মতামত

মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা ও জাতীয় আত্মজিজ্ঞাসা

  • 11:03 pm - July 23, 2025
  • পঠিত হয়েছে:২১৬ বার
ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান (ফাইটার এফ-৭) বিধ্বস্ত। ছবি: সংগৃহীত

মেলবোর্ন ২৩ জুলাই- ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে শুরু করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট—সবখানে যেন এখন শুধুই হাহাকার, কান্না আর ব্যথার প্রতিচ্ছবি। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্বজনহারাদের ভিড়, অ্যাম্বুলেন্সের গতি কমে যাওয়া, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ঢল, মিডিয়ার ভিড়, নিরাপত্তাকর্মীদের গর্জন—সব মিলিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে এক প্রকার অচল করে তুলেছে। যেন একটি হাসপাতাল নয়, কোন যুদ্ধক্ষেত্রের অবস্থা। অথচ এ সময় দরকার ছিল শৃঙ্খলা, সমন্বয় এবং সর্বোচ্চ মানবিক সহানুভূতি।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই মানবিক সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে ২১ জুলাইয়ের সেই হৃদয়বিদারক বিমান দুর্ঘটনা। মাইলস্টোন স্কুলে চলাকালীন ক্লাস, যেখানে শিশুরা খেলছিল, পড়ছিল, ঠিক তখনই বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ে শিক্ষার্থীদের ভবনে। চোখের পলকে শিশুরা পরিণত হলো আগুনে ঝলসে যাওয়া দগ্ধ দেহে। ক্লাসরুম ছাই হয়ে গেল। এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৩২ জন এবং আহত ১৬৫ জনেরও বেশি।এই বেদনাদায়ক ঘটনা শুধু পরিবারগুলোর নয়, সমগ্র জাতির এক গভীর ট্রমা। যারা প্রত্যক্ষ করেছে তারা তো বটেই, এমনকি টেলিভিশনে, সামাজিক মাধ্যমে যারা এই বিভীষিকা দেখছে, তারাও কমবেশি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। এই ঘটনায় শুধু ক্ষোভ আর শোকের মধ্যেই থেমে থাকলে চলবে না; প্রয়োজন দায়িত্বশীল ও টেকসই পদক্ষেপ।

প্রথমত, প্রশ্ন উঠছে—কীভাবে একটি বেসামরিক স্কুল ভবনের পাশে, যেখানে প্রতিদিন শতশত শিশু আসে-যায়, সেখানে প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান চালানো হয়? সভ্য কোন দেশে বিমান ওঠানামার পথে স্কুল বা জনসমাগমপূর্ণ স্থাপনা তৈরি অনুমোদিত হয় না। তাহলে বাংলাদেশে কীভাবে এমন অনুমোদন মিলেছে? কে দিয়েছে? কার স্বার্থে?

দ্বিতীয়ত, দুর্ঘটনার পর যেভাবে ‘দলবল’ নিয়ে রাজনৈতিক নেতারা হাসপাতালে ছুটে গেছেন, পরিস্থিতিকে করেছেন আরও জটিল—তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটা যেন এক ধরনের ‘দেখানোর প্রতিযোগিতা’। অথচ এই সময় প্রয়োজন ছিল রোগীদের শান্ত পরিবেশ, দ্রুত চিকিৎসা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা। রাজনৈতিক শোক-সংহতির নামে হাসপাতালের দরজা-জানালায় ভিড় করে কার কী লাভ হয়? এটি কেবল স্বেচ্ছাসেবক ও চিকিৎসকদের কাজকে আরও কঠিন করে তোলে।তৃতীয়ত, এখন প্রয়োজন একটি সমন্বিত ট্রমা ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি। ক্ষতিগ্রস্ত শিশু ও পরিবারগুলোর মানসিক পুনর্বাসন নিশ্চিত না হলে এ ক্ষত বহু বছর থেকে যাবে। শিশুদের মনে গেঁথে থাকা দুঃস্বপ্ন দূর করতে মনোবিজ্ঞানীদের দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রয়োজন।সরকারের পক্ষ থেকে এখনই জাতির সামনে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে—এ ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে আর কখনও ঘটবে না।

  • যুদ্ধবিমান বা অন্য কোনও ঝুঁকিপূর্ণ প্রশিক্ষণ যেন স্কুল, হাসপাতাল বা জনবহুল এলাকায় না হয়।
  • জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প প্রশিক্ষণ রানওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে।
  • দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—প্রশাসনের সর্বস্তরে ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। নিরাপত্তা ও মানবিকতা কখনোই দুর্নীতির কাছে মাথা নত করতে পারে না।এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল—আমরা কতটা অনিরাপদ, কতটা অব্যবস্থাপনার মধ্যে বসবাস করছি। এই দুঃখ, এই কান্না, এই মৃত্যুর প্রতিধ্বনি যেন ভবিষ্যতের নিরাপত্তা সংস্কৃতির শুরু হয়—এই হোক জাতির অঙ্গীকার।

এই শাখার আরও খবর

মাগুরায় নিহত যুবদল নেতার মাথার ভেতরে মিলল গুলি

ওটিএন বাংলা ডেস্ক : মাগুরা পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাকের হোসেনের মাথা থেকে একটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে মাগুরা ২৫০…

পরিবারের দাবি, ফাঁসানো হয়েছে : চুম্বনের দাবিও নিশ্চিত নয়

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় অভিযোগ, আদালতের রায় এবং বাংলাদেশকে আগে অবহিত না করার কারণ জানতে চেয়েছে…

এবার জার্মানিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক শিক্ষার্থীদের

  জার্মানিতে শিক্ষা ও সামাজিক খাতে ব্যয় সংকোচন, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের পরিকল্পনার প্রতিবাদে আগামী ৩১ অক্টোবর দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন শিক্ষার্থী…

বিজয়া দশমীতে সিঁদুরের রঙে আনন্দ, দেবী বিদায়ে বিষাদ

ওটিএন বাংলা ডেস্ক :  ছয় দিনের পূজা-অর্চনা শেষে বিদায়ের পালা দেবী দুর্গার। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শেষ অর্ঘ্য নিবেদন, দর্পণ বিসর্জন ও ঘট বিসর্জনের মধ্য…

‘পাপের লাশ দেশে আসুক চাই না’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন বিএনপির এমপি

সৌদি আরবে শিরশ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিরোধিতা করে ‘পাপের লাশ দেশে আসুক চাই না’ মন্তব্য করেছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের…

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কি ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে?

সামরিক কৌশল, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে একসঙ্গে চাপে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাত, আঞ্চলিক মিত্রদের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au