প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি, ভারতে টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ
মেলবোর্ন, ১৭ জুন- ভারতের জাতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রতারণার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশটিতে প্রথমবারের মতো জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ…
মেলবোর্ন, ১১ জুলাই-
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও নতুন করে কঠোর বাণিজ্য নীতি ঘোষণা করেছেন। এই ঘোষণায় বলা হয়েছে, কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা বেশির ভাগ পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে ‘ব্ল্যাংকেট ট্যারিফ’ বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এই শুল্ক আরোপের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৫ সালের ১ আগস্ট থেকে। রয়টার্স ও ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, নতুন এই শুল্ক পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। ইতিমধ্যেই বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কানাডিয়ান ডলারের মান প্রায় শূন্য দশমিক তিন শতাংশ কমে গেছে, আর এশিয়া ও ইউরোপের শেয়ারবাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক ও দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতেই এ শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে ফেন্টানিল সমস্যার মতো গুরুতর ইস্যুতে কানাডার ‘যথেষ্ট উদ্যোগের অভাবকেও’ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, কানাডা যদি মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে শুল্কের হার আরও বাড়ানো হতে পারে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি এই ঘোষণাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত এবং কানাডার ব্যবসা ও শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিকর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, কানাডা সব ধরনের কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ নেবে, যাতে এ শুল্কের নেতিবাচক প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তবে ট্রাম্পের ভাষায়, যদি কানাডা কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে তিনি শুল্ক আরও বাড়াবেন এবং শুধু কানাডা নয়, আরও অনেক দেশের ওপরও নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন।
নতুন এই পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, কানাডা থেকে আমদানি করা তেল, গ্যাস ও সারজাতীয় পণ্যগুলোর ওপর আগের মতোই ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল রাখা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বাকি যেসব পণ্য ‘ইউএসএমসিএ’ (যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি) এর আওতায় বিশেষ সুবিধা পায়, সেগুলো আংশিক বা পুরোপুরি শুল্কের বাইরে থাকতে পারে।
বিশ্বের অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রে ট্রাম্প ‘ব্ল্যাংকেট ট্যারিফ’ পদ্ধতিতে একসঙ্গে ১৫–২০ শতাংশ শুল্ক বসানোর পরিকল্পনা করেছেন। এর ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিতে পারে, পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারা সরাসরি চাপে পড়বেন এবং মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হতে পারে।
ট্রাম্পের এই শুল্ক আরোপের প্রস্তাব তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিরই সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই নীতির মূল কথা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরের শিল্প ও কর্মসংস্থানকে রক্ষা করা এবং বিদেশি প্রতিযোগিতা কমানো। তবে সমালোচকরা বলছেন, এর ফলে আমদানি ব্যয় বাড়বে, পণ্যের দাম বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ ভোক্তাই।
বর্তমানে ট্রাম্প ও তার অর্থনৈতিক টিম এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর কংগ্রেস ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে মতামত জানাচ্ছেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণার ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে বাণিজ্য নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই শুল্ক পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলে শুধু কানাডা নয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক জটিল হতে পারে। ফলে উত্তর আমেরিকার অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপর এর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au