উগ্রপন্থীদের হুমকিতে থমকে গেল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শ্রীরাম মূর্তির নির্মাণ
মেলবোর্ন, ১৭ জুন- বাংলাদেশে নির্মাণাধীন দেশের সবচেয়ে বড় শ্রীরাম মূর্তিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ৮১ ফুট উচ্চতার এই মূর্তির নির্মাণকাজ প্রায় ৮০ শতাংশ…
মেলবোর্ন, ৩০ জুন— বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই গণহত্যার প্রতীক রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
সোমবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ প্রতিবেদনটি জমা দেন তদন্ত সংস্থার প্রতিনিধিরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
এর আগে, গত ২৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগে জমা দেয় তদন্ত সংস্থা। একইসঙ্গে আবু সাঈদের হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রও হস্তান্তর করা হয় প্রসিকিউশনে।
তদন্তে উঠে এসেছে, তৎকালীন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, বেরোবির সাবেক ভাইস চ্যান্সেলরসহ মোট ৩০ জন ব্যক্তি সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, শহীদ আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী ১৩ জানুয়ারি শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। পরে তদন্তে আরও পাঁচজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।
চাঞ্চল্যকর এই মামলায় বর্তমানে চারজন আসামি কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন: পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম ও ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আজ মামলাটির ভিডিও উপস্থাপন করেন প্রসিকিউশন। এরপর চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ পড়ে শোনান আদালতে।
পর্যালোচনা শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে সাবেক ভিসি অধ্যাপক হাসিবুর রশীদ, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামানসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান আবু সাঈদ। রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের অস্ত্রের মুখে নিরস্ত্র অবস্থায় বুক পেতে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে বিক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও রাস্তায় নামে।
সারা দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ, প্রতিবাদ ও সমাবেশে অচল হয়ে পড়ে প্রশাসন। গণ-আন্দোলনের তীব্রতায় মাত্র ২০ দিনের মাথায়—২০২৪ সালের ৫ আগস্ট—তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগে বাধ্য হন। তিনি গোপনে ভারত পালিয়ে যান। পতন ঘটে টানা ১৬ বছরের শাসনামলের।
আবু সাঈদের মৃত্যু পরিণত হয় প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে। গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের দাবিতে তার আত্মত্যাগ দেশবাসীর কাছে আজও এক প্রেরণার নাম।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au