লালন সম্রাজ্ঞী ফরিদা পারভীন। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন ৭ জুলাই- লালনগীতি কিংবদন্তি এবং লালন সম্রাজ্ঞী ফরিদা পারভীনের শারীরিক অবস্থা আবারও গুরুতর আকার ধারণ করেছে। ডায়ালাইসিস চলাকালে জটিলতা দেখা দেওয়ায় তাকে ফের আইসিইউতে ভর্তি করতে হয়েছে।
অসুস্থতার খবর জানিয়েছেন তার স্বামী, প্রখ্যাত যন্ত্রসংগীত শিল্পী গাজী আবদুল হাকিম। তিনি বলেন, “ফরিদার তো প্রায়ই ডায়ালাইসিস করতে হয়। এবার পরপর তিন দিন করতে হয়েছে। ডায়ালাইসিসের সময় শরীরে সমস্যা হয়, তখনই তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে তিনবার আইসিইউতে ভর্তি করা হলো। একবার কোভিডের সময়, তারপর ফেব্রুয়ারিতে নিউমোনিয়ার কারণে, আর এবার ডায়ালাইসিস করতে গিয়ে। এইভাবে ক’দিনই বা বাঁচবেন উনি।”
৭০ বছর বয়সী এই শিল্পী দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগ ও ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও তাকে শ্বাসকষ্টের কারণে ১৩ দিন আইসিইউতে থাকতে হয়েছিল।
ফরিদা পারভীনের পরিবার এখন চান, এই গুণী শিল্পীর বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা হোক। আবদুল হাকিম বলেন,
“আমাদের চাওয়া, সন্তানেরও চাওয়া—ফরিদা পারভীনকে বিদেশে নিয়ে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানো হোক। উনি কি শুধু কারো মা বা স্ত্রী? উনি আমাদের জাতীয় সম্পদ। আমরা অর্থ সাহায্য চাই না, চাই তার চিকিৎসাটা যেন ভালোভাবে হয়। এজন্য সরকারিভাবে বিদেশে চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।”
নজরুলসংগীত ও দেশাত্মবোধক গান দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও লালনসংগীতের অসাধারণ পরিবেশনা তাকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। সাধক মোকসেদ আলী শাহর কাছে লালনের গান শিখেছিলেন তিনি। ১৯৮৭ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। ২০০৮ সালে জাপান সরকারের ‘ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচার’ পুরস্কার পান।
১৯৯৩ সালে সেরা প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে ফরিদা পারভীন বেশ কিছু চলচ্চিত্রে গান গেয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। লালনগীতির চর্চা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে প্রায় ১৬ বছর আগে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘অচিন পাখি সংগীত একাডেমি’। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতা, আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্য এবং নিজস্ব ভবন না থাকায় প্রতিষ্ঠানটিও এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে লিপ্ত।
দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অবিস্মরণীয় অবদান রাখা এই শিল্পীর সুস্থতার জন্য সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারকেও আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সূত্র: বিডিনিউজ ২৪