বিশ্ব

জার্মানিতে জেন-জি বিক্ষোভে সহিংসতা, দোকানপাটে লুটপাট ও পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপ

  • 12:12 pm - November 01, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৭৫ বার
ব্যাটমানের কস্টিউম পরে বিক্ষোভে অংশ নেয় কোনও কোনও তরুণ ।ছবি: রয়টার্স

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ কমানো, সামাজিক সেবার সংকোচন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার প্রতিবাদে জার্মানির বড় শহরগুলোতে বিক্ষোভ করেছেন হাজার হাজার তরুণ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) ‘জেন-জি রেগেল্ট’ সংগঠনের ডাকে বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখসহ দেশটির প্রায় ৩৪টি শহরে এ কর্মসূচি পালিত হয়। তবে ফ্রাঙ্কফুর্টে বিক্ষোভের একপর্যায়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।

জার্মানির আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ফ্রাঙ্কফুর্টে বিক্ষোভ চলাকালে মুখ ঢাকা কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন দোকানে হামলা চালান। শহরের কেন্দ্রস্থলে কয়েকটি দোকানের জানালা ভাঙচুর করা হয়। ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের লক্ষ্য করে মলোটভ ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সাধারণ মানুষকে শহরের কেন্দ্রস্থল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে হামবুর্গ শহরের কয়েকটি এলাকায়ও সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে আগুন জ্বালানোর ঘটনা ঘটেছে। সম্ভাব্য সহিংসতা ও ভাঙচুরের আশঙ্কায় রাজধানী বার্লিনের অভিজাত কুরফুর্স্টেনডাম শপিং বুলেভার্ডসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আগেভাগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়। অনেক দোকানের কাচের জানালা ঢেকে রাখা হয় এবং কিছু প্রতিষ্ঠান আগেভাগে বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করে।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সম্প্রতি তরুণদের নেতৃত্বে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, জার্মানির এই বিক্ষোভকে তারই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আয়োজক সংগঠনের মুখপাত্র লিনা ফ্রিডরিখ বলেন, তাঁরা যুদ্ধ বা বলপ্রয়োগের পক্ষে নন, বরং শান্তি ও স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করছেন। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে আরও সহায়তা নিশ্চিত করা এবং বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার বিরোধিতা তাঁদের প্রধান দাবি।

আয়োজকেরা বিক্ষোভে ১৮ হাজারের বেশি মানুষের অংশগ্রহণের আশা করেছিলেন। তবে পুলিশের হিসাবে, ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ ও বার্লিনে সব মিলিয়ে প্রায় ১৮ হাজার মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

জার্মানির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলো এই আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে। এর আগে ফ্রান্সের বিভিন্ন বিক্ষোভে সহিংসতা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা উল্লেখ করে হেস রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পিসেখ বলেন, ফ্রান্সের মতো ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি জার্মানিতে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

বিক্ষোভকারীরা বর্তমান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সরকারের বিরুদ্ধে তরুণদের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবার উন্নয়নে সরকারকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে হবে।

বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, তাঁদের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

সুত্রঃ রয়টার্স।

এই শাখার আরও খবর

মক্কা চুক্তিতে যোগ দিচ্ছে ইরান?

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের যৌথ মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইরানের যোগ দেওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু…

এআইচালিত সাইবার হামলায় অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সেবা অচল হওয়ার আশঙ্কা

ওটিএন বাংলা: সংস্থাটির ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বার্ষিক সাইবার হুমকি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি সাইবার নিরাপত্তার পরিবেশ বদলে দিচ্ছে। রাষ্ট্রসমর্থিত হ্যাকার ও…

ফ্রান্স ও জার্মানিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, প্যারিসে পেট্রলবোমায় পুলিশ সদস্য দগ্ধ

ওটিএন বাংলা: জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বৈষম্য এবং শিক্ষা ও জনসেবার অবনতির প্রতিবাদে ফ্রান্স ও জার্মানিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার কয়েকটি শহরে পুলিশের সঙ্গে…

ধানক্ষেতের পাশের গর্তে নারী-পুরুষের অর্ধগলিত লাশ

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় ধানক্ষেতের পাশের একটি শ্যালো মেশিন ঘরের গর্ত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী ও এক পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে উপজেলার…

আতঙ্কে রাতে আত্মীয়দের বাড়িতে থাকছেন মানিক পশারীর মেয়ে ও বোন

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে। সরাসরি কারও কাছ থেকে হুমকি না পেলেও…

আবারও কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন ঘেরাও

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আবারও কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন ঘেরাওয়ের চেষ্টা করেছে একটি সংগঠন। শনিবার ‘বঙ্গসেনা’ নামের সংগঠনটির উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল থেকে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au