বাংলাদেশ

দুই দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সহিংসতার ধারাবাহিকতা

  • 2:12 pm - November 06, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৪১ বার
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর দেশজুড়ে আনন্দ-উল্লাসের পাশাপাশি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তন হয়েছে, রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে, এমনকি গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের একটি সরকারের পতনও হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক সহিংসতার চিত্রে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের সংঘর্ষ, একই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতায় গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রাণহানি ও হতাহতের ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় পদ, ব্যবসা, জমি, ঠিকাদারি কাজ কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানের অতিথি তালিকা নিয়েও সংঘর্ষে জড়াচ্ছেন রাজনৈতিক কর্মীরা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। লেখক সাকলায়েন রিজভের প্রতিবেদনে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য, গবেষণা ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, ২০০২ সাল থেকে বিভিন্ন সরকারের আমলে রাজনৈতিক সহিংসতার ধরন ও মাত্রায় পরিবর্তন এলেও এ প্রবণতা বন্ধ হয়নি।

প্রতিবেদনে সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। গত ১৮ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলার পৈস্কা এলাকায় রিপন মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হামলাকারীরা তাঁকে ধাওয়া করে আক্রমণ করলে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। রিপন মিয়া ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির যুবসংগঠন যুবদলের স্থানীয় নেতা ছিলেন। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের ভাষ্য, একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অতিথি তালিকায় কার নাম থাকবে, তা নিয়ে দুটি পক্ষের বিরোধ সম্প্রতি তীব্র হয়ে উঠেছিল।

রিপনের মেয়ে শীলা গণমাধ্যমকে বলেন, কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর বাবাকে ধাওয়া করে কুপিয়ে হত্যা করেছেন। স্থানীয় বিএনপির সভাপতি এ হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের বিরোধের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর (জামায়াত) সমর্থকদের সংঘর্ষে দুই ভাই নিহত হন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রমজান মাসে ইফতারের পর একটি তর্কাতর্কি থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। কয়েক ঘণ্টা পর হাফিজুর রহমান মারা যান। তাঁর ভাই ও স্থানীয় জামায়াত নেতা মফিজুর রহমান ১০ মার্চ ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এই সংঘর্ষের জন্য বিএনপি ও জামায়াত একে অপরকে দায়ী করে। পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা করার পর পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের মধ্যে বিএনপির একজন স্থানীয় নেতা এবং দলটির স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের সাবেক এক নেতাও ছিলেন। বিএনপি সরকার গঠনের দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

দুই দশকের সহিংসতার চিত্র

আসকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার ৪৬৭টি ঘটনায় ৯৪ জন নিহত এবং ৩ হাজার ৫৮৭ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনার মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ ছিল ১১২টি। এতে ১৮ জন নিহত এবং ১ হাজার ২১৫ জন আহত হন।

এই পরিসংখ্যানে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের পাশাপাশি নির্বাচিত সরকারের সময়ের ঘটনাও রয়েছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। দীর্ঘ ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ শাসনের অবসানের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। এরপর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং বিএনপি ক্ষমতায় আসে। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পরও স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতা ও সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ও দলীয় অভ্যন্তরীণ সহিংসতার ব্যাপক চিত্র পাওয়া যায়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহানের ২০১৪ সালের ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলসমূহ’ শীর্ষক গবেষণায় আসকের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ওই সময়ে বিএনপির অভ্যন্তরে ২৮৪টি সংঘর্ষে ৫৫ জন নিহত হন। একই সময়ে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে নিহত হন ৩৭ জন।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের অংশীদার ছিল জামায়াতে ইসলামী। মন্ত্রিসভায় দলটির দুজন সদস্যও ছিলেন। তবে রাজনৈতিক জোটের অংশীদারত্ব থাকা সত্ত্বেও বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বন্ধ হয়নি। ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দুই দলের মধ্যে ১৩৪টি সংঘর্ষে আটজন নিহত হন। একই সময়ে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মধ্যে ৪২টি সংঘর্ষে প্রাণ হারান সাতজন।

