ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পার্থের পাহাড়ি এলাকায় দাবানলের জরুরি পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ছবি: নিউজওয়্যার
ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পার্থের পাহাড়ি এলাকায় দাবানলের জরুরি পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে পার্থ বিমানবন্দরের কার্যক্রমে। বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে বিমানবন্দরে যাত্রীদের দীর্ঘ বিলম্বের মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে চেক-ইন ও ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনায় দেখা দিয়েছে বিঘ্ন।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এক মুখপাত্র যাত্রীদের সম্ভাব্য বিলম্বের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তবে অবতরণকারী ফ্লাইটগুলো এখনো বিমানবন্দরে নামতে পারছে। বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চেক-ইন কার্যক্রমে দেরি হচ্ছে।
বিমানবন্দরের ওই মুখপাত্র বলেন, “যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যাত্রীদের বিলম্বের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। পরিস্থিতি সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।”
এদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন পাওয়ারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দাবানলের কারণে বিমানবন্দরে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী বিদ্যুৎ লাইনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ পুনরায় চালু করতে তারা জরুরি সেবা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন।
ওয়েস্টার্ন পাওয়ারের বিদ্যুৎ বিভ্রাটসংক্রান্ত ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার হতে পারে। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে এই সময়সূচি পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পার্থ হিলস এলাকার কালামুন্ডা অঞ্চলেও দাবানল ঘিরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আগুনের ঝুঁকি-সংক্রান্ত সতর্কতার মাত্রা কমিয়ে ‘ওয়াচ অ্যান্ড অ্যাক্ট’ পর্যায়ে আনা হলেও বাসিন্দাদের বাড়িতে ফিরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আগুনের সূত্রপাতকে সন্দেহজনক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দাবানল মোকাবিলা ও আগুনের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে জরুরি সেবাকর্মীরা কাজ করছেন। ছবি: নিউজওয়্যার
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সন্ধ্যার দিকে আগুনের শিখা দেখা যেতে পারে। পরিস্থিতি যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে বলে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়, “এলাকায় আগুন জ্বলছে এবং পরিস্থিতি পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে মানুষের জীবন ও বাড়িঘরের জন্য সম্ভাব্য হুমকি রয়েছে।”
এতে আরও বলা হয়, যারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এলাকা ছেড়ে গেছেন, তাদের এখনই বাড়িতে ফিরে যাওয়া উচিত নয়। আগুনের কারণে গাছপালা উপড়ে পড়া, বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ভেঙে পড়া এবং অন্যান্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
দাবানল মোকাবিলা ও আগুনের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে জরুরি সেবাকর্মীরা কাজ করছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্ধারিত সীমারেখাগুলোকে একত্র করতে কিছু এলাকায় পরিকল্পিতভাবে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার কাজও চলছে। এ কারণে ওই অঞ্চলের কয়েকটি সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে।
দাবানল নিয়ন্ত্রণে জরুরি তৎপরতা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের কাজ চলতে থাকায় পার্থ বিমানবন্দরের যাত্রীদের ভোগান্তি কতক্ষণ স্থায়ী হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে নিজ নিজ ফ্লাইটের অবস্থা ও সম্ভাব্য বিলম্ব সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্রঃ নিউজ২৪