বিএনপি আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মেলবোর্ন, ০২ জুলাই— ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে সংখ্যানুপাতিক অর্থাৎ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলের ভোটের অনুপাতে সংসদে আসন বণ্টনের পদ্ধতিতে নির্বাচন কতটা উপযোগী তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই পদ্ধতি উপযোগী কি না তা সবাইকে ভেবে দেখার কথা বলেছেন তিনি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বেশ কিছু দল এই পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি জানানোর প্রেক্ষিতে তিনি একথা বলেন।
মঙ্গলবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভার উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, “কোনো কোনো রাজনৈতিক দল সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি তুলেছে। বিশ্বের অনেক দেশে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন হলেও, বাংলাদেশের ভূগোল, রাজনীতি ও সামাজিক প্রেক্ষাপট তা গ্রহণ করার জন্য কতটা প্রস্তুত—সেটা গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে। এই পদ্ধতির আড়ালে আবার যেন কোনোভাবে স্বৈরাচারী শাসনের সুযোগ সৃষ্টি না হয়, তাও খেয়াল রাখতে হবে।”
শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশে যোগ দিয়ে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি ছাড়া কোনো ভোট হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের প্রধানকে আমি বলতে চাই, আজকে এই সমাবেশ থেকে এই বার্তা যদি আপনারা বুঝতে ভুল করেন, সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি ছাড়া বাংলার মানুষ নির্বাচন কখনও করবে না।”
সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে ভোট, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঠেকাতে গণহত্যার বিচার, রাষ্ট্রের সংস্কারের দাবিতে আয়োজিত ওই সমাবেশে অংশ নেন জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মন্জু, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মূসা বিন ইজহার, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমাদ আবদুল কাদের, ইসলামী ঐক্যজোট মহাসচিব মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন রাজিও এতে অংশ নেন।
অন্য ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রমাণিক,বোধিজ্ঞান ভাবনাকেন্দ্র সভাপতি দয়াল কুমার বড়ুয়া, বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি নির্মল রোজারিও। তারা সবাই সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের দাবি জানান।
ইসলামী আন্দোলনের সমাবেশে রাজনৈতিক দলগুলোর সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের দাবি জানানোর তিন দিন পর এ নিয়ে কথা বললেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। পিআর পদ্ধতির নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক বিধিব্যবস্থাকে শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখতে হলে, বাংলাদেশকে তাঁবেদার মুক্ত রাখতে হলে এই মুহূর্তে জনগণের ঐক্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। কিন্তু সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনব্যবস্থা দেশে ঐক্যের পরিবর্তে বিভক্তিমূলক সমাজ এবং অস্থিতিশীল সরকার সৃষ্টির কারণ হয়ে উঠতে পারে কি না, বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে আরও একবার ভেবে দেখার জন্য আমি সব রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের বিনীত আহ্বান ও অনুরোধ করব।”
সংস্কারের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, “একটি ইস্যুকে সঙ্গে নিয়ে আরেকটি ইস্যুকে শর্তে বেড়াজালে আবদ্ধ না করে ফেলা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কার্যক্রমে রাজনৈতিক দলগুলো চিন্তা ভাবনা করেই প্রস্তাব দিচ্ছে ও সবাই জনগণের কথা চিন্তা করেই উত্তম প্রস্তাব দিচ্ছে। প্রত্যেক প্রস্তাব বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উত্তম কি না সেটি বিবেচনা করা দরকার।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “আমি মনে করি প্রতিদিন নিত্যনতুন কিছু সামনে নিয়ে আসি, তা ষড়যন্ত্রকারীদের আবারো সুযোগ দেবে।”
“অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিদিন জনগণের সব সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। জনগণের সমস্যার কথা তাদের কাছে পৌঁছানোর কোনো মাধ্যম নেই। সুতরাং সংস্কারের ইস্যু নিয়ে সরকারকে ব্যস্ত রাখি তাহলে হয়তো জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখতে পারে” যোগ করেন তিনি।