২০০৭ ও ২০০৮ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ওই দুই বছরে বিএনপির অভ্যন্তরে আটটি সংঘর্ষে দুজন এবং আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে একটি সংঘর্ষে কেউ নিহত হননি। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষ হয় ৩২টি, যাতে সাতজন নিহত হন। তুলনামূলকভাবে ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শুধু আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংঘর্ষেই ১১৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০০৭ ও ২০০৮ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় মোট নিহতের সংখ্যা ছিল নয়।

তবে সংঘর্ষ কমে যাওয়ার অর্থ রাজনৈতিক দমন-পীড়ন বন্ধ হওয়া ছিল না। জরুরি অবস্থার মধ্যে পরিচালিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় নির্বিচারে গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত করেছিল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সে সময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও সীমিত ছিল। ফলে দলগুলোর প্রকাশ্যে সংঘর্ষে জড়ানোর পরিবেশ আগের মতো ছিল না।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর দলীয় অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ আবার বাড়তে থাকে। ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ৭৯৯টি সংঘর্ষে ৯৭ জন নিহত হন। একই সময়ে বিএনপির অভ্যন্তরে ২২৯টি সংঘর্ষে নিহত হন ২১ জন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সরকারের সময়কাল ও পরিসংখ্যানের সময়সীমা এক নয়। তাই এসব সংখ্যাকে সরাসরি তুলনা করে কোনো সরকারকে বেশি বা কম সহিংসতার জন্য দায়ী করার চেয়ে ক্ষমতাসীন দলের ভেতরেও সংঘর্ষের ধারাবাহিকতা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।

নির্বাচন ও জাতীয় রাজনৈতিক সংঘাতে প্রাণহানি

স্থানীয় পর্যায়ের বিরোধের পাশাপাশি জাতীয় রাজনৈতিক সংঘাতেও বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ২০১৩ সালে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘর্ষের মধ্যে আসক ৫০৭ জনের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করে। এর মধ্যে ১৮৫ জন নিহত হন হরতালকেন্দ্রিক সহিংসতায়। ২৬ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া অবরোধ কর্মসূচিকে ঘিরে সহিংসতায় আরও ৮৫ জনের মৃত্যু হয়।

ওই বছর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জামায়াত, দলটির ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আসকের মূল বার্ষিক নথিতে জামায়াত, ছাত্রশিবির ও পুলিশের সংঘর্ষে ৩৭ জনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে। জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষের পৃথক হিসাবে আরও ১১ জনের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ-জামায়াত-শিবির সংঘর্ষে ১৩ জন, আওয়ামী লীগ-জামায়াত সংঘর্ষে নয়জন, শিবির-পুলিশ সংঘর্ষে নয়জন এবং আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জামায়াত-পুলিশের সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন। ছোট কয়েকটি শ্রেণিতে আরও মৃত্যুর তথ্য রয়েছে।

সব মিলিয়ে ২০১৩ সালে জামায়াত বা ছাত্রশিবিরের নাম রয়েছে এমন সংঘর্ষের শ্রেণিগুলোতে ৯৬ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। তবে এসব শ্রেণিবিন্যাসে সংঘর্ষে অংশ নেওয়া পক্ষগুলোর পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে, কারা মৃত্যুর জন্য দায়ী তা নির্ধারণ করা হয়নি।

পরবর্তী বছরগুলোতে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নাম উল্লেখ করা সংঘর্ষের সংখ্যা কমে আসে। ২০১৫ সালে এ দুই সংগঠনের নাম রয়েছে এমন নয়টি ঘটনায় তিনজন নিহত হন। ২০১৬ সালে দুটি ঘটনায় একজন নিহত হন। ২০১৭ সালের তালিকায় ছাত্রশিবির ও পুলিশের একটি সংঘর্ষে তিনজন আহত হওয়ার তথ্য রয়েছে। ২০১৮ ও ২০১৯ সালের তালিকায় জামায়াত বা ছাত্রশিবিরের নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব তথ্যের অনুপস্থিতি দিয়ে ওই বছরগুলোতে সংগঠন দুটির সম্পৃক্ততা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

