মেলবোর্ন, ১৯ জুন— অভিমান করে বয়কট থেকে ফেরার পর জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে হট্টগোল হয়েছে। কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের অভিযোগ, এই দলটিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এমন অভিযোগ এনে কমিশনের সংলাপ থেকে ওয়াক আউট করে কয়েকটি দল। তবে কমিশনের সদস্যদের হস্তক্ষেপে ফের সংলাপে ফেরে দলগুলো।
বুধবার বিকাল ৪টায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে এ ঘটনা ঘটে।
এদিন বেলা সাড়ে ১১টায় শুরুর পর রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত।
দুপুরের খাবারের বিরতির পর বেলা ৩টাফ ফের সংলাপ শুরু হয়। বিকাল পৌনে ৪টার দিকে দোয়েল মাল্টিপারপাস হলের ভেতরে তাদের ‘কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না বলে’ দাঁড়িয়ে অভিযোগ করেন কয়েকজন নেতা।
ওই সময়ে ভেতরে অন্যান্য দলের রাজনৈতিক নেতারা বসে ছিলেন।
কী অভিযোগ নেতাদের?
বিকাল পৌনে ৪টার দিকে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান হইচই করে সংলাপ ‘বয়কট করে’ বের হয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “এখানে কীসের সংলাপ হচ্ছে, কার সাথে সংলাপ করব? তারা যা ইচ্ছা তাই করছে।”
অন্তর্বর্তী সরকার যতদিন নিরপেক্ষ থাকবে না ততদিনের জন্য বয়কট করার কথাও বলেন তিনি।
পরপরই বেরিয়ে আসেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলা ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক শাহাদাত হোসেন সেলিম।
জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ঐকমত্য কমিশনের সভায় এই উত্তেজনা হয় বলে বয়কটকারী নেতারা জানান।
রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “বৈঠকে বৈষম্য হয়েছে। জামায়াতের তিন জন বলেছে, আমাদের একজন বললেও বাধাগ্রস্ত করেছে। তারা (জামায়াত) অনেক কথা বললেও বাধাগ্রস্ত করা হয়নি। তখন আমাদের কয়েকজন নেতা প্রটেস্ট করেছে।”
“তারা এক দল থেকেই তিনজন কথা বলবে এ কেমন কথা রে ভাই?”, প্রশ্ন তোলেন সিপিবি নেতা।
শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, “আমরা যখন কথা বলেছি তখন আমাদের থামিয়ে দেওয়া হয়।”
তার দাবি, জামায়াতে ইসলামী অপ্রাসঙ্গিক কথা বলছিল।
“তখন আমি বললাম—‘এটা প্রাসঙ্গিক নয়।’ তখন তিনি (জামায়াতের প্রতিনিধি) বললেন যে, ‘আপনারা কতজনকে প্রতিনিধিত্ব করেন আমরা কতজনের প্রতিনিধিত্ব করি?’।’’
নিরপেক্ষতার বিতর্কে আমরা সাত থেকে আটটি দল ওয়াক আউটের জন্য দাঁড়িয়ে যান জানিয়ে সেলিম বলেন, “পরে দুটি দল বয়কট করে বের হয়ে যায়। আর আমি ব্যক্তিগত কাজের জন্য সংলাপ থেকে বের হয়ে এসেছি।”
শাহাদাত হোসেন সেলিম সংলাপ থেকে বের হয়ে যাওর পর পর সাড়ে ৪টার দিকে বের হয়ে যান গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাননি।
ফের বৈঠকে
সিপিবি ও গণফোরামের দুই নেতা সংলাপস্থলের বাইরে বের হয়ে আসার পর কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার এবং উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যান।
কথা বলার পর অভিমান ভাঙে সিপিবির প্রিন্সের। তিনি সাংবাদিকদেরকে তিনি বলেন, ‘‘আমরা বয়কট করতে চেয়েছি। কিন্তু যেহেতু তারা (কমিশন) নোট করেছেন। তাই আবার সংলাপে ফিরে যাচ্ছি।’’
গণফোরাম নেতা মিজানুর রহমানকে ভেতরে নিয়ে যান এলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম।
জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান আলী রীয়াজ এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন। বৈঠক রয়েছেন কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, বদিউল আলম মজুমদার, আইয়ুর মিয়া, ইফতেখারুজ্জামান, সফর রাজ হোসেন ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
অভিমানী জামায়াতকে স্বাগত
লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক বয়কট করে জামায়াতে ইসলামী।
দলটির অভিযোগ, বিএনপির সঙ্গে কথা বলে নির্বাচন এপ্রিল থেকে ফেব্রুয়ারিতে নিয়ে আসার কথা বলে প্রধান উপদেষ্টা নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন।
তবে তাদের বয়কটের পর সরকারের পক্ষ থেকে জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ব্রিফিং করে বলেন, তাদের নিরপেক্ষতায় কোনো ঘাটতি নেই।
দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় জামায়াতের পক্ষ থেকে নায়েবে আমির সৈয়দ তাহের ছাড়াও আসেন দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আযাদ।
তাদের স্বাগত জানিয়ে অন্য দলের নেতাদের কেউ কেউ করমর্দন করেন, কেউবা বুকে জড়িয়ে কোলাকুলি করেন।
মিলনায়তনের দরজার সামনেই জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার জামায়াতের প্রতিনিধি দলের নেতা তাহেরকে শুভেচ্ছা জানান। তারা হাসিমুখে করমর্দন করেন।