সমাধানের পথ নেই, বাংলাদেশের সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতি
মেলবোর্ন, ০৭ মার্চ- ইরানের সাথে ইসরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের যুদ্ধে বাংলাদেশ নেই। কিন্তু সেই যুদ্ধের রেশ সবচেয়ে বেশি যেসব দেশে পড়েছে বাংলাদেশ তার…
মেলবোর্ন, ১৭ জুলাই-
ময়মনসিংহ শহরের হরিকিশোর রায় রোডে অবস্থিত ২০০ বছরের পুরোনো একটি ভবনকে ঘিরে বিতর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। বিভিন্ন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়িটিকে কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষদের স্মৃতিবিজড়িত বলে প্রচারিত হলে, বাড়িটির ভাঙার কাজ আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনের নির্দেশে বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেলে স্থানীয় ইতিহাসবিদ, গবেষক, সংস্কৃতিসেবী ও প্রবীণ নাগরিকদের নিয়ে এক আলোচনা সভা বসে। আলোচিত বাড়িটি সংরক্ষণ বিষয়ে সর্বসম্মত মত দেন সকলে।
তবে গবেষক স্বপন ধর ও সংস্কৃতিজন ইয়াজদানী কোরাইশীর বক্তব্যে পরিষ্কার হয়ে ওঠে, এ বাড়ির সঙ্গে সত্যজিৎ রায়ের পরিবারের কোনো সম্পর্ক নেই। গবেষক স্বপন ধর দাবি করেন, এটি মূলত টাঙ্গাইলের প্রখ্যাত দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার লিজ নেয়া বাড়ি, যেটি তার ম্যানেজারের বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তিনি আরও জানান, জার্মানির একটি গবেষণা সংস্থাও বাড়িটিকে “বি ক্যাটাগরি” ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করেছে—যা আন্তর্জাতিক নিয়মে সংরক্ষণের আওতাভুক্ত।
জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম বলেন, “বাড়িটি নিয়ে দেশে-বিদেশে সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে যে এটি সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষদের বাড়ি। অথচ সিএস, এসএ, আরএস রেকর্ডে এমন কোনো তথ্য নেই। ২০০৮ সালে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে শিশু একাডেমিকে জায়গাটি বরাদ্দ দেওয়া হয়। নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন ভবন নির্মাণের অংশ হিসেবে ভাঙার কাজ চলছিল। কিন্তু বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর আমরা ১৫ জুলাই থেকে ভাঙার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি।”
সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব ইয়াজদানী কোরাইশী বলেন, “ত্রিশ বছর ধরে এই বাড়ি জেলা শিশু একাডেমির কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। এটি পরিত্যক্ত ভবন হিসেবে চিহ্নিত ছিল। কিন্তু এখন অনেকেই না জেনে বাড়িটিকে সত্যজিৎ রায়ের বলে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এমনকি প্রতিবেশী দেশের এক প্রভাবশালী মন্ত্রীও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।”
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজ খান জানান, “বাড়িটির অনেকটাই ইতিমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে মাঠ কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছি। তাঁর প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মেহেদী জামান বলেন, “জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বাড়িটি ভাঙার কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। বিকেলে বিষয়টি নিয়ে যে সভা হয়েছে, সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে—পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত কোনো ভাঙার কাজ চলবে না।”
স্থানীয়দের দাবি, এই ভবন একসময় জমিদারদের কোনো কর্মচারীর বাসস্থান ছিল। পরে রণদা প্রসাদ সাহা এটি ইংরেজদের কাছ থেকে কেনা বিদ্যুৎকেন্দ্র ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে লিজ নিয়ে তার নিযুক্ত ম্যানেজারকে দিয়েছিলেন। জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পর ভবনটি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে সরকারের অধীনে আসে এবং শিশুবিষয়ক কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতে থাকে।
এই বাড়িকে ঘিরে সত্যজিৎ রায়ের নাম জড়িয়ে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, তা এখন ঐতিহাসিক সত্য যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে। তবে সর্বস্তরের দাবির মুখে বাড়িটি পূর্বের আদলে সংস্কার করে ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণের বিষয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au