মেলবোর্নের একটি ডে-কেয়ার কেন্দ্রে কর্মরত জোশুয়া ব্রাউন (২৬) নামে এক কর্মীর বিরুদ্ধে আট শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর অস্ট্রেলিয়া সরকার শিশু সুরক্ষা নীতিতে দ্রুত ও বড় ধরনের সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছে। ব্রাউনের বিরুদ্ধে ৭০টির বেশি অভিযোগ আনা হয়েছে, যা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
ফেডারেল সরকার জানিয়েছে, চলতি মাসের ২২ জুলাই পার্লামেন্টে নতুন একটি বিল উত্থাপন করা হবে। প্রস্তাবিত এই আইনে নিরাপত্তা ও মানদণ্ডে ব্যর্থ ডে-কেয়ার সেন্টারগুলোকে সরকারি তহবিল বাতিলের ক্ষমতা থাকবে সরকারের হাতে। এছাড়া দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ও ভিক্টোরিয়া রাজ্যে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ডে-কেয়ার সেন্টারে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন, ট্যাবলেটসহ সব ধরনের ব্যক্তিগত ডিভাইস বহন নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, কর্মীদের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা, নজরদারি বাড়াতে সিসিটিভি বসানো, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিশু নির্যাতনের ঘটনার রিপোর্ট করতে বাধ্যতামূলক আইন এবং একক কর্মীর পরিবর্তে একাধিক কর্মীর মাধ্যমে শিশুদের দেখভাল (ফোর-আই রুল) চালুর সিদ্ধান্তও হয়েছে।
ভিক্টোরিয়া রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্টা অ্যালান বলেছেন, এই ঘটনায় মানুষ আস্থা হারিয়েছে, তাই নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা ফেরাতে জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে এবং ১৫ আগস্টের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে মানসিক ও চিকিৎসা সহায়তার জন্য সরকারিভাবে অর্থ সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্ট্রেলিয়ার ডে-কেয়ার সেক্টরে দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি ও নিরাপত্তায় ফাঁকফোকর ছিল। সরকার ও রাজ্য পর্যায়ের নতুন এই উদ্যোগগুলো শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং অভিভাবকদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।