গত ২ এপ্রিল ট্রাম্প বিশ্বের একাধিক দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেন। ছবিঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ৮ জুলাই-
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রায় ১২টি দেশের কাছে শুল্ক সংক্রান্ত চিঠি পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারিন লেভিট। এই চিঠিগুলো ট্রাম্প নিজেই তাঁর সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশ করবেন। একইসঙ্গে ট্রাম্প পূর্বঘোষিত ৯ জুলাইয়ের সময়সীমা বাড়িয়ে ১ আগস্ট পর্যন্ত করেছেন, যা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কার্যকর হবে।
কোন কোন দেশ এই চিঠি পাবে, সে বিষয়ে লেভিট স্পষ্ট করে কিছু জানাননি। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট নিজেই যথাসময়ে নামগুলো জানাবেন, ট্রুথ সোশ্যালে নজর রাখুন।’
গত সপ্তাহে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চুক্তি না হলে এসব দেশের পণ্যে শুল্কহার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ পর্যন্ত করা হবে। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আলোচনার জন্য আরও সময় দিতে এ সময়সীমা তিন সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে সময়সীমা বাড়িয়ে মার্কিন প্রশাসন দেশগুলোকে আলোচনায় টানার সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে চাপও বজায় রাখছে দ্রুত চুক্তি করতে।
ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ‘এই চিঠিগুলো চূড়ান্ত আলটিমেটাম নয়; বরং সম্ভাব্য বাণিজ্য অংশীদারদের প্রতি এক ধরনের আমন্ত্রণ।’
বিশ্ববাজারে এরই মধ্যে বাণিজ্য অস্থিরতার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অনেক দেশ দ্রুত চুক্তি করতে চাইছে, যাতে বাড়তি শুল্কের ঝুঁকি এড়ানো যায়। হোয়াইট হাউসের আজকের ঘোষণায় স্পষ্ট হয়েছে, শুল্ক চিঠি পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে এবং সময়সীমা বৃদ্ধির ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদকাল থেকেই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবে একের পর এক শুল্ক আরোপের হুমকি ও কার্যকর শুল্ক নীতি গ্রহণ করেছিলেন, যা বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যযুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে।
বিশেষ করে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা ও মেক্সিকোসহ বহু দেশের সঙ্গে শুল্ক নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ান ট্রাম্প প্রশাসন। এতে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যায় এবং সরবরাহ ব্যবস্থায়ও প্রভাব পড়ে।
ট্রাম্পের যুক্তি ছিল, বিদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় শিল্প ও উৎপাদকরা সুবিধা পাবে, দেশীয় চাকরির সুযোগ বাড়বে। সমালোচকেরা বলেন, এতে বিশ্ববাণিজ্য ব্যবস্থায় আস্থাহানি হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বর্তমানে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফের ক্ষমতায় ফিরে আসার পর ট্রাম্প আবারও শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন, বিশেষত ব্রিকসসহ এমন দেশগুলোর প্রতি, যারা তাঁর ভাষায় ‘আমেরিকাবিরোধী নীতি’ গ্রহণ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি এবার আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে প্রায় ১২টি দেশকে শর্ত দিয়েছেন, শুল্ক চুক্তিতে না এলে ২০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে।
এই পদক্ষেপ একদিকে মার্কিন প্রশাসনের চাপের কৌশল, আবার বিশ্ববাজারের জন্য নতুন করে অনিশ্চয়তা আর চাপ তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাণিজ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দরকার অংশীদারিত্ব ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান, শুধু চাপ নয়।
সুত্রঃ এএফপি