নিহত তৌফিক শেখ। ছবিঃ কালবেলা
গাজীপুরে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে হামলায় গুরুতর আহত তৌফিক শেখ (২১) মারা গেছেন। সোমবার আন্দোলন চলাকালে হামলার দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করার চেষ্টা করলে তাঁর ওপর ছাত্রদলসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালয় বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনেরা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকার সিং জিং জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত তৌফিক শেখ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের তবি খাঁর ছেলে। তিনি প্রায় পাঁচ বছর ধরে গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় বসবাস করছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে জীবিকার সন্ধানে সেখানে যান তিনি। পরে এক বন্ধুর মাধ্যমে স্থানীয় লায়লা গার্মেন্টসে চাকরি নেন।
তৌফিকের চাচা বাচ্চু মিয়া জানান, বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে তৌফিক গাজীপুরে গিয়ে পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে হামলায় আহত হওয়ার পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
তৌফিকের স্কুলশিক্ষক প্রদীপ কুমার জানান, বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের অভাব দূর করতে ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছিল তৌফিক। তাঁর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার খবর তাঁরা পেয়েছিলেন। মঙ্গলবার সকালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যুর খবর আসে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার শ্রমিকদের আন্দোলন চলাকালে হামলার ঘটনা মোবাইল ফোনে ধারণ করার চেষ্টা করছিলেন তৌফিক। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে আন্দোলনরত শ্রমিকেরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। সেখানেই মঙ্গলবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার সঙ্গে বিএনপিসহ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে তৌফিকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন নিহতের পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন। তিনি পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং দাফন সম্পন্ন করার জন্য আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন।