বাংলাদেশ

জুলাই আন্দোলন বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে ভেঙে ৩ টুকরো করার চক্রান্ত – সত্যের প্রকাশ ও পুনঃপ্রতিষ্ঠাই একমাত্র পথ?

  • 2:57 pm - July 09, 2025
  • পঠিত হয়েছে:১০৪ বার
বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলন। ছবি: সংগৃহীত

শামীম আহমেদ- টরন্টো, অন্টারিও জুলাই ৮, ২০২৫

আমার মতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতের পর বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ড বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্ধকারতম অধ্যায়। এরপরই স্থান পাবে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন। এই ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসকে পাল্টে দিয়েছে। কতটা পাল্টেছে সেটা আমরা জানতে পারব ১০-১৫ বছর পর। আমরা যদি আরব বসন্তের সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ডিপস্টেটের ষড়যন্ত্রের দিকে তাকাই, তাহলে বুঝতে পারব ওখানকার দেশগুলোতে যে বিপর্যয় হয়েছিল তার ১৪-১৫ বছর পরেও তারা আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি।

এমন জঘন্যতম ইতিহাসের সাক্ষী হবার পর আমাদের বুঝতে হবে গত ৫৪ বছরে আমরা জাতি হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হতে পারিনি। এর জন্য আপনি জামায়েত-হেফাজত-ডিপ স্টেটকে দায়ী করতে পারেন। কিন্তু তাহলে পাল্টা প্রশ্ন আসবে স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ কেন ৩ দফায় ২৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পরেও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে নিষ্ক্রিয় করে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে উজ্জীবীত করতে পারল না? অর্থাৎ সকল দল ও মতের মানুষেরই কম-বেশী দায় আছে।

এটি মাথায় রাখা জরুরী যে আমি যখন Truth and Reconciliation (সত্যের প্রকাশ ও পুনঃপ্রতিষ্ঠা) এর কথা বলি, তখন, আমি ইউনুস, পঞ্চতান্ডব ও ডার্টি মাস্টারমাইন্ডদের কৃতকর্মকে ক্ষমা করার কথা বলছি না। তারা যা করেছে তা ক্ষমার অযোগ্য। আমি যেটা বলছি – বাংলাদেশ কি একটা রাষ্ট্র হিসেবে প্রতি ১০-১৫-২০ বছর পর পর এমন ষড়যন্ত্র ও জাতীয় নেতাদের হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে যাবে? গত ১৬ বছরে আমরা যখন অর্থনৈতিকভাবে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছিলাম, তখনই আওয়ামী লীগের পতন বাংলাদেশকে অন্ধকার গর্তে ছুঁড়ে ফেলেছে, যেখান থেকে ১০ বছরেও উঠে দাঁড়ানোর এবং আগের অবস্থানে ফিরে যাবার কোন প্রক্রিয়া আমার চোখে পড়ে না।

আমরা যদি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশ নিয়ে না ভেবে কেবল নিজেদের জীবদ্দশার কথা ভাবি, তাহলে আপনার Truth and Reconciliation বা সত্যের প্রকাশ ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার গুরুত্ব নিয়ে ভাবনার দরকার নেই। কিন্তু আমি ব্যক্তি হিসেবে বাংলাদেশ ২০৭০ সালে কোথায় থাকবে, ৩০২৫ সালে কোথায় যাবে – সেটা নিয়ে ভাবি। সেই ভাবনার অংশ হিসেবে আমি মনে করি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে চিরতরে বিভাজিত করা হয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্টের পর থেকে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট পর্যন্ত যে বাংলাদেশ সেটি কেবলই বিভাজন, ঘৃণা ও বিচ্ছেদের বাংলাদেশ।

গত বছরের ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রিক জুলাই সন্ত্রাস ও অগাস্ট ষড়যন্ত্রের পর আমি শোকে নিমজ্জিত হয়েছি। যে বাংলাদেশকে দৃঢ়তার সাথে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেখেছি, সেই বাংলাদেশকে ধ্বসে পড়তে দেখার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। আমি ধারণা করি আমার মতো আপনারাও অনেকে প্রস্তুত ছিলেন না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বের অনেক কিছুই আমার পছন্দ না হলেও অর্থনৈতিক মুক্তি ও স্বাবলম্বী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে শক্তিশালী অবস্থানে নেবার একক কৃতিত্ব তার। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করেছে তাদের একটা বড় অংশ এক সময় আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিল, কিন্তু যথেষ্ট আনুকূল্য না পাওয়ায়, তারা দেশের সাথে বেইমানি করতেও পিছপা হয়নি। দূর্ভাগ্যজনকভাবে এই ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের মাটি ও মায়ের হতদরিদ্র জনগোষ্ঠী নয়, বরঞ্চ দেশ থেকে সর্বোচ্চ সুবিধাপ্রাপ্ত ধনী ও বণিক গোষ্ঠীর মানুষ, যাদের অধিকাংশ দেশের বাইরে থেকে ডিপস্টেটের সাথে আঁতাত করেছে এবং অনেকেই উচ্চশিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে বিদেশে গিয়ে ডিপস্টেটের রিক্রুটমেন্টে পরিণত হয়। এই অংশটি দেশে গরীব ধর্মীয় উগ্রবাদী মানুষজনকে তাদের ষড়যন্ত্রের গুটি হিসেবে ব্যবহার করেছে। 

জুলাই সন্ত্রাস ও অগাস্ট ষড়যন্ত্রের প্রায় ১১ মাস হলো। (ছবি: Facebook)

জুলাই সন্ত্রাস ও অগাস্ট ষড়যন্ত্রের প্রায় ১১ মাস হলো। এটি ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা যাবে না। আমি প্রায় ৭-৮ মাস ধরে বলছি আজ থেকে ৫০ বছর পর বাংলাদেশকে, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে Truth and Reconciliation বা সত্যের প্রকাশ ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে যেতেই হবে। কেননা, একটি স্বাধীন দেশে কোন রাজনৈতিক মতবাদের লক্ষ লক্ষ মানুষকে মে*রে ফেলা সম্ভব না। এটিতে যারা বিশ্বাস করে তারা মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছে। সত্যের প্রকাশ ও পুনঃপ্রতিষ্ঠা নিয়ে লিখব বলার পর অনেকেই ধন্যবাদ জানিয়েছেন ও উৎসাহ দিয়েছেন। অনেকে হতাশাও প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, গত ১১ মাসে জামায়েত-হেফাজত-বিএনপি-এনসিপি-ইউনুস-পঞ্চতান্ডব ও ডার্টি মাস্টারমাইন্ডদের কৃতকর্মের পর আর এটি সম্ভব নয়।

তাদেরকে বলতে চাই, বাংলাদেশের চাইতেও ভয়াবহ অবস্থা ছিল রুয়ান্ডায়। ১৯৯৪ সালের গণহত্যায় রুয়ান্ডায় মাত্র ১০০ দিনে প্রায় দশ লাখ মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এটি মানব ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট হত্যাযজ্ঞ। হুতু ও তুতসিদের মধ্যে জাতিগত বিভেদ, যা উপনিবেশিক শাসন এবং দীর্ঘদিনের বৈষম্যের ফলে তীব্র হয়ে উঠেছিল, তা প্রেসিডেন্ট জুভেনাল হাবিয়ারিমানার হত্যার পর বিস্ফোরিত হয়। হাতে হাতুড়ি, দা আর লাঠি নিয়েই পাশের বাড়ির মানুষ পরিণত হয় খুনিতে। এই হত্যাকাণ্ডের অবসান ঘটায় পল কাগামের নেতৃত্বাধীন Rwandan Patriotic Front, কিন্তু তাদের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল এক প্রায় অতিমানবীয় কাজ—যেখানে অপরাধী ও ভুক্তভোগী একই পাড়ায় থাকে, সেখানে কীভাবে গড়ে উঠবে পুনর্গঠিত রাষ্ট্র? রুয়ান্ডার বিচারব্যবস্থা তখন পুরোপুরি বিপর্যস্ত, ১ লক্ষ ২০ হাজারের বেশি অভিযুক্তকে সামাল দেওয়ার মতো অবকাঠামো ছিল না। এর প্রেক্ষিতে ১৯৯৯ সালে গঠিত হয় National Unity and Reconciliation Commission এবং ২০০৩ সালে পুনর্জীবিত হয় Gacaca আদালত—একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ বিচারব্যবস্থা। প্রায় বিশ লাখ মামলা নিষ্পত্তি করে এই কাঠামো, যেখানে নির্বাচিত স্থানীয় বিচারকগণ ক্ষমা, স্বীকারোক্তি, এবং প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ নির্ধারণ করতেন। প্রায় ৬৫ শতাংশ মামলায় আসামীদের দোষ প্রমাণিত হয়, শাস্তি হয় কারাদণ্ড থেকে সমাজসেবা পর্যন্ত। Itorero ry’Igihugu-এর মতো আঞ্চলিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি যুবকদের মধ্যে সংস্কৃতি ও দেশপ্রেম গড়ে তোলার চেষ্টা করে, জাতিগত পরিচয়ের পরিবর্তে “বানিয়ারোয়ান্ডা” (Banyarwanda)” পরিচয়কে সামনে আনে – অর্থাৎ হুতু, তুতসি ও টওয়া সবাই এক পরিচয়ে পরিচিত হবে। এই মডেলের শক্তি ছিল এর স্থানীয়করণে। মানুষ নিজের প্রতিবেশীর সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছে, প্রতিকার পেয়েছে। কিন্তু এর দুর্বলতাও ছিল: চাপ প্রয়োগ করে স্বীকারোক্তি আদায়, অসম শাস্তি, হুতু ও টওয়া জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা উপেক্ষা করার অভিযোগ উঠেছে। কাগামে সরকারের দমনমূলক চরিত্রের কারণেও এই সত্যের প্রকাশ ও পুন:প্রতিষ্ঠার আন্তরিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তবুও, রুয়ান্ডা আজ আর্থিকভাবে সফল, রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল, যদিও গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ এখনও রয়ে গেছে।

