অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ, রাস্তাঘাটে মানুষজনের উপস্থিতিও ছিল খুব কম। ছবিঃ ঢাকা পোস্ট
মেলবোর্ন, ১৯ জুলাই-
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনার পরপরই শহরে কারফিউ জারি করা হয়।
শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১৪ ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল করা হলেও শহরজুড়ে এখনো আতঙ্কের ছায়া রয়ে গেছে। অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ, রাস্তাঘাটে মানুষজনের উপস্থিতিও ছিল খুব কম।
লঞ্চঘাট, চৌরঙ্গী, বটতলা, কালিবাড়ী, বিসিকসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির মধ্যেও দোকানপাট বন্ধ এবং লোকজনের চলাফেরা সীমিত। জরুরি প্রয়োজনে যারা বের হয়েছেন, তাদের মধ্যে অধিকাংশই দিনমজুর বা শ্রমজীবী মানুষ। অনেকে আশঙ্কায় রয়েছেন যে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।
লঞ্চঘাট এলাকায় কথা হয় লিমন নামের এক যুবকের সঙ্গে। তিনি বলেন, জরুরি কাজে বের হলেও আতঙ্ক কাটছে না। অনেকেই গত রাতের পুলিশি অভিযানের পর ঘরছাড়া। শহরের এক প্রান্তে থাকা সুরুজ নামে এক বৃদ্ধ জানান, বাজার করতে এসেছেন বটে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে ভয় কাজ করছে। ইজিবাইক চালক মাহমুদ মিয়া বলেন, তিন দিন ধরে আয় নেই, আজ কারফিউ নেই জেনে আশাবাদী ছিলেন, কিন্তু যাত্রী না থাকায় ইনকামও নেই।
শহরের বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি স্পষ্ট, বিশেষ করে লঞ্চঘাট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ড. রুহুল আমিন সরাসরি নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেকটাই স্বাভাবিক। সাধারণ মানুষ বাইরে বের হচ্ছেন, তবে অভিযানের সময় নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন সে বিষয়ে খেয়াল রাখা হচ্ছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনমনে যে ভয়ের সৃষ্টি হয়েছে, তা কেবল প্রশাসনিক তৎপরতা দিয়ে নয়, বরং আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার মাধ্যমেই কাটানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।