কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার
কক্সবাজারের ইনানীতে একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আগুনে পুড়ে রিসোর্টটি প্রায় সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন হতাহত হয়ে থাকতে…
জাপানের রাজধানী টোকিওতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী-সমর্থিত সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকটি এক মাসের মধ্যে দুই পক্ষের দ্বিতীয় আলোচনা। ২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটির জেনারেলদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেও এখন বিভিন্ন বিষয়ে আবারও যোগাযোগ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তি বার্তা সংস্থাকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে টোকিওর বৈঠকে ঠিক কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বৈঠকটি সংবেদনশীল হওয়ায় নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।
সূত্রগুলোর একজন জানান, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের গোয়েন্দা ও গবেষণা বিভাগের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল ভ্যান্স। এতে যুক্তরাষ্ট্রের এক ডজনের বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। তবে মিয়ানমারের পক্ষে কারা উপস্থিত ছিলেন, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরও বৈঠকে ভ্যান্সের অংশগ্রহণ নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠক হয়েছিল। ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের এক ব্যবসায়ীর মুক্তি, মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত প্রতারণাকেন্দ্র বন্ধ এবং মিয়ানমারের বিরল মৃত্তিকা খনিজের মজুত নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে রয়টার্সের আগের প্রতিবেদনে জানানো হয়। ওই বৈঠকে মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের নেতা ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মাইকেল ভ্যান্স।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো মার্কিন নাগরিকদের জন্য বাস্তব সুফল নিশ্চিত করা। বিশেষ করে, আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের প্রতারণার শিকার মার্কিন নাগরিকদের সহায়তা করতে চায় ওয়াশিংটন। এসব প্রতারণাকেন্দ্রে প্রেমের সম্পর্কের প্রলোভন দেখানোসহ বিভিন্ন কৌশলে মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, এসব চক্রের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকদের কাছ থেকে কয়েক শ কোটি ডলার হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গবেষকদের মতে, মিয়ানমারের অনেক প্রতারণাকেন্দ্র সামরিক বাহিনী-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অবস্থিত। এসব অপরাধ থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ সামরিক বাহিনীর কাছেও যায় বলে ধারণা করা হয়। ফলে প্রতারণাকেন্দ্র বন্ধে দেশটির সামরিক বাহিনী-সমর্থিত সরকার কতটা আন্তরিক, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে মিয়ানমার সরকার জানিয়েছে, এসব কেন্দ্র বন্ধ করতে তারা একটি বহুজাতিক উদ্যোগে অংশ নিচ্ছে।
প্রতারণা দমনের পাশাপাশি মিয়ানমারের বিরল মৃত্তিকা খনিজের মজুত নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি ও বায়ুবিদ্যুতের টারবাইনসহ আধুনিক প্রযুক্তি তৈরিতে এসব খনিজ গুরুত্বপূর্ণ। তবে এসব খনিজের বেশির ভাগই এমন এলাকায় রয়েছে, যেগুলো মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে। এ ছাড়া এসব খনিজের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। ফলে মিয়ানমারের খনিজ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ বাড়লে বেইজিংয়ের আপত্তির মুখে পড়তে পারে ওয়াশিংটন।
এদিকে, গত সপ্তাহে মিয়ানমারের এক ব্যবসায়ীর মেয়ের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দেশটির সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, মিয়ানমার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতির অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নীতির আওতায় দেশটির গৃহযুদ্ধে জড়িত বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া এবং মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রক্ষায় আগের পদক্ষেপগুলো পুনর্বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মিন অং হ্লাইংয়ের ওপর এখনো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী সময়ে গণ-আন্দোলন দমনে তাঁর ভূমিকার অভিযোগও এর মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া ২০১৬ ও ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যা ও জোরপূর্বক বিতাড়নের ঘটনায়ও তাঁর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ওয়াশিংটন ওই ঘটনাগুলোকে গণহত্যা হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে ব্যাপক গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। অস্ট্রেলিয়ার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান লোই ইনস্টিটিউটের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াবিষয়ক পরিচালক হান্টার মার্সটনের মতে, জাপানে সাম্প্রতিক বৈঠকগুলো থেকে বোঝা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ ওয়াশিংটনের আগ্রহের অন্যতম কারণ হতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।
এ আলোচনায় জাপানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই পক্ষের সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কূটনৈতিক আলোচনা নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি তারা। চলতি মাসের শুরুতে মিয়ানমারে নিযুক্ত জাপানের ভারপ্রাপ্ত দূত দেশটির সামরিক বাহিনী-সমর্থিত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রকাশ্যে জানা তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের সঙ্গে এটিই ছিল তাঁর প্রথম বৈঠক। তবে জাপান এখনো মিয়ানমারের বর্তমান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি।
গত সেপ্টেম্বরে জাপানের ক্ষমতাসীন দলের আইনপ্রণেতা হিরোমিচি ওয়াতানাবে নেপিডো সফর করেন। মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার জানিয়েছিল, দুই দেশের সহযোগিতা পুনরায় শুরু করা এবং উন্নয়ন সহায়তা চালুর পরিবেশ তৈরি করাই ছিল তাঁর সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য। ওয়াতানাবে নিজেও রয়টার্সকে বলেছেন, মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যেই তিনি সফর করেছিলেন। তবে এ ক্ষেত্রে এখনো বিভিন্ন বাধা রয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি।
২০২১ সালে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছিল জাপান। তবে সামরিক সরকারের নেতা ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশের সঙ্গে যোগ দেয়নি টোকিও।
একসময় চীনের প্রভাব মোকাবিলার লক্ষ্যে মিয়ানমারে বড় বিদেশি বিনিয়োগকারী ছিল জাপান। সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে অস্থিরতা বাড়লেও অনেক জাপানি প্রতিষ্ঠান ব্যবসা চালিয়ে গেছে। বিপরীতে, পশ্চিমা দেশগুলোর অনেক প্রতিষ্ঠান মিয়ানমার ছেড়ে চলে যায়। জাপানের বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা জেট্রোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মিয়ানমারে প্রায় ৩০০টি জাপানি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাচ্ছে। ২০২০ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪০০টির বেশি।
সব মিলিয়ে, মিয়ানমারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক বৈঠক দেশটির সামরিক বাহিনী-সমর্থিত সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের যোগাযোগ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে প্রতারণাকেন্দ্র বন্ধ, মানবাধিকার পরিস্থিতি, গৃহযুদ্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনার ভবিষ্যৎ কোন দিকে এগোয়, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au