তাহসিফের ‘জুনিয়র বন্ধু’ দীপকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করল পিবিআই
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর সঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার আগে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় কাটানো ‘জুনিয়র বন্ধু’ দীপকে নৌ পুলিশের…
বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানী, মানবাধিকারকর্মী ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের পক্ষে আজীবন সোচ্চার ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিকের স্মরণসভায় বিএনপির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জন করলেও প্রকৃত অর্থে এখনো স্বাধীন হতে পারেনি। দেশের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছর পর বাংলাদেশ বাঙালির থাকবে, নাকি স্বাধীনতাবিরোধীদের পাকিস্তানে পরিণত হবে, তা নিয়ে তাঁর সংশয় রয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে আয়োজিত এ স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।
স্মরণসভায় ফজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধকালীন এবং ১৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ড. নিম চন্দ্র ভৌমিকের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান বাংলাদেশে মানুষের সংখ্যা অনেক হলেও প্রকৃত মানবিক মানুষের সংখ্যা খুবই কম। সমাজের অবক্ষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমাদের সমাজের পা-গুলো ওপরে উঠে গেছে আর মাথাগুলো নিচে পড়ে গেছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত ও বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করে তিনি বলেন, একসময় এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জ্ঞানী-গুণীর জন্ম হতো। এখন তা বৃহৎ মাদ্রাসায় পরিণত হয়েছে। আগামী পাঁচ বছর বেঁচে থেকে তিনি দেখতে চান, বাংলাদেশ বাঙালির থাকবে, নাকি স্বাধীনতাবিরোধীদের পাকিস্তানে পরিণত হবে।
সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশে সংখ্যালঘুদের একজনকেও খুঁজে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। বাংলা ভাষা, বাঙালি সংস্কৃতি ও আদিবাসী সংস্কৃতি রক্ষা করা না গেলে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের অর্জন ধরে রাখা সম্ভব হবে না।
তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে দেশত্যাগ না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সব বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম ওয়াহিদুজ্জামান। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রামের চেতনা ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দেশ আজ গভীর সংকটে পড়েছে। শিশু, নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকার বিপর্যস্ত। শুধু নামের কারণে সংখ্যালঘুদের চাকরিচ্যুতির ঘটনা ঘটছে।
ড. নিম চন্দ্র ভৌমিককে প্রকৃত দেশপ্রেমিক ও মানবতাবাদী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর জীবন ও আদর্শ থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী সব ধর্মের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশ যতটা এগিয়ে গিয়েছিল, দেশ আজ সেখান থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। বিষয়টিকে দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সাংবাদিক আবু সাঈদ খান দেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে বর্তমান সরকার ও সরকারি দলকে মৌলবাদ তোষণের নীতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। অন্যথায় পুরো দেশ ও জাতি গভীর সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
‘জয় বাংলা’ স্লোগান প্রসঙ্গে আবু সাঈদ খান বলেন, এটি মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান। মেজর জিয়াসহ সব মুক্তিযোদ্ধাই এই স্লোগান দিয়েছেন। তাই স্লোগানটিকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক ট্যাগে আবদ্ধ না করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার ড. নিম চন্দ্র ভৌমিকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তিনি আজীবন বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করেছেন।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, দেশের বড় অস্থিরতা ও সংকটময় সময়ে ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক তাঁদের ছেড়ে চলে গেছেন।
স্মরণসভার শুরুতে অ্যাডভোকেট দীপংকর ঘোষ প্রয়াত ড. নিম চন্দ্র ভৌমিকের জীবনপঞ্জি পাঠ করেন। পরে তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয় এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করে শ্রদ্ধা জানানো হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ।
স্মরণসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সন্তোষ শর্মা, আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) সভাপতি সত্যরঞ্জন বাড়ৈ, বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের সভাপতি প্রকৌশলী দিব্যেন্দু চৌধুরী বড়ুয়া, বাংলাদেশ হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন মজুমদার, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল দেবনাথসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au