বুধবার অতিরিক্ত ডিআইজি শরিফ উদ্দিন সরেজমিনে তদন্তে যান
লালমনিরহাটে ধর্মীয় কটুক্তির অভিযোগ তুলে নরসুন্দর বাবা-ছেলেকে গণপিটুনির ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ওই পরিবার। বুধবার (২৫ জুন) ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়েছেন রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি শরিফ উদ্দিন।
এর আগে গত রোববার লালমনিরহাট শহরের গোশালা বাজারের হানিফ পাগলার মোড়ে নিজেদের সেলুনের সামনে তৌহিদি জনতার হাতে মারধরের শিকার হন পরেশ চন্দ্র শীল ও তার ছেলে বিষ্ণু চন্দ্র শীল। পরে তাদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে মামলা দায়ের করে পুলিশ গ্রেপ্তার দেখায় এবং আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২১ জুন) মো. নাজমুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি চুল কাটাতে যান পরেশ চন্দ্র শীলের সেলুনে। চুল কাটানো শেষে অর্থ পরিশোধ নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। এর তিন দিন পর রবিবার স্থানীয় লোকজন সেলুনে গিয়ে পরেশ শীল ও তার ছেলেকে হেনস্তা করে এবং পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়।
ঘটনার পর স্থানীয় আল-হেরা জামে মসজিদের ইমাম মো. আব্দুল আজিজ বাদী হয়ে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বলা হয়, পরেশ চন্দ্র শীল নবী ও দাঁড়ি নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন এবং এর আগেও এ ধরনের মন্তব্য করেছেন। তবে মামলার সাক্ষী ও মসজিদের খতিব মো. জোবায়ের হোসেইন স্বীকার করেছেন, তিনি ও মামলার বাদী কেউই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নন, কেবল অভিযোগকারীদের মুখে শুনে মামলা করেছেন।
পরেশ শীলের পুত্রবধূ দীপ্তি রানী শীল দাবি করেন, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার ভাষায়, “চুল কাটানোর টাকা কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয়, পরে ছেলেটি দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়। রোববার কয়েকজন এসে আমাদের দোকান ভাঙচুর করে, শ্বশুরকে মারধর করে এবং স্বামী বাধা দিলে তাকেও পেটায়। পরে দুজনকেই পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এ প্রেক্ষাপটে বুধবার অতিরিক্ত ডিআইজি শরিফ উদ্দিন সরেজমিনে তদন্তে যান এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা নরসুন্দর পরিবারের সদস্যদের প্রতি কেউ অভিযোগ করেনি, ফলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রস্তুত। আসন্ন রথ যাত্রাকে ঘিরে অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি এবং নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশ্ন তোলায় কিছু স্থানীয় ব্যক্তি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পুলিশের সহায়তায় সাংবাদিকরা নিরাপদে স্থান ত্যাগ করতে সক্ষম হন।
পরিবারের পক্ষ থেকে দীপ্তি রানী বলেন, “আমি অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে খুব আতঙ্কে আছি। ঘর থেকে বের হতে পারছি না, বাজার করতে পারছি না। স্বামী-শ্বশুর নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও কারাগারে। আমাদের যেন অন্তত নিরাপদে বাঁচতে দেওয়া হয়।”
পুলিশ বলছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনমনে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।