যেমনটা বলছিলাম যদিও আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে এটি বাংলাদেশে সম্ভব নয়, আমাদের জাতিগত ভিন্নতা একই নয়, কিন্তু আমি মনে করি গভীরে আমাদের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিভেদ হুতু, তুতসি ও টওয়াদের চাইতেও ভয়ংকর ও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। তবু রুয়ান্ডার দিকে তাকালে সত্যের প্রকাশ ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে আর অবাস্তব মনে নাও হতে পারে।

ইউনুস, পঞ্চতান্ডব ও ডার্টি মাস্টারমাইন্ডদের ৭২ এর সংবিধান অনুযায়ী বিচার সম্পন্ন করার পর পুরো জাতিকে একতাবদ্ধ করার জন্য Truth and Reconciliation বা সত্যের প্রকাশ ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সেটিতে যদি আপনারা রাজি না হন, তাহলে সম্ভাব্য পরিণতি ৩টিঃ

১) বাংলাদেশে প্রতি ১০ বছর পর পর এমন আন্দোলন, ষড়যন্ত্র ও নেতৃত্ব শূন্য করার প্রক্রিয়া চলতে থাকবে যা দেশকে চিরতরে পঙ্গু করে দেবে।

২) আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ৫ অগাস্ট ২০২৪ পরবর্তী ভয়াবহ অত্যাচার-হত্যাকান্ড-নিপীড়নের প্রতিশোধ হিসেবে দেশে রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে। এবং প্রতি ১০-১৫ বছর পর পর ক্ষমতার পালাবদলের মাধ্যমে এই ঘটনা চলতে থাকবে।

৩) আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের আদর্শবাদী সমমনা দল; বিএনপি ও আদর্শবিহীন ডানপন্থী সমমনা দল; এবং জামায়েত-হেফাজত-এনসিপি ধরণের উগ্র ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলো গৃহযুদ্ধে লিপ্ত হবে এবং তাতে একেকটি গ্রুপকে আশেপাশের প্রতিবেশী দেশগুলোর সরকার, সেনাবাহিনী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন সমর্থন নিয়ে বাংলাদেশকে ন্যুনতম ৩টি স্বতন্ত্র রাষ্ট্রে পরিণত করবে; আর বাংলাদেশ থাকবে না।

ভাববেন না, এটি অসম্ভব। মাত্র ১০০ বছর আগে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯১৮ সালে গঠিত ইগোস্লাভিয়া নামক দেশটি এখন ভেঙে ৭টি দেশে পরিণত হয়েছে। দেশগুলো হচ্ছে স্লোভেনিয়া (১৯৯১), ক্রোয়েশিয়া (১৯৯১), বসনিয়া ও হার্জেগোভেনিয়া (১৯৯২), নর্থ মেসোডনিয়া (১৯৯১), সার্বিয়া (২০০৬), মন্টেনেগরো (২০০৬), এবং কসোভো (২০০৮)। নতুন ইয়োগোস্লাভিয়া গঠিত হয়েছিল ভিন্ন ভাষা, ধর্ম ও ইতিহাসসম্পন্ন ছয়টি প্রজাতন্ত্রকে নিয়ে, যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর টিটোর নেতৃত্বে একত্রে একটি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠে। টিটোর সময়ে কেন্দ্র ও প্রাদেশিক শক্তির মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকলেও, ১৯৮০ সালে তার মৃত্যু ও পরবর্তী অর্থনৈতিক সংকটে সেই ভারসাম্য ভেঙে পড়ে। সার্বিয়া যখন কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে চায়, তখন স্লোভেনিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও পরে বসনিয়া স্বাধীনতার দাবি তোলে। জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উত্তেজনায়, কিছু প্রজাতন্ত্র শান্তিপূর্ণভাবে পৃথক হলেও, অন্যদের স্বাধীনতা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয়। অবশেষে, প্রত্যেকটি প্রজাতন্ত্র তাদের নিজস্ব পরিচয়, ভাষা ও জাতীয়তাবাদ রক্ষার স্বার্থে স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

