বিশ্ব

পাকিস্তানের করাচিতে আবাসিক ভবন ধসে ২৭ জনের মৃত্যু

  • 3:41 am - July 07, 2025
  • পঠিত হয়েছে:৮১ বার
করাচির ধসে পড়া আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপের ভেতর নিজের জিনিসপত্র খুঁজছেন এক বাসিন্দা।ছবি: এএফপি

মেলবোর্ন, ৭ জুলাই-

পাকিস্তানের বন্দরনগরী করাচিতে পাঁচতলা একটি পুরনো আবাসিক ভবন ধসে অন্তত ২৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে লিয়ারি এলাকার এই ভবনটি হঠাৎ ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ চাপা পড়ে থাকতে পারে আশঙ্কায় এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে।

পাকিস্তানের সরকারি উদ্ধার পরিষেবা (রেসকিউ সার্ভিস)–এর মুখপাত্র হাসান খান জানিয়েছেন, রোববার সকাল পর্যন্ত উদ্ধার করা মৃতের সংখ্যা ২৭-এ পৌঁছেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, আজ বিকেলের মধ্যে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শেষ করা যাবে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বহুদিন ধরেই ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল এবং ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সেখানে বসবাসরত বাসিন্দাদের সরে যেতে নোটিশও দেওয়া হয়েছিল। তবে বাড়ির মালিক ও কয়েকজন বাসিন্দা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপিকে বলেছেন, তারা কখনো এ ধরনের কোনো নোটিশ পাননি।

ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে তীব্র শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভবনের নিচে চাপা পড়া মানুষের স্বজনরা এখনো ধ্বংসস্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন কোনো খবরের আশায়। ৫৪ বছর বয়সী দেব রাজ কাঁদতে কাঁদতে জানান, “আমার মেয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। সে খুবই সংবেদনশীল ছিল, মাত্র ছয় মাস আগে তার বিয়ে হয়েছিল।”

ভবন ধসের ঠিক আগে স্থানীয়দের অনেকে ফাটল ধরার শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন। সেই সময় ভবনের বাইরে থাকা ৩০ বছর বয়সী বাসিন্দা শঙ্কর কাম্ভো বলেন, “আমার স্ত্রী আমাকে ফোন করে জানায় যে ভবনে ফাটল ধরেছে। আমি তাকে বলি দ্রুত বের হতে। তখন সে আশপাশের প্রতিবেশীদেরও সতর্ক করতে যায়, কিন্তু একজন নারী প্রতিবেশী তাকে বলেন, ‘এই ভবন আরও দশ বছর টিকবে।’ তবু আমার স্ত্রী আমাদের মেয়েকে নিয়ে বের হয়ে আসে। প্রায় ২০ মিনিট পরই ভবনটি ধসে পড়ে।”

তিনি আরও জানান, ভবনটিতে প্রায় ২০টি পরিবার থাকত এবং প্রায় ১০০ জনের মতো মানুষ সেখানে বাস করতেন। ধসে পড়ার সময় আশেপাশের এলাকাজুড়ে তীব্র শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ, মানুষ আতঙ্কে ছুটোছুটি করতে থাকে।

পাকিস্তানে এ ধরনের ভবন ধসের ঘটনা প্রায়ই ঘটে, যার মূল কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী, দুর্বল তদারকি, নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব এবং সরকারি নিয়মের সঠিক প্রয়োগ না হওয়াকে দায়ী করেন। করাচি শহরটি বিশেষভাবে কুখ্যাত অবৈধ নির্মাণ, জনসংখ্যার অতিরিক্ত চাপ এবং বহু পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিয়ে।

এই ঘটনায় শহরের অবকাঠামো ও বাসযোগ্যতার প্রশ্ন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় সরকার ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও, বাস্তবায়ন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে গভীর শঙ্কা।

সুত্রঃ এএফপি

এই শাখার আরও খবর

অস্ট্রেলিয়ায় সংঘর্ষ থামাতে মরিচ স্প্রে ছুড়ল পুলিশ

মেলবোর্ন, ১৬ জুন- অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের নিউক্যাসলে একটি জনপ্রিয় স্ট্রিটওয়্যার ব্র্যান্ডের ফ্রি টি-শার্ট বিতরণ কর্মসূচি মুহূর্তেই বিশৃঙ্খল রূপ নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মরিচ স্প্রে…

ভারত-দক্ষিণ এশিয়ার বাড়তি চাহিদায় নতুন আশার আলো দেখছে অস্ট্রেলিয়ার খনি খাত

মেলবোর্ন, ১৬ জুন- চীনের ইস্পাত শিল্পে দীর্ঘস্থায়ী মন্দার প্রভাব যখন বৈশ্বিক কাঁচামাল বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে, তখন ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্রুত বর্ধনশীল ইস্পাত শিল্পকে…

শিশুর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার: হত্যার অভিযোগে বাবা-ছেলেকে অবরুদ্ধ, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

মেলবোর্ন, ১৬ জুন- লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় নিখোঁজের একদিন পর প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দিনী রানীর (৭) বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। হত্যাকাণ্ডে…

নিখোঁজের একদিন পর ভুট্টাখেতে মাটিচাপা অবস্থায় পাওয়া গেল নন্দিনীর মরদেহ

মেলবোর্ন, ১৬ জুন- লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ফলিমারী এলাকায় নিখোঁজের একদিন পর ভুট্টা খেত থেকে নন্দিনী নামের এক সাত বছরের শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।…

স্টারমারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের নেপথ্যে রাশিয়া : বিবিসি

মেলবোর্ন, ১৬ জুন- যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বাড়ি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রাশিয়ার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে এসেছে। বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে…

কলকাতায় স্ত্রীসহ মোশাররফ করিমকে ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা, কী ঘটেছিল

মেলবোর্ন, ১৬ জুন- দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিমকে ঘিরে ভারতের কলকাতায় অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার বর্ণনাকে অতিরঞ্জিত বলে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au