জাতীয় পর্যায়ে বড় রাজনৈতিক সংঘাত না থাকলেও ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধে প্রাণহানি ঘটেছে। ২০১৭ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় আসক ৫২ জনের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করে। এর মধ্যে শুধু আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষেই নিহত হন ২৯ জন। আওয়ামী লীগের ছাত্র ও যুবসংগঠনগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংঘর্ষের পৃথক হিসাব এই সংখ্যার বাইরে ছিল।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনও রাজনৈতিক সহিংসতার বড় উৎস হিসেবে উঠে এসেছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সাধারণত পাঁচ বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৬ সালে এসব নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় ১৪৭ জন নিহত হন। ওই বছর দেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় মোট ১৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর বড় অংশই ঘটেছিল স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে। ২০২১ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতায় ১১৩ জন নিহত হন। ওই বছর রাজনৈতিক সহিংসতায় মোট নিহতের সংখ্যা ছিল ১৫৭।

এসব পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, রাজনৈতিক সহিংসতা শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচন বা বড় দুই দলের সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধির পদ ও ক্ষমতা বণ্টনকে কেন্দ্র করেও বড় ধরনের সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

ক্ষমতা ও সম্পদ নিয়ন্ত্রণের বিরোধ

রাজনৈতিক সহিংসতার কারণ অনুসন্ধানে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের একটি গবেষণার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা বিশ্লেষণ করা ওই গবেষণায় ২০০৮ থেকে ২০১২ সালের সংঘর্ষের কারণ হিসেবে দলীয় আধিপত্য বিস্তারের লড়াইকে সবচেয়ে বড় শ্রেণি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ঠিকাদারি কাজ, সম্পত্তি, জমি ও চাকরি নিয়ে বিরোধও সহিংসতার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসে।

গবেষণাটির নিজস্ব তথ্যভান্ডার ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে এর পরিসংখ্যান আসকের তথ্যের সঙ্গে সরাসরি যোগ করা যায় না। তবে রাজনৈতিক সহিংসতার পেছনে ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ন্ত্রণের প্রতিযোগিতার বিষয়টি এতে স্পষ্ট হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক সংগঠনগুলো নির্বাচনে অংশ নেওয়া ও জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে স্থানীয় নেতাদের সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগও দেয়। এই যোগাযোগ ব্যবহার করে আয়, ব্যবসা কিংবা সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হলে দলীয় পদ ও প্রভাবের প্রতিযোগিতা নির্বাচনী রাজনীতির বাইরেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। আন্দোলনকারী ও রাজনৈতিক নেতারা ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ন্ত্রণের বিরোধ থেমে থাকেনি।

প্রতিবেদনে অবশ্য শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সময়কার সহিংসতা এবং পরবর্তী সময়ে দলীয় কোন্দলকে এক করে দেখার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক তদন্তে সাবেক সরকার, নিরাপত্তা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সহিংস গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য উঠে আসে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত ওই তদন্তের প্রাথমিক হিসাবে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন। প্রতিবেদনে আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সহিংসতার নীতির কথাও উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, আসকের ২০২৪ সালের সাধারণ রাজনৈতিক সহিংসতার তালিকায় ১০০ জন নিহত হওয়ার তথ্য রয়েছে। তবে এই সংখ্যা গণঅভ্যুত্থানের সময় নিহত সবার হিসাব নয়। আন্দোলন চলাকালে মৃত্যুর ঘটনা আসক আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিল। তাই সাধারণ রাজনৈতিক সহিংসতার তালিকাকে গণঅভ্যুত্থানের মোট প্রাণহানির হিসাব হিসেবে দেখলে ওই সময়ের দমন-পীড়নের প্রকৃত মাত্রা আড়াল হতে পারে।

সরকার পরিবর্তনের পরও সংঘর্ষ

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চট্টগ্রামেও স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতা ও ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের চান্দগাঁও এলাকায় কৃত্রিম টার্ফ মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে নিহত হন জুবায়ের উদ্দিন বাবু। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মাঠটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

