শেখ মুজিবকে ‘জাতির পিতা’ সম্বোধন, বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সভায় দুই দফা হট্টগোল
জয়পুরহাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত আলোচনা সভায় ব্যানারে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকাকে কেন্দ্র করে হট্টগোল হয়েছে। পরে…
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলসের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন বর্তমান ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প জানান, আগামী ৯ নভেম্বর থেকে চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব নেবেন স্টিফেন মিলার। অন্যদিকে দায়িত্ব ছাড়লেও ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন সুজি ওয়াইলস।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এবং আমার অন্যতম বিশ্বস্ত উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার আগামী ৯ নভেম্বর সোমবার থেকে চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। সুজি ওয়াইলস অসাধারণ কাজ করেছেন। তিনি এখন ট্রাম্প পলিটিক্যাল অপারেশনে যোগ দিচ্ছেন। চিফ অব স্টাফ হিসেবে তার সেবার জন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই।’
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের পর সুজি ওয়াইলসকে প্রথম নিয়োগ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের প্রথম নারী চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ইতিহাস গড়েন তিনি। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দীর্ঘ সময় এই পদে দায়িত্ব পালন করেছেন ওয়াইলস। এর আগে প্রথম মেয়াদের চার বছরে চারবার চিফ অব স্টাফ পরিবর্তন করেছিলেন ট্রাম্প।
তবে সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়ের সঙ্গে এই রদবদলের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের কারণে নয়। এটা কেবলই সঠিক সময়। মাঝেমধ্যে পরিবর্তন আনতে হয়।’ নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয় প্রসঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্য, ‘এই নির্বাচন আমার ছিল না। আমি ব্যালটে ছিলাম না।’
নতুন দায়িত্ব পাওয়া ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন মিলার ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বিশ্বস্ত উপদেষ্টাদের একজন। ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় স্পিচরাইটার হিসেবে ট্রাম্পের দলে যোগ দেন তিনি। বর্তমানে ডেপুটি চিফ অব স্টাফের পাশাপাশি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন মিলার।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তার। বিশেষ করে কঠোর অভিবাসন নীতির অন্যতম প্রধান রূপকার হিসেবে পরিচিত মিলার। গত জানুয়ারিতে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে দুই বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার ঘটনার পর তার ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগে আলাবামার সাবেক রিপাবলিকান সিনেটর জেফ সেশনসের অধীনে কাজ করেছিলেন তিনি। সেশনস পরবর্তী সময়ে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা আসার পর সুজি ওয়াইলসও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিবৃতি দেন। তিনি বলেন, হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে এটি তার শেষ দিন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করতে পারাকে জীবনের অন্যতম বড় সম্মান হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
ওয়াইলস বলেন, সীমান্ত সুরক্ষিত করা, কর কমানো, অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এগিয়ে নেওয়ার মতো বিভিন্ন উদ্যোগে অংশ নিতে পেরে তিনি গর্বিত। দায়িত্ব ছাড়লেও প্রেসিডেন্ট এবং তার রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রতি নিজের অঙ্গীকার অটুট থাকবে বলেও জানান তিনি।
মিলারের নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সুজি ওয়াইলসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং মিলারকে অভিনন্দন জানান। ভ্যান্স লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ও দেশের প্রতি সুজির বন্ধুত্ব এবং সেবার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। স্টিফেন মিলার একজন অসাধারণ দেশপ্রেমিক। তিনি দারুণ কাজ করবেন। যোগ্য হিসেবে এই পদোন্নতি পাওয়ার জন্য তাকে অভিনন্দন।’
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au