মেলবোর্ন, ১৭ জুন- বাংলাদেশে নির্মাণাধীন দেশের সবচেয়ে বড় শ্রীরাম মূর্তিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ৮১ ফুট উচ্চতার এই মূর্তির নির্মাণকাজ প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হওয়ার পর উগ্র ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর হুমকি ও বিরোধিতার মুখে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি দেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, মূর্তিটি সম্পন্ন হলে এটি বাংলাদেশে নির্মিত সবচেয়ে উঁচু শ্রীরাম মূর্তি হিসেবে পরিচিতি পেত। তবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ইসলামপন্থী বক্তা ও সংগঠন এর বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায়। কেউ কেউ প্রকাশ্যে মূর্তিটি ভেঙে ফেলারও আহ্বান জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তাজনিত কারণে নির্মাণকাজ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
মূর্তি নির্মাণ বন্ধ হওয়ার খবরে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন ও ধর্মীয় নেতারা এ ঘটনাকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকারের ওপর চাপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা সরকারের কাছে প্রকল্পটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শ্রীরাম মূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে নয়, বরং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষার প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।
এদিকে ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান দিল্লি বিমানবন্দরে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আটকে পড়ার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়। পরে বাংলাদেশ সরকার বিষয়টিকে ‘অপমানজনক আচরণ’ হিসেবে উল্লেখ করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শ্রীরাম মূর্তি নির্মাণকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি শুধু ধর্মীয় ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়েছে।
এখন পর্যন্ত প্রকল্পটি পুনরায় কবে শুরু হবে সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়নের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।