সাংবাদিকদের বিবৃতি; ছবি সংগৃহীত
ঢাকা, ৭ জুলাই-
কারাবন্দি সাংবাদিকদের জামিন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির নিন্দা এবং গণমাধ্যমকে হুমকির প্রতিবাদ জানিয়ে দেশের অর্ধশতাধিক সাংবাদিক এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তারা বলেছেন, বাংলাদেশ এখন মব সন্ত্রাসের কাছে জিম্মি, আর সেই জিম্মিদশা থেকে গণমাধ্যমও মুক্ত নয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের নামে হত্যা মামলা, চাকরিচ্যুতি, সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে হামলা, সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনায় সাংবাদিক সমাজ ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। দেশের একাধিক শীর্ষ সংবাদপত্রের কার্যালয়ের সামনে মব সন্ত্রাসীরা গরু জবাই করে জিয়াফতের মতো ঘটনার আয়োজন করেছে, যা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েই ঘটানো হয়েছে। অথচ এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়নি। এতে ধারণা করা অমূলক নয় যে, ক্ষমতাসীন কোনো মহল এসবের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম ও অধিকার সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ১০ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। গত ১১ মাসে ঢালাও হত্যা মামলাসহ অন্তত ৪১২ জন সাংবাদিক হয়রানিমূলক মামলার আসামি হয়েছেন; গ্রেফতার হয়েছেন ৩৯ জন। একই সময়ে ১৬৮ জন সাংবাদিকের প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়। জাতীয় প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন প্রেসক্লাব থেকে ১০১ জন সাংবাদিকের সদস্যপদ স্থগিত, বাতিল বা বহিষ্কার করা হয়েছে। তিন শতাধিক সাংবাদিক বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়েছেন, শতাধিক সাংবাদিকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে এবং সহস্রাধিক সাংবাদিক চাকরিচ্যুত হয়েছেন। এছাড়া মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সংগঠন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) কার্যালয় ১১ মাস ধরে তালাবদ্ধ করে রাখার ঘটনাও ঘটেছে।

বিবৃতি প্রদানকারী সাংবাদিকদের তালিকা
বিবৃতিদাতারা বলেন, ‘‘দেশের প্রতিটি নাগরিকের মতো সাংবাদিকদেরও আইনি প্রতিকার ও জামিন পাওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে অনেক সাংবাদিক মাসের পর মাস বিনা বিচারে কারাবন্দি। এটি মানবাধিকারের লঙ্ঘন।’’ তারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে প্রত্যাশা ছিল মব সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ, সাংবাদিকদের চাকরির সুরক্ষা ও নির্ভয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ তৈরি। কিন্তু সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক বছর পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি, যা গভীর উদ্বেগজনক।

বিবৃতি প্রদানকারী সাংবাদিকদের তালিকা
বিবৃতির মাধ্যমে সাংবাদিক নেতারা সব সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার, সাংবাদিক হয়রানির নিন্দা এবং কারাবন্দি সাংবাদিকদের জামিনের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধ করা এবং প্রকাশ্যে গণমাধ্যমকে হুমকি দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।