চট্টগ্রামে ১৫ বছরের কিশোরী কৃষ্ণা দে নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার
চট্টগ্রাম নগরের বন্দর থানা এলাকার ২ মাইল হেড এলাকায় নিজ বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়েছে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী কৃষ্ণা দে। গত ১৯…
একটু কথা বলে ফিরে আসবেন বলে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাওসিফ সৌরি। যাওয়ার আগে মাকে জানিয়েছিলেন, কিছুক্ষণ পরই ফিরবেন। কিন্তু আর ফেরা হয়নি তাঁর। নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর রাজধানীর তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তাঁর মরদেহ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এক জুনিয়র সহকর্মীর ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ।
তাহসিফের বাবা জানান, নিখোঁজ হওয়ার দিন প্রায় পুরোটা সময় মায়ের সঙ্গে ছিলেন ছেলে। মা-বাবার জন্য কেনাকাটাও করেছিলেন। সন্ধ্যার পর দ্বীপ নামে তাঁর এক জুনিয়র বাসার নিচ থেকে ডাকলে মাকে বলে বাইরে যান তিনি। যাওয়ার সময় কিছুক্ষণ কথা বলে ফিরে আসার কথা জানিয়েছিলেন।
এরপর পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। তাহসিফের মা বারবার ফোন করেও ছেলের সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। পরিবারের সদস্যদের উৎকণ্ঠার মধ্যে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মায়ের ফোনে একটি বার্তা আসে। সেখানে লেখা ছিল, ‘আম্মু, আমি আসছি।’ সেটিই ছিল পরিবারের কাছে তাঁর শেষ বার্তা।
পরদিন বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নৌ-পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় তাঁর পরনে ছিল কালো শার্ট ও সাদা পায়জামা। হাতে ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন।
ঢাকা অঞ্চলের নদী পুলিশের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, তাহসিফের শরীরে বাইরে থেকে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কি না, সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তাহসিফের নাম আলোচনায় আসে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময় ধারণ করা একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবিতে তাঁকে ওই ভিডিওর ধারণকারী বলা হচ্ছে। তবে ভিডিওটির ধারণকারী হিসেবে তাঁর পরিচয় পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে তাহসিফসহ বিমানবাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তার চাকরির অবসান ঘটে। তবে তাঁর চাকরি ছাড়ার সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি ও মৃত্যুর সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
তাহসিফের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যু হত্যাকাণ্ড কি না, কিংবা এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ওপরই নির্ভর করছে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au