চট্টগ্রামে ১৫ বছরের কিশোরী কৃষ্ণা দে নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার
চট্টগ্রাম নগরের বন্দর থানা এলাকার ২ মাইল হেড এলাকায় নিজ বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়েছে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী কৃষ্ণা দে। গত ১৯…
ভারতে কর্মী প্রশান্ত ভূষণ ‘ক্ষমতার পালাবদল’ বা ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর ধারণা নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের নেপথ্যের একটি ঘটনা সামনে এনেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তাঁর দাবি, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের আগে ছাত্রনেতাদের সঙ্গে ইউনূসের যোগাযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বার্তা সংস্থা এএফপির তৎকালীন ঢাকা ব্যুরোর ফ্যাক্ট-চেক সম্পাদক কদরুদ্দীন শিশির।
শফিকুল আলমের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের মাত্র দুই দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ছাত্রনেতারা। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেন শিশির।
শফিকুল আলম লেখেন, ‘ছাত্রনেতারা যখন নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে হাসিনাপরবর্তী পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হওয়ার আহ্বান জানাতে চেয়েছিলেন, তখন তাঁদের একজন বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন ছিল। কদরুদ্দীন শিশির সেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসেন।’
শফিকুল আলমের এই বক্তব্য বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগে পর্দার আড়ালে চলা যোগাযোগের একটি চিত্র তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সংকটের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একত্র করতে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ ও মধ্যস্থতাকারীরা কী ভূমিকা রাখতে পারেন, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে।
ঘটনাটির সময়কাল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রদের নেতৃত্বে আন্দোলন ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছিল। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ একপর্যায়ে সরকার পতনের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়।
রাজনৈতিক সংকট গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসিনাপরবর্তী বাংলাদেশের সম্ভাব্য নেতৃত্ব হিসেবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নাম আলোচনায় আসে। শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার সরকারের পতনের আগেই ছাত্রনেতাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের একটি মাধ্যম তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন শফিকুল আলম। তাঁর বর্ণনায়, এই যোগাযোগ স্থাপনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেন সাংবাদিক কদরুদ্দীন শিশির।
শফিকুল আলম তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘হাসিনার ক্ষমতায় তখনো দুই দিন বাকি ছিল। অথচ গণহত্যা ও অপহরণের জন্য কুখ্যাত তাঁর নির্মম নিরাপত্তা বাহিনী এ বিষয়ে সামান্যতম আভাসও পায়নি। তারা বিষয়টি জানতে পারলে শিশির ও এএফপির পুরো দলকে সম্ভবত আয়নাঘরে নিয়ে যাওয়া হতো।’
এখানে ‘আয়নাঘর’ বলতে গোপন বন্দিশালাকে বোঝানো হয়েছে, যেখানে গুমের শিকার ব্যক্তিদের আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে কীভাবে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছিল, সে বিষয়ে শফিকুল আলমের বক্তব্য নতুন একটি দিক সামনে এনেছে। তবে তাঁর এই পোস্ট থেকে শিশিরের সম্পৃক্ততার পূর্ণ পরিধি নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায় না। একইভাবে, তিনি কোনো সমন্বিত সরকার পরিবর্তনের অভিযানের অংশ ছিলেন, এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায় না।
বরং তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, এএফপির এই সাংবাদিক ছাত্রনেতাদের সঙ্গে সেই ব্যক্তির যোগাযোগের একটি সংযোগসূত্র হিসেবে কাজ করেছিলেন, যিনি পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হন। ওই আলোচনার সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু কী ছিল, কার উদ্যোগে যোগাযোগ শুরু হয়েছিল এবং কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল, সেসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
ভারতে প্রশান্ত ভূষণের বক্তব্যের পর ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের ধারণা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা রাজনৈতিক বিক্ষোভ, গণ-আন্দোলন এবং ক্ষমতার পরিবর্তনে বিভিন্ন পক্ষের ভূমিকা নিয়ে আলোচনায় নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।
বাংলাদেশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর আন্দোলন থেকে উঠে আসা তরুণদের একটি অংশ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গঠন করে। দলটি ভারতে সাম্প্রতিক ছাত্রবিক্ষোভের প্রতিও সংহতি জানিয়েছে। ঢাকার আন্দোলনের সঙ্গে দিল্লির বিক্ষোভের তুলনা করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বক্তব্যও এ প্রসঙ্গে আলোচনায় এসেছে।
বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা দেখায়, কোনো সরকারের পতন বা রাজনৈতিক পরিবর্তনকে শুধু রাজপথের বিক্ষোভ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। জনসমক্ষে দৃশ্যমান আন্দোলনের পাশাপাশি পর্দার আড়ালে চলা যোগাযোগ, সম্পর্ক ও সিদ্ধান্তও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
শফিকুল আলমের বক্তব্য সেই ইতিহাসের একটি সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ অংশ সামনে এনেছে। তবে আপাতত তাঁর পোস্ট থেকে ছাত্রনেতা ও ইউনূসের মধ্যে সরকার পতনের আগে যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়ে একটি বিবরণ পাওয়া যাচ্ছে। ওই যোগাযোগের প্রকৃতি, পরিধি এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে এর ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে এলে ঘটনাটির পূর্ণ চিত্র বোঝা সম্ভব হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au