জরুরি রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসকদের ছাড়িয়ে এআই
মেলবোর্ন, ২ মে- জীবন-মৃত্যুর সংকটময় মুহূর্তে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের তুলনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আরও নির্ভুল হতে পারে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।…
মেলবোর্ন, ১২ মে— যুক্তরাষ্ট্র ও চীন তাদের নিজেদের পণ্যের ওপর আরোপিত ১১৫ শতাংশ শুল্ক ৯০ দিনের জন্য প্রত্যাহারে প্রাথমিকভাবে একমত হয়েছে। সোমবার দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দীর্ঘ বাণিজ্য আলোচনার পর আজ এই ঘোষণা এলো।
এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।
যৌথ বিবৃতিতে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির এই দুই দেশ বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর সাময়িকভাবে তার শুল্ক ১৪৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩০ শতাংশে নিয়ে আনবে।
অন্যদিকে চীন মার্কিন পণ্যের ওপর তার শুল্ক ১২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করবে।
বিবিসির অর্থনৈতিক প্রতিবেদক থিও লেগেটের মতে, “এটি প্রত্যাশার চেয়েও বড় পরিমাণে শুল্ক হ্রাস। তবে ৩০ শতাংশ শুল্ক এখনও একটি উচ্চ হার হিসেবে থেকে যাচ্ছে।”
বেইজিং থেকে বিবিসির প্রতিনিধি লরা বিকার জানিয়েছেন, মার্কিন শুল্কের প্রভাব নিয়ে চীনা কর্মকর্তারা বেশ উদ্বিগ্ন ছিলেন। গত মাসেও ট্রেজারি সেক্রেটারি বেসেন্ট স্বীকার করেছিলেন, এই অবস্থা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।
এর আগে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনায় চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বড় অগ্রগতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রবিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, “সুইজারল্যান্ডে চীনের সঙ্গে ভালো বৈঠক হয়েছে। অনেক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই ঐকমত্য হয়েছে”।
যুক্তরাষ্ট্র-চীন শুল্ক চুক্তি: দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে ৯০ দিন কি যথেষ্ট?
বিবিসির বাণিজ্য প্রতিবেদ জনাথন জোসেফের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে তার বাণিজ্য যুদ্ধের মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে ওলট-পালট করে দিয়েছেন, সেই প্রেক্ষাপটে ৯০ দিন অনেক দীর্ঘ সময় মনে হতে পারে।
এরপরই প্রশ্ন উঠেছে এই ৯০দিন কী দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা সমাধানে যথাযথ কী-না।
এই সময়সীমা অন্তত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার উত্তেজনা কমাতে একটি সুযোগ তৈরি করেছে।
গত জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেয়ার পর তার শুল্কনীতি বৈশ্বিক অর্থনীতি ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল।
তবে এটাও মনে রাখা জরুরি যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম চার বছরের অধিকাংশ সময় জুড়েই দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে আলোচনা চলেছিল, যার ফলাফল ছিল খুবই সীমিত।
শেষ পর্যন্ত জানুয়ারি ২০২০-এ একটি “ফেজ ওয়ান ট্রেড চুক্তি” স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০১৭ সালের তুলনায় অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানির অঙ্গীকার করেছিল এবং মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ আইন আরও কঠোর করার ইঙ্গিত দেয়।
বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র কিছু শুল্ক হ্রাস করে। কিন্তু চীন তার আমদানির লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষা নিয়েও এখনো অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, পরবর্তী বছরগুলোতে উভয় দেশই একে অপরের সঙ্গে বাণিজ্যে আরও বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল।
এই বিভেদ দূর করতে বারবার ব্যর্থতা ইঙ্গিত দেয় যে, এটি কেবল বাণিজ্য নয়, বরং বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও মৌলিক মতপার্থক্যের ইঙ্গিত।
চীনের অর্থনীতি সরকার-নিয়ন্ত্রিত নীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। যা যুক্তরাষ্ট্রের মুক্তবাজার পুঁজিবাদের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ নয় বিশেষ করে যেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করেছেন, সেগুলোর প্রতিকার করতে তিনি তার বাণিজ্য যুদ্ধ ব্যবহার করছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au