তবে বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় মজুদ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জামাল হোসেন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার কথা বিবেচনায় খাদ্যশস্য মজুদের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে খাদ্যশস্য মজুদের সক্ষমতা ৩৪ লাখ টনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে শুধু মজুদ বাড়ানো নয়, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি উপকরণের দাম নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদনে প্রণোদনা, আমদানি ব্যয় মোকাবিলা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা জোরদার করা প্রয়োজন। অন্যথায় চালের পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও খাদ্যের দাম ও মানুষের আর্থিক দুর্বলতার কারণে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়তে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au