কলকাতায় গ্রেপ্তার তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক মন্ত্রী উদয়ন গুহ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৭ জুন- ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা উদয়ন গুহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার কলকাতার ফুলবাগান এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাকে আটক করা হয়। ভোট-পরবর্তী সহিংসতার একটি পুরোনো মামলায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, কোচবিহার জেলা পুলিশের একটি দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কলকাতায় অভিযান চালিয়ে উদয়ন গুহকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে ফুলবাগান থানায় নেওয়া হয়। প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে উত্তরবঙ্গের কোচবিহারে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ সূত্রের দাবি, ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর কোচবিহার জেলায় সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় উদয়ন গুহের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় রাজনৈতিক সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের একাধিক ঘটনায় তার নাম উঠে আসে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ভোট-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ ছাড়াও উদয়ন গুহের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, কাটমানি গ্রহণ এবং প্রতারণার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে উদয়ন গুহ উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দীর্ঘদিন কোচবিহারের দিনহাটা এলাকার রাজনীতিতে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে দিনহাটা আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও পরাজিত হন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে উদয়ন গুহকে দিনহাটা এলাকায় খুব কম দেখা গেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, নির্বাচনের পর তিনি নিয়মিতভাবে কলকাতার ফুলবাগান এলাকার ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিলেন। এই তথ্য পাওয়ার পরই কোচবিহার পুলিশ গোপন অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে পুলিশের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলন করা হয়নি। ফলে ঠিক কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে কী কী সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোট-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের একজন সাবেক মন্ত্রী ও প্রভাবশালী নেতার গ্রেপ্তার রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আগামী দিনে আদালতে মামলার অগ্রগতি এবং তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এলে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে পারে।
সূত্রঃ আনন্দবাজার