জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তিন সদস্য ও এক কমিশনারকে বাধ্যতামূলক অবসর পাঠিয়েছে সরকার। অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা হলেন— সদস্য (কর গোয়েন্দা ও তদন্ত) মো. আলমগীর হোসেন, সদস্য (কাস্টমস নীতি) হোসেন আহমদ, সদস্য (ভ্যাট নীতি) ড. মো. আবদুর রউফ এবং আয়কর কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) মো. শব্বির আহমদ।
বুধবার (২ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তাঁদের চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় এবং জনস্বার্থে তাঁদের সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান প্রয়োজন বিবেচনায়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮–এর ৪৫ ধারায় তাঁদের অবসরে পাঠানো হলো।
এর একদিন আগেই, মঙ্গলবার চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনার মো. জাকির হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এনবিআরের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির সময় কাস্টমস হাউস তালাবদ্ধ রাখায় তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খানের সই করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সরকারের নির্দেশনা অমান্য করায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এনবিআর কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, আন্দোলনের কারণেই তাঁদের ‘অন্যায়ভাবে’ শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। একজন যুগ্ম কমিশনার বলেন, “এটা হিংসাত্মকভাবে করা হয়েছে। যাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলো, তাঁদের সততা নিয়েও কোনো প্রশ্ন ছিল না।” অন্য এক অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, “স্তম্ভিত হয়ে গেছি। সরকার আমাদের ন্যায়সঙ্গত দাবি শোনেননি। এখন তো কিছু বলারও উপায় নেই।”
প্রসঙ্গত, গত ১২ মে মধ্যরাতে সরকার এনবিআরকে দুটি স্বতন্ত্র বিভাগ— রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব নীতি—তে ভাগ করে অধ্যাদেশ জারি করে। এর প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আন্দোলনের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজে যোগ দেন। তবে চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে তাঁরা অনড় ছিলেন এবং গত শনি ও রোববার ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করেন, যাতে রাজস্ব দপ্তরের কার্যক্রম স্থবির হয়ে যায়।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোমবার সরকার এনবিআরের সব স্তরের চাকরিকে অত্যাবশ্যক সেবা ঘোষণা করে এবং দুদক ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরুর সিদ্ধান্ত জানায়। এরপর আন্দোলনকারীরা আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ান। সেদিন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “কাজ করলে সমস্যা হবে না।” আর এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান সবাইকে সবকিছু ভুলে রাজস্ব আহরণে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
তবে এসব বিষয়ে জানতে এনবিআর চেয়ারম্যানকে কল করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।