বাংলাদেশের দৈনিক প্রথম আলো চট্টগ্রামে হত্যা, হামলা, সংঘর্ষ ও জমি দখলসংক্রান্ত ১৫টি ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধান করে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার পরিবর্তনের পর অবৈধ আয়ের বিভিন্ন উৎসের নিয়ন্ত্রণও বদলে যায়। পরিবহন, বাজার, জমি এবং রেলওয়ের ঠিকাদারি কাজকে কেন্দ্র করে বিরোধ তৈরি হয়। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কিছু নেটওয়ার্ক বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের দখলে নেওয়ার অভিযোগও উঠে আসে।

এসব ঘটনা ঘটেছিল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়, বিএনপি জাতীয় ক্ষমতায় ফেরার আগেই।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর পর বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ রাজনৈতিক প্রাণহানির অন্যতম বড় কারণ হয়ে ওঠে। ২০২৫ সালে বিএনপির বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে ১৯২টি সংঘর্ষে ৪০ জন নিহত হন। দলটির যুবসংগঠন যুবদলের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে আরও আটজনের মৃত্যু হয়। ওই বছর রাজনৈতিক সহিংসতার মোট ৪০১টি ঘটনায় ১০২ জন নিহত হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত করে আসক।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের উদ্যোগে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গঠিত হয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকেন্দ্রিক পুরোনো রাজনীতির বিকল্প গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দলটি। তবে সহিংসতার পরিসংখ্যানেও দলটির নাম উঠে আসে। ২০২৫ সালে এনসিপিকে ঘিরে নয়টি সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত এবং ১৭১ জন আহত হন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দলটিকে ঘিরে আরও ২৯টি ঘটনায় ২২০ জন আহত হন। এসব সংঘর্ষের বেশির ভাগই বিএনপির সঙ্গে হয়েছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ প্রাণঘাতী সংঘর্ষ দলটি সরকারে ফেরার আগেই শুরু হয়েছিল। স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যবসা ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছিল। ফলে অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মীদের কাছ থেকেই প্রাণহানির ঝুঁকিতে পড়েছেন নেতাকর্মীরা।

এর একটি উদাহরণ চুয়াডাঙ্গার সাবেক বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম। ২০২৫ সালের ৮ মার্চ বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনি নিহত হন। তাঁর একটি ছোট দোকান ছিল এবং তাঁর স্ত্রী নাহিদা খাতুন স্থানীয় একটি ক্লিনিকে কাজ করতেন। এ ঘটনায় তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৩৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।

নাহিদা খাতুন বলেন, তাঁর স্বামী মামলার কারণে বছরের পর বছর বাড়িতে ফিরতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের দলের লোকজনের হাতেই প্রাণ হারিয়েছেন।

বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষও বেড়েছে

বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যেও ২০২৫ ও ২০২৬ সালে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আসকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুই দলের মধ্যে ৩৩টি সংঘর্ষে তিনজন নিহত এবং ৫২০ জন আহত হন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ধরনের সংঘর্ষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩৭টিতে। এসব ঘটনায় ১০ জন নিহত এবং ১ হাজার ৫৪ জন আহত হন। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় কম সময়ের মধ্যেই সংঘর্ষ ও প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতার তালিকায় আরও ৫১ জনের মৃত্যু ‘দুষ্কৃতকারীদের হামলা ও গুলিবর্ষণ’ শিরোনামের একটি শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে আসক।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সরাসরি দলটির সরকারের ওপর বর্তেছে। দলীয় নেতারাও সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও জমি দখলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। অক্টোবরে সংসদীয় দলের এক বৈঠকে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চাঁদাবাজি এবং জমি দখল থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সতর্ক করেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সংসদ সদস্যদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে, পুলিশও বলেছে, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে না। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে মামলা ও গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রথম আলোর অনুসন্ধানে এমন কিছু ঘটনার কথা উঠে এসেছে, যেখানে আইনি পদক্ষেপের পরিবর্তে অভিযুক্তদের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার কিংবা কমিটি বিলুপ্ত করেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক সহিংসতার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এম মনিরুজ্জামান ২০০৯ সালে ‘বাংলাদেশে দলীয় রাজনীতি ও রাজনৈতিক সহিংসতা: বিষয়, প্রকাশ ও পরিণতি’ শীর্ষক এক গবেষণায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতাকে একটি চক্র হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে, সংঘর্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শত্রুতা বাড়ায় এবং সমঝোতার পথ কঠিন করে তোলে। ক্ষমতাসীন দল বিরোধীদের দমনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে, আর বিরোধী দল পাল্টা আন্দোলন ও সংঘাতের পথে এগোয়। এভাবে সহিংসতা রাজনৈতিক বিরোধের ফল হওয়ার পাশাপাশি বিরোধকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করে।

