২২৭ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন, তাইওয়ানে সতর্কতা
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তিশালী টাইফুন চাম্পির প্রভাবে সতর্কতা জারি করেছে তাইওয়ান। ঘণ্টায় ২২৭ কিলোমিটারের বেশি বেগে বয়ে যাওয়া ঝড়টির কারণে দুই শতাধিক ফ্লাইট বাতিল করা…
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে ফের সড়ক অবরোধের কারণে আটকে পড়া ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটককে বিশেষ নিরাপত্তায় খাগড়াছড়ির উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা প্রহরায় পর্যটকদের বহনকারী যানবাহনগুলো সাজেক থেকে বাঘাইহাটের উদ্দেশে রওনা হয়। পরে সেখান থেকে তাঁদের খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ ও পিকেটিং শুরু করেন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা। এতে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়।
এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করে সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে এলাকা ছেড়ে নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বুধবার বিকেলে সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি সাজেক সড়কে আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দেয়। সংগঠন দুটির সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও আহ্বায়ক বাবুধন চাকমার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার থেকে কর্মসূচি শুরুর কথা জানানো হয়। এতে সব পর্যটককে সাজেক ছেড়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয় এবং পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে উল্লেখ করা হয়।
তবে অবরোধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন, সংবাদপত্র বহনকারী যান এবং সংবাদ সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত সাংবাদিকদের গাড়ি।
সাজেক রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। সারা বছর এখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। পর্যটকদের থাকার জন্য এলাকায় গড়ে উঠেছে বিভিন্ন কটেজ, হোটেল ও মোটেল। পর্যটনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে খাবার, বস্ত্র ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর বেচাকেনার মাধ্যমে বহু মানুষের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ ও বারবার সড়ক অবরোধের কারণে পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এর আগেও গত ১১ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ডাকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়। ওই দিন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা জানিয়ে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাজেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। তখন সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের ১৩ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে দুই দিন কর্মসূচি বন্ধ রাখার পর ১৫ অক্টোবর থেকে আবারও সড়ক অবরোধ শুরু করে সংগঠন দুটি। পরে সাজেকের মাচালং বাজার দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির অনুরোধে এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতি সম্মান জানিয়ে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়।
সংগঠন দুটির দাবি, সাজেক থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি, সাধারণ মানুষকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের প্রতিবাদ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে তারা এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে।
বারবার অবরোধ ও পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের ঘটনায় সাজেকের পর্যটন কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবিকা ও পর্যটননির্ভর অর্থনীতি সচল রাখতে পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au