মেলবোর্ন, ১৭ জুন- বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগলের ওপর নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামো আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য। সার্চ ফলাফলের র্যাঙ্কিং প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা আনা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং ব্যবহারকারীদের তথ্য ব্যবহারে অধিক নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার লক্ষ্যে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে দেশটির প্রতিযোগিতা ও বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বুধবার এক ঘোষণায় যুক্তরাজ্যের কম্পিটিশন অ্যান্ড মার্কেটস অথরিটি (সিএমএ) জানায়, গুগলকে এখন থেকে সার্চ ফলাফল কীভাবে নির্ধারণ করা হয় সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি সার্চ র্যাঙ্কিংয়ে কোনো পরিবর্তন আনা হলে তার প্রভাব সম্পর্কে ব্যবহারকারী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথাযথভাবে অবহিত করতে হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ব্যবহারকারীরা তাদের সার্চ-সংক্রান্ত তথ্য অনুমোদিত তৃতীয় পক্ষের কাছে স্থানান্তরের সুযোগ পাবেন। এর ফলে ডিজিটাল বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং ব্যবহারকারীরা নিজেদের তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ অর্জন করবেন বলে মনে করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
সিএমএ গুগলকে ‘স্ট্র্যাটেজিক মার্কেট স্ট্যাটাস’ বা কৌশলগত বাজার-প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই মর্যাদার ফলে প্রতিষ্ঠানটির ওপর বিশেষ নজরদারি ও অতিরিক্ত স্বচ্ছতামূলক বিধিনিষেধ আরোপ করা সম্ভব হবে। যুক্তরাজ্যের ডিজিটাল বাজারে গুগলের ব্যাপক প্রভাব এবং সার্চ খাতে প্রায় একচেটিয়া অবস্থানকে সামনে রেখেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সিএমএর ডিজিটাল মার্কেটস বিভাগের নির্বাহী পরিচালক উইল হেইটার বলেছেন, নতুন নিয়মগুলো নিশ্চিত করবে যে সার্চ ফলাফল ন্যায্য, বস্তুনিষ্ঠ ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে নির্ধারিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবহারকারীরা কোনো অভিযোগ থাকলে তা কার্যকরভাবে উত্থাপন ও নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, অনলাইন সার্চের মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষ তথ্য সংগ্রহ, কেনাকাটা এবং বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করে থাকে। ফলে সার্চ ফলাফলের অবস্থান কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আয় ও জনপ্রিয়তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। এ কারণে র্যাঙ্কিং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ ছিল।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতেও গুগলের জন্য নতুন কিছু আচরণগত নির্দেশনা জারি করেছিল সিএমএ। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, সংবাদমাধ্যম ও প্রকাশকরা চাইলে তাদের কনটেন্ট গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) মডেল প্রশিক্ষণ বা অন্যান্য এআই সেবায় ব্যবহার না করার সুযোগ পাবেন।
ডিজিটাল বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পথ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে তথ্যের স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা এবং ব্যবহারকারীর অধিকার রক্ষার প্রশ্নে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গুগল এখনো নতুন নিয়মগুলোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্ত প্রযুক্তি খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।