তাহসিফের ‘জুনিয়র বন্ধু’ দীপকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করল পিবিআই
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর সঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার আগে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় কাটানো ‘জুনিয়র বন্ধু’ দীপকে নৌ পুলিশের…
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারের শেষ সময়ে এসে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে শুরু হয়েছে খাবারের রেস্তোরাঁ নিয়ে পাল্টাপাল্টি কথার লড়াই। হোয়াইট হাউসের সোনালি সাজসজ্জা নিয়ে ওবামার একটি কটাক্ষের জবাবে মার্কিন রেস্তোরাঁ চেইন ‘চিজকেক ফ্যাক্টরি’ নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য দিয়েছেন ট্রাম্প। দুই নেতার এই বাক্যুদ্ধের কেন্দ্রে রয়েছে জনপ্রিয় রেস্তোরাঁটি, যা নিয়ে রাজনৈতিক প্রচারের শেষ মুহূর্তে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
আগামী মঙ্গলবারের নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণ করবেন ভোটাররা। এর আগে দুই দলের নেতারাই সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক উদ্বেগের বিষয়টি সামনে রেখে প্রতিপক্ষকে সাধারণ ভোটারদের জীবনযাপন ও সমস্যার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় এবারের নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।
গত ২৪ অক্টোবর ওহাইওতে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস সংস্কারকাজ নিয়ে কটাক্ষ করেন ওবামা। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউসের এমন সাজসজ্জা করেছেন, দেখে মনে হয়, ‘সাদ্দাম হোসেন সেখানে একটি চিজকেক ফ্যাক্টরি খুলেছেন।’
ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস সংস্কারে সোনালি রঙের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে ওবামার এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়। এর জবাবে চলতি সপ্তাহে নিজের সংস্কারকাজ এবং চিজকেক ফ্যাক্টরি রেস্তোরাঁ চেইন, দুটোই দীর্ঘ বক্তব্যের মাধ্যমে defend করেন ট্রাম্প।
জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের মরো শহরে বুধবার ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে প্রচারে অংশ নিয়ে ওবামা বলেন, ট্রাম্প ও তাঁর অনুসারীরা মূল্যস্ফীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা না বলে তাঁর চিজকেক ফ্যাক্টরি-সংক্রান্ত মন্তব্য নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তাঁদের উদ্দেশ্য, যাতে সাধারণ মানুষ বুঝতে না পারেন যে তাঁদের বিল বেড়েছে এবং জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
ওবামা বলেন, ‘ওই কৌতুকের জবাব দিতে তারা পুরো সরকারি ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়েছে। মূল্যস্ফীতির জন্য নয়, ওই কৌতুকের জন্য। বাস্তব সমস্যার কোনো সমাধান তাদের হাতে নেই। তাই তারা চায়, সংবাদমাধ্যম ও আপনারা যেন চিজকেক ফ্যাক্টরি নিয়েই আলোচনা করেন।’
চিজকেক ফ্যাক্টরি রেস্তোরাঁয় যাঁরা খেতে যান, তাঁদের নিয়ে উপহাস করেছেন বলে রক্ষণশীল সমালোচকদের অভিযোগের জবাবও দেন ওবামা। তিনি বলেন, ‘আমি দুই মেয়ের বাবা। আপনারা কি মনে করেন, তাদের শৈশব পার করতে গিয়ে আমি কখনো চিজকেক ফ্যাক্টরিতে না গিয়ে থাকতে পেরেছি?’
ব্যক্তিগত কটাক্ষের জবাব দিতে বরাবরই সরব ট্রাম্প। এবারও ওবামার মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন তিনি। টেক্সাস ও মিসিসিপিতে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে চিজকেক ফ্যাক্টরি নিয়ে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
টেক্সাসের করপাস ক্রিস্টিতে এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘ওবামা যে লেটুস খান, তার প্রতিটি পাতাই নিখুঁত হতে হয়। আমি এতটা বাছবিচার করি না।’ এ সময় দুই হাত দিয়ে লেটুস পাতার আকৃতি দেখানোর ভঙ্গি করেন তিনি।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ছবিঃ রয়টার্স
চিজকেক ফ্যাক্টরিকে কেন্দ্র করে ওবামার মন্তব্যকে অভিজাত মানসিকতার প্রকাশ বলে অভিযোগ করেন ট্রাম্প। রেস্তোরাঁটি দীর্ঘ মেনু এবং বিচিত্র অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার জন্য পরিচিত। এর সাজসজ্জায় মিসরীয় স্থাপত্যের আদলে তৈরি স্তম্ভ ও পামগাছের মতো উপাদানও দেখা যায়।
সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ওবামাকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি যখন এটিকে চিজকেক ফ্যাক্টরি বলছেন, তখনই বোঝা যায় আপনি কেন একজন বাজে প্রেসিডেন্ট ছিলেন।’ একই সঙ্গে হোয়াইট হাউসের সংস্কারকাজ নিয়ে সমালোচনাও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।
বিতর্কে যোগ দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে চিজকেক ফ্যাক্টরিতে গিয়ে একটি ফ্রেঞ্চ ডিপ চিজবার্গার খান তিনি। এ সময় তিনি অভিজাত জীবনযাপনে অভ্যস্ত ‘মার্থাস ভিনইয়ার্ডের গোষ্ঠী’কে রেস্তোরাঁটি একবার ঘুরে দেখার পরামর্শ দেন। ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের অভিজাত দ্বীপ মার্থাস ভিনইয়ার্ডে ওবামার একটি বাড়ি রয়েছে।
চিজকেক ফ্যাক্টরি নিয়ে এই বাক্যুদ্ধ ট্রাম্প ও ওবামার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বৈরিতার সর্বশেষ ঘটনা। ২০১১ সালে ট্রাম্প রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিতি পাওয়ার সময় মিথ্যা অভিযোগ করেছিলেন, ওবামার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে হয়নি। পরে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের এক নৈশভোজে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্পকে নিয়ে কৌতুক করেছিলেন ওবামা। সেই সময় থেকেই দুই নেতার মধ্যে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বিরোধ প্রকাশ্যে আসতে থাকে।
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারেও ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পকে সাধারণ আমেরিকানদের দৈনন্দিন সমস্যা থেকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে তুলে ধরছেন। অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বারবার খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছেন ট্রাম্প।
নির্বাচনের আগে নিজের প্রতিপক্ষকে সমালোচনার আরও সুযোগ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। টেক্সাসে এক বক্তব্যে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে সাধারণ আমেরিকানদের ৫ হাজার ডলারের চেক দেওয়ার যে প্রস্তাব তিনি দিয়েছেন, সেই অর্থ কীভাবে ব্যয় করা যেতে পারে, তা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : রয়টার্স
ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা মার-আ-লাগোতেও আসতে পারেন। সমস্যা হলো, ৫ হাজার ডলারে সেখানে আপনারা বড়জোর একটি হ্যামবার্গার এবং হয়তো ছোট একটি ডেজার্ট কিনতে পারবেন।’
ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ক্লাব মার-আ-লাগোর খাবারের ব্যয় নিয়ে তাঁর এই মন্তব্যও নির্বাচনী প্রচারে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধারণ মানুষের মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের সময়ে ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি এবং নিজের অভিজাত ক্লাবের খাবারের দামের তুলনা রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এসে দুই নেতার এই রেস্তোরাঁকেন্দ্রিক বাক্যুদ্ধ মূল নির্বাচনী ইস্যু থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিচ্ছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে দুই পক্ষই এই বিতর্ককে কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক অবস্থান ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাইছে।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au