গবেষণায় আরও বলা হয়, বারবার সহিংসতার ঘটনা নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে শক্তি প্রয়োগকে দাবি আদায়ের স্বাভাবিক পদ্ধতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনের মধ্যেও এ প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও রাজপথে সংঘর্ষের সংস্কৃতি তৈরি হয়। এতে সহনশীলতা, জবাবদিহি এবং ভিন্নমতকে সম্মান করার মতো গণতান্ত্রিক চর্চা দুর্বল হয়ে পড়ে।

প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিভিন্ন সরকারের আমলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার ধরন বদলেছে। জাতীয় রাজনৈতিক সংঘাত ও নির্বাচনকেন্দ্রিক বিরোধের সময় প্রাণহানি বেড়েছে। আবার কোনো কোনো বছরে একই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যকার সংঘর্ষই মোট মৃত্যুর বড় অংশের কারণ হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এ ধরনের সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল।

বিএনপি আবার ক্ষমতায় ফেরার পর দলটির অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও স্থানীয় পর্যায়ের সংঘর্ষ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দলীয় বহিষ্কার এবং পুলিশের গ্রেপ্তারের মতো কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও রাজনৈতিক পালাবদলের মধ্য দিয়ে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়নি। ফলে রাজনৈতিক সহিংসতা মোকাবিলায় শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতা, ব্যবসা ও সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের স্থায়ী সমাধান এবং কার্যকর আইনি জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

এই শাখার আরও খবর

শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে আদালতে পরীমনি-কাণ্ড, কাকতালীয় নাকি পরিকল্পিত?

ভাস্কর দত্ত দেশে শ্রমিকদের আন্দোলন, বেতন-ভাতা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে যখন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বড় অংশের মনোযোগ কেড়ে…

ইরানের বাকি অংশও ধ্বংস করতে হতে পারে, হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে ইরানের অবশিষ্ট অংশও ধ্বংস করতে হতে পারে। এ বিষয়ে…

বেতন বাড়ানোর আশ্বাসেও থামেনি পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ; বন্ধ শত শত কারখানা

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। মাসিক ন্যূনতম মজুরি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর দাবিতে বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা…

‘জয় বাংলা’ স্লোগানে ৯ শিক্ষার্থীকে টিসি, গোপালগঞ্জে কী ঘটেছিল?

ওটিএন বাংলা রিপোর্ট :  গোপালগঞ্জ সরকারি জেলা স্কুলে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির নয় শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র (টিসি) দিয়েছে…

ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী জয়ে ধাক্কা খেল এআই খাত, নাসডাকে বড় পতন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর দেশটির প্রযুক্তি খাতের শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতন হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অবকাঠামো নির্মাণে নতুন নিয়ন্ত্রণ আরোপের আশঙ্কায়…

খাগড়াছড়িতে আগুনে পুড়ল ৯ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ক্ষতি কয়েক কোটি টাকা

খাগড়াছড়ি পৌর এলাকার কলাবাগানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কাঠের দোকান ও আসবাবপত্র তৈরির কারখানাসহ নয়টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় একটি টমটম অটোরিকশাও আগুনে পুড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au