‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন ২৩ জুলাই- ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে শুরু করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট—সবখানে যেন এখন শুধুই হাহাকার, কান্না আর ব্যথার প্রতিচ্ছবি। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্বজনহারাদের ভিড়, অ্যাম্বুলেন্সের গতি কমে যাওয়া, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ঢল, মিডিয়ার ভিড়, নিরাপত্তাকর্মীদের গর্জন—সব মিলিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে এক প্রকার অচল করে তুলেছে। যেন একটি হাসপাতাল নয়, কোন যুদ্ধক্ষেত্রের অবস্থা। অথচ এ সময় দরকার ছিল শৃঙ্খলা, সমন্বয় এবং সর্বোচ্চ মানবিক সহানুভূতি।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই মানবিক সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে ২১ জুলাইয়ের সেই হৃদয়বিদারক বিমান দুর্ঘটনা। মাইলস্টোন স্কুলে চলাকালীন ক্লাস, যেখানে শিশুরা খেলছিল, পড়ছিল, ঠিক তখনই বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ে শিক্ষার্থীদের ভবনে। চোখের পলকে শিশুরা পরিণত হলো আগুনে ঝলসে যাওয়া দগ্ধ দেহে। ক্লাসরুম ছাই হয়ে গেল। এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৩২ জন এবং আহত ১৬৫ জনেরও বেশি।এই বেদনাদায়ক ঘটনা শুধু পরিবারগুলোর নয়, সমগ্র জাতির এক গভীর ট্রমা। যারা প্রত্যক্ষ করেছে তারা তো বটেই, এমনকি টেলিভিশনে, সামাজিক মাধ্যমে যারা এই বিভীষিকা দেখছে, তারাও কমবেশি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। এই ঘটনায় শুধু ক্ষোভ আর শোকের মধ্যেই থেমে থাকলে চলবে না; প্রয়োজন দায়িত্বশীল ও টেকসই পদক্ষেপ।
প্রথমত, প্রশ্ন উঠছে—কীভাবে একটি বেসামরিক স্কুল ভবনের পাশে, যেখানে প্রতিদিন শতশত শিশু আসে-যায়, সেখানে প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান চালানো হয়? সভ্য কোন দেশে বিমান ওঠানামার পথে স্কুল বা জনসমাগমপূর্ণ স্থাপনা তৈরি অনুমোদিত হয় না। তাহলে বাংলাদেশে কীভাবে এমন অনুমোদন মিলেছে? কে দিয়েছে? কার স্বার্থে?
দ্বিতীয়ত, দুর্ঘটনার পর যেভাবে ‘দলবল’ নিয়ে রাজনৈতিক নেতারা হাসপাতালে ছুটে গেছেন, পরিস্থিতিকে করেছেন আরও জটিল—তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটা যেন এক ধরনের ‘দেখানোর প্রতিযোগিতা’। অথচ এই সময় প্রয়োজন ছিল রোগীদের শান্ত পরিবেশ, দ্রুত চিকিৎসা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা। রাজনৈতিক শোক-সংহতির নামে হাসপাতালের দরজা-জানালায় ভিড় করে কার কী লাভ হয়? এটি কেবল স্বেচ্ছাসেবক ও চিকিৎসকদের কাজকে আরও কঠিন করে তোলে।তৃতীয়ত, এখন প্রয়োজন একটি সমন্বিত ট্রমা ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি। ক্ষতিগ্রস্ত শিশু ও পরিবারগুলোর মানসিক পুনর্বাসন নিশ্চিত না হলে এ ক্ষত বহু বছর থেকে যাবে। শিশুদের মনে গেঁথে থাকা দুঃস্বপ্ন দূর করতে মনোবিজ্ঞানীদের দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রয়োজন।সরকারের পক্ষ থেকে এখনই জাতির সামনে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে—এ ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে আর কখনও ঘটবে না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—প্রশাসনের সর্বস্তরে ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। নিরাপত্তা ও মানবিকতা কখনোই দুর্নীতির কাছে মাথা নত করতে পারে না।এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল—আমরা কতটা অনিরাপদ, কতটা অব্যবস্থাপনার মধ্যে বসবাস করছি। এই দুঃখ, এই কান্না, এই মৃত্যুর প্রতিধ্বনি যেন ভবিষ্যতের নিরাপত্তা সংস্কৃতির শুরু হয়—এই হোক জাতির অঙ্গীকার।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au