গণমাধ্যমে তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ৫০ মার্কিন কর্মকর্তার লাই ডিটেক্টর পরীক্ষা
মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট স্টাফের প্রায় ৫০ জন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তার পলিগ্রাফ বা লাই ডিটেক্টর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে অননুমোদিত সামরিক তথ্য ফাঁসের…
ইউক্রেন সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো সফর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। তারা ক্রেমলিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে একটি সম্ভাব্য শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ও আলোচনায় আসে।
বৈঠক শেষে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে আলোচনাকে গঠনমূলক ও খোলামেলা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। রাশিয়ার জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ইউরি উশাকভ জানান, বৈঠকে সংঘাতের মূল কারণগুলো সমাধানের সম্ভাব্য পথ এবং যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকের সময় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ট্রাম্পের প্রতিনিধিদের ওপর তার আস্থার কথাও জানান।
মস্কো বৈঠকের পর মার্কিন প্রতিনিধিদের ইউক্রেন সফরের পথ সহজ করতে একটি সীমিত সময়ের সামরিক বিরতির নির্দেশ দিয়েছেন পুতিন। কিয়েভ শহরে আগামী তিন দিনের জন্য ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই সিদ্ধান্ত পুরো ইউক্রেনের জন্য প্রযোজ্য নয়।
মস্কো থেকে মার্কিন প্রতিনিধিরা ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটিই তাদের প্রথম কিয়েভ সফর। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মার্কিন প্রতিনিধিদের স্বাগত জানিয়েছেন। একই সময়ে ইউক্রেনও তিন দিনের জন্য মস্কোয় কোনো হামলা চালাবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে।
তবে কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যেও যুদ্ধ পুরোপুরি থেমে নেই। মার্কিন প্রতিনিধিদের মস্কো সফরের আগে রুশ বাহিনী কিয়েভ ও বোরিসপিল বিমানবন্দর এলাকায় হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। দনিপ্রো অঞ্চলের বেসামরিক এলাকাতেও হামলায় প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
বর্তমানে ইউক্রেন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেপণাস্ত্রের সংকটে রয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করছে। যুদ্ধের ভবিষ্যৎ, নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ড এবং আকাশসীমা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।
এর মধ্যেও ওয়াশিংটন, মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে ধারাবাহিক যোগাযোগকে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক তৎপরতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে শান্তি আলোচনায় বাস্তব অগ্রগতি কতটা হবে, তা নির্ভর করবে যুদ্ধ বন্ধ, ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সমঝোতা কতটা সম্ভব হয় তার ওপর।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au