নিহত চারজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলেও তাঁদের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত হয়নি। ছবিঃ নিহত ৪জন (সংগৃহীত)
মেলবোর্ন, ১৮ জুলাই-
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিতে নিহত চারজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলেও তাঁদের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত হয়নি। নিহতদের ইতিমধ্যে দাফন ও সৎকার সম্পন্ন হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয়রা। তবে এ নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
নিহত চারজন হলেন:
• দীপ্ত সাহা (৩০), শহরের উদয়ন রোডের বাসিন্দা ও পোশাক ব্যবসায়ী
• রমজান কাজী (১৭), কোটালীপাড়ার হরিণাহাটি গ্রামের বাসিন্দা ও টাইলস মিস্ত্রির সহকারী
• সোহেল মোল্লা (৩৫), শহরের শানাপাড়া এলাকার মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী
• ইমন তালুকদার, সদর উপজেলার ভেড়ার বাজার এলাকার বাসিন্দা ও ক্রোকারিজ দোকানের কর্মচারী
বুধবার রাতে দীপ্ত সাহাকে শহরের পৌর শ্মশানে সৎকার করা হয়। রমজান কাজীর জানাজা ও দাফন হয় রাতেই। সোহেল মোল্লা ও ইমন তালুকদারকে বৃহস্পতিবার সকালে দাফন করা হয়েছে।
তবে নিহতদের ময়নাতদন্ত না হওয়া এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো কাগজ ছাড়াই লাশ হস্তান্তর নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। নিহত সোহেল মোল্লার মামা জাহিদুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “সোহেল গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে—এটা মোবাইলে জানতে পারি। কিন্তু হাসপাতালে কোনো ডেথ সার্টিফিকেট বা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।”
রমজান কাজীর চাচা মনিরুজ্জামান জানান, রমজান শহরের মধ্য দিয়ে হেঁটে কাজে যাওয়ার সময় সংঘর্ষের মাঝে পড়ে গুলিবিদ্ধ হন। রাতেই লাশ স্বজনদের বুঝিয়ে দেওয়া হয় এবং দাফন সম্পন্ন হয়।
দীপ্ত সাহার মৃত্যুর বিষয়েও এমনই অভিযোগ করেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। সংঘর্ষের সময় দোকান থেকে বাসায় ফেরার পথে গুলিতে তিনি নিহত হন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে নিহতদের ময়নাতদন্ত না করার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, “বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় পরবর্তী সময়ে দেখা হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন হয়ত পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার ভয়ে ময়নাতদন্ত না করেই দ্রুত লাশ হস্তান্তর করেছে। তবে এতে স্বচ্ছতা ও বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলেও তারা মনে করছেন।