লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠান ঘিরে উত্তেজনা, কি ঘটেছিল
মেলবোর্ন, ১৬ জুন- জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর যুক্তরাজ্য সফরকে কেন্দ্র করে পূর্ব লন্ডনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত একটি…
মেলবোর্ন, ০৩ জুলাই— মাইক্রোসফট, অ্যামাজন এবং গুগলসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে গাজায় গণহত্যার সহযোগী হওয়ার অভিযোগ তুলেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকাণ্ডকে ‘সম্মিলিত অপরাধী উদ্যোগ’ হিসেবেও চিহ্নিত করেছে।
=অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলের জন্য জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রানসেস্কা আলবানিজ সম্প্রিত এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। এতে তিনি ইসরায়েলের দখলদারত্ব ও বর্ণবাদের অর্থনৈতিক মেশিন এবং বর্তমানে গাজায় চলমান গণহত্যার পেছনে থাকা কর্পোরেট অংশগ্রহণ এবং লাভের বিষয়টি উন্মোচন করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু করে ৬২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যার মাধ্যমে এই কোম্পানিগুলো নজিরবিহীন মুনাফা করেছে।
‘দখলের অর্থনীতি থেকে গণহত্যার অর্থনীতিতে’ শিরোনামের এই প্রতিবেদনে ৪৮টি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরা অস্ত্র, প্রযুক্তি, নির্মাণ, পর্যটন, জ্বালানি, আর্থিক, একাডেমিক এবং কৃষি খাতের অন্তর্ভুক্ত।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এগুলো কেবল ‘হিমবাহের চূড়া’। কর্পোরেট জটিলতা ও সংশ্লিষ্টতার নেটওয়ার্ক অনেক বিস্তৃত।
এতে বলা হয়েছে, প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট (গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান) এবং অ্যামাজন ইসরায়েলকে তাদের ক্লাউড এবং এআই প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার দিয়েছে। এটি ইসরায়েলি সরকারকে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নজরদারি ও বিশ্লেষণ চালাতে সক্ষম করেছে।
ইসরায়েলের বর্ণবাদী ও সামরিক ব্যবস্থাকে বিস্তৃত করতে ক্লাউড স্টোরেজ ও কম্পিউটিং ক্ষমতা প্রয়োজন। এই চাহিদা পূরণে ২০২১ সালে ইসরায়েল প্রজেক্ট নিম্বাস নামে একটি ক্লাউড প্রকল্প চালু করে। এই প্রকল্পে গুগল ও আমাজনকে এক দশমিক দুই বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ সামরিক ক্লাউড ওভারলোড হলে মাইক্রোসফট, গুগল এবং আমাজন জরুরি ভিত্তিতে ক্লাউড এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি প্রদান করে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) কম্পিউটার বিভাগের প্রধান কর্নেল রাচেলি ডেমবিনস্কি সম্প্রতি ক্লাউড প্রযুক্তিকে ‘যে সিস্টেম দিয়ে আইডিএফ শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ করে’ তার একটি অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি এই কোম্পানিগুলোর নাম উল্লেখ করেন।
ডেমবিনস্কি বলেন, “এটি একটি প্ল্যাটফর্ম, এটি একটি অস্ত্র – এটি বুঝতে হবে।”
এর পাশাপাশি মাইক্রোসফট, আমাজন এবং গুগল ইসরায়েলে গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) কেন্দ্র এবং স্থানীয় ডেটা সেন্টার স্থাপন করেছে। সেখানে তারা সরকারের কাছ থেকে ‘অভূতপূর্ব তথ্য প্রবেশাধিকার এবং একটি বন্দী জনগোষ্ঠী’ উপভোগ করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আলবানিজের মতে, এর ফলে এটি ‘প্রথম এআই-চালিত এবং সরাসরি সম্প্রচারের গণহত্যা’ হয়ে উঠেছে, যা দায়মুক্তিকে রক্ষা করার মতো তথ্য সার্বভৌমত্বও প্রদান করেছে।
২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে মাইক্রোসফট ৭০ বিলিয়ন ডলার বিক্রি ও ১৮ শতাংশ মুনাফা বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে। এর বেশিরভাগ এসেছে ক্লাউড ও এআই ব্যবসা থেকে। ২০২৪ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে গুগল ক্লাউডের রাজস্ব ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। আমাজনের ওয়েব সার্ভিস সেগমেন্টে বিক্রি ১৯ শতাংশ বেড়ে ২৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের চিরস্থায়ী দখলদারত্ব অস্ত্র নির্মাতা ও বড় প্রযুক্তি কোম্পানির জন্য আদর্শ পরীক্ষার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। সেখানে রয়েছে উচ্চ চাহিদা ও সরবরাহ, স্বল্প নজরদারি এবং শূন্য জবাবদিহিতা। অথচ বিনিয়োগকারী ও প্রতিষ্ঠানগুলো অবাধে লাভ করে যাচ্ছে।”
গত ২১ মাসে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যায় ৮৫ হাজার টন বোমা ফেলা হয়েছে, যা হিরোশিমার পারমাণবিক বোমার চেয়ে প্রায় ছয়গুণ বেশি বিস্ফোরণ ক্ষমতা সম্পন্ন। এই বোমাগুলো ফেলা হয়েছে এফ-৩৫, এফ-১৬, ড্রোন ও টার্গেটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে। এগুলো সরবরাহ করেছে এলবিট সিস্টেমস, লকহিড মার্টিন, ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (আইএআই) এবং পালান্টির।
এলবিট ও আইএআই ইসরায়েলের সামরিক ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ৪৬ দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোয় ব্যাপকভাবে লাভবান হয়েছে। এলবিটের মুনাফা ১৮ দশমিক সাত শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে এ্যারোস্পেস বিভাগে ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি মূলত ড্রোন ও ‘স্মার্ট বোমা’ র কারণে।
ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় পেনশন স্কিম সরকার সমর্থিত নেস্ট স্কিম তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় পেনশন ফান্ডটি এলবিটে বিনিয়োগ করেছে।
প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি সহযোগিতার মাধ্যমে গণহত্যাকে সমর্থনের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।
ইসরায়েল বর্তমানে এফ-৩৫ ফাইটার জেটের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা ক্রয় কর্মসূচি থেকে লাভবান হচ্ছে। এটি পরিচালিত হচ্ছে মার্কিন কোম্পানি লকহিড মার্টিনের নেতৃত্বে। অংশ নিয়েছে অন্তত আরও ১ হাজার ৬৫০ অন্যান্য কোম্পানি।
যুক্তরাজ্য লকহিড মার্টিন এফ-৩৫ কনসোর্টিয়ামে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী। তারা এখন বৈশ্বিক সরবাহ ব্যবস্থার ভেতর দিয়ে ইসরায়েলে এফ-৩৫-এর যন্ত্রাংশ রপ্তানির অনুমতি দিচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au