বাংলাদেশেও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মাধ্যমে খুব ধীরে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে, যা আমরা আদৌ বুঝতে পারিনি। আমাদের রাজনৈতিক প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা ও মিথ্যার সংস্কৃতি যত দিন চলবে, তত দিন আমাদের সমাজে সত্য ও ন্যায়বিচারের ভিত্তি গড়ে উঠবে না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরের ঘটনাবলি বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ঐক্য ভেঙে দেওয়ার সূচনা করেছে বলে আমি মনে করছি। আমি মনে করি জুলাই সন্ত্রাস ও অগাস্ট ষড়যন্ত্রে যারা মূল ভূমিকা রেখেছে তারা আদতে বাংলাদেশকে ভেঙে একাধিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্টের পর থেকে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট পর্যন্ত যে বাংলাদেশ সেটি কেবলই বিভাজন, ঘৃণা ও বিচ্ছেদের বাংলাদেশ। (ছবি: Facebook)

যদি এই রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় ক্ষতগুলোকে স্বীকার না করা হয়, যদি সত্যের প্রকাশ ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু না করা যায়, তবে দেশজুড়ে নানা গোষ্ঠীর মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ, বৈষম্য ও অবিচার এমন এক স্তরে পৌঁছাতে পারে যেখানে ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চল, গোষ্ঠী বা মতবাদ নিজেদের বাঁচাতে রাষ্ট্রের কাঠামো থেকেই নিজেকে পৃথক ভাবতে শুরু করতে পারে। ঠিক যেমন ইয়োগোস্লাভিয়ায় জাতিগত বিভাজন অবশেষে রাষ্ট্রেরই বিলুপ্তির পথে নিয়ে গিয়েছিল, তেমনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎও অন্ধ প্রতিহিংসার হাতে পড়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে যেতে পারে, যদি না এখন থেকেই আমরা সত্যের প্রকাশ ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাই।

শামীম আহমেদ- টরন্টো, অন্টারিও জুলাই ৮, ২০২৫

উল্লিখিত মতামত লেখকের নিজস্ব, এবং প্রতিষ্ঠানের অবস্থান বা দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করে না।

এই শাখার আরও খবর

তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীদের জন্য বাউবির দরজা সবসময় খোলা: উপাচার্য

মেলবোর্ন,০৬জুন-তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। তিনি বলেছেন, শিক্ষা…

অস্ট্রেলিয়া সিরিজে জাতীয় দলে ফিরছেন সালাউদ্দিন, কোচিং স্টাফে বড় পরিবর্তন

মেলবোর্ন,০৬জুন-আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচিং স্টাফে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোচিং স্টাফে জনবল সংকট দেখা দেওয়ায় আবারও জাতীয় দলের…

বউকে বাঁচাতে গিয়ে শাশুড়ির মৃত্যু, কটিয়াদীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল দুজনের

মেলবোর্ন,০৬জুন-কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় মর্মান্তিক বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনায় এক গৃহবধূ ও তার শাশুড়ির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের উখরাশাল গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরিবারের এক…

চার সীমান্ত দিয়ে পুশ–ইন চেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি ও স্থানীয়রা

মেলবোর্ন,০৬জুন-লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ৬০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।…

ইসরায়েলি রোগীদের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগে দুই নার্সের বিচার ঘিরে নতুন বিতর্ক

মেলবোর্ন, ৫ জুন- অস্ট্রেলিয়ার সিডনির ব্যাংকসটাউন হাসপাতালের দুই নার্স সারা আবু লেবদেহ ও আহমদ রাশাদ নাদিরের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি রোগীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বহুল আলোচিত মামলার…

আইএসআইএস-সম্পর্কিত নারী জেইনাব আহমদের জামিন শুনানিতে চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য

মেলবোর্ন, ৫ জুন- আইএসআইএস-সম্পর্কিত দাসত্ব ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত নারী জেইনাব আহমদের জামিন শুনানিতে তার চাচা আব্রাহাম আব্বাস সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএসকে ‘অশুভ’ বলে তীব্র…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au