সমাধানের পথ নেই, বাংলাদেশের সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতি
মেলবোর্ন, ০৭ মার্চ- ইরানের সাথে ইসরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের যুদ্ধে বাংলাদেশ নেই। কিন্তু সেই যুদ্ধের রেশ সবচেয়ে বেশি যেসব দেশে পড়েছে বাংলাদেশ তার…
মেলবোর্ন ৭ মার্চ: অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সেই উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে এখন দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থপাচার এবং অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ জমা পড়ছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। অভিযোগের সংখ্যা এবং প্রকৃতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—দেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে যাদের ওপর আস্থা রেখে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তারা কি সেই আস্থার সুযোগ নিয়ে ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করেছেন?
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গত কয়েক সপ্তাহে দুদকে শত শত লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে সাবেক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে। অভিযোগের তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
দুদক সূত্রের দাবি, তার বিরুদ্ধে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগকারীদের একটি বড় অংশ সরাসরি ভুক্তভোগী, যারা নিজেদের নাম-ঠিকানা উল্লেখ করে ঘুষ লেনদেন, টেন্ডার অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে ধরেছেন। অনেক অভিযোগের সঙ্গে নথি ও প্রাথমিক প্রমাণও যুক্ত করা হয়েছে।
দুর্নীতির এই অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখছে রাষ্ট্রের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাও। এরই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU) সম্প্রতি দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠিয়ে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তার এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই তদন্তের অংশ হিসেবে গত কয়েক বছরের লেনদেনের রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
তবে অনেক বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছেন, দুর্নীতির অর্থ কি কখনো সরাসরি ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখা হয়? আর্থিক অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ধরনের দুর্নীতির অর্থ সাধারণত বিভিন্ন স্তরের মাধ্যমে ঘুরিয়ে লেনদেন করা হয়, যাতে সরাসরি প্রমাণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণেই আন্তর্জাতিক তদন্তে এখন ক্রিপ্টোকারেন্সি, অফশোর কোম্পানি এবং তৃতীয় পক্ষের আর্থিক লেনদেন বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হয়।
তবে অভিযোগ উঠেছে, দুর্নীতির অর্থ সবসময় প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে লেনদেন করা হয় না। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আধুনিক আর্থিক অপরাধের ক্ষেত্রে প্রায়ই অফশোর অ্যাকাউন্ট, তৃতীয় পক্ষের নাম ব্যবহার কিংবা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করা হয়ে থাকে। এ কারণে শুধুমাত্র ব্যাংক হিসাব বিশ্লেষণ করলেই প্রকৃত অর্থের উৎস ও গন্তব্য সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা পাওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্ত, আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্র্যাকিং জরুরি হয়ে উঠতে পারে।

মোয়াজ্জেম হোসেন ও তুহিন ফারাবী। ছবি: সংগৃহীত (দৈনিক ইত্তেফাক)
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার একান্ত সহকারী (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডারবাজি এবং বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের চাপ এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে উপদেষ্টা থাকা অবস্থাতেই তাকে পদ থেকে অপসারণ করতে হয়েছিল। দুদক এখন সেই অভিযোগগুলোরও তদন্ত করছে।
২৪ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দৈনিক ইত্তেফাক জানায়, সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কাজে প্রভাব খাটিয়ে তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (ছাত্র প্রতিনিধি) তুহিন ফারাবি এবং ডা. মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধেও। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা বিভিন্ন প্রশাসনিক ও পেশাগত বিষয়ে তদবিরের মাধ্যমে সুবিধা আদান–প্রদানের একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন।
সংশ্লিষ্ট অভিযোগে বলা হয়েছে, তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে এবং ফ্যাসিবাদের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত কিছু চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অর্থের বিনিময়ে পুনর্বাসনে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে আলোচনায় এসেছে আরও কিছু অস্বাভাবিক আর্থিক তথ্য। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর নথি অনুযায়ী, সাবেক উপদেষ্টার এপিএসের গাড়িচালকের ভাই ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তার আয়কর রিটার্নে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার আয় দেখিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই আয় তার পেশা বা আর্থিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং বিষয়টি গভীর তদন্তের দাবি রাখে।
অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অযৌক্তিকভাবে ব্যয় বৃদ্ধি করেছেন এবং নিজের এলাকার জন্য অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। উপজেলা পর্যায়ে মিনি-স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির অভিযোগও তদন্তের আওতায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে।
বার্লিনভিত্তিক আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের এক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে দুর্নীতির অর্থ লুকিয়ে রাখার অন্তত পাঁচটি নিরাপদ উপায় এখন প্রচলিত রয়েছে। গবেষণাটি বলছে, বিটকয়েনসহ বিভিন্ন ধরনের সাইবার মুদ্রা বিশ্বজুড়ে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং দুর্নীতির অর্থ স্থানান্তর বা গোপন রাখার ক্ষেত্রেও এসবের ব্যবহার বাড়ছে। একই সঙ্গে কালোটাকা সাদা করার উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক পরিসরে বহু প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, যাদের কার্যক্রম দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে।
এছাড়া তার সুপারিশে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধেও তহবিল তছরুফসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দুদক ইতোমধ্যে এই অভিযোগগুলোর তদন্ত শুরু করেছে এবং ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষও নিজস্ব তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিভিন্ন মহলে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার পর অবশেষে বাতিল করা হয়েছিল তৎকালীন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বাবা বিল্লাল হোসেনের ঠিকাদারি লাইসেন্স। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, ক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিবারের সদস্য কীভাবে সরকারি ঠিকাদারি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন।
অন্যদিকে অনুসন্ধানে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে অর্থপাচার নিয়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে, গত প্রায় ১৬ মাসে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে উপার্জিত প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী এই অর্থের একটি অংশ দুবাই, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড এবং সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিটকয়েনসহ বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।

রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। ছবি: এনসিপির সৌজন্যে
এসব অভিযোগের মুখে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নিজেই সংবাদ সম্মেলন করে নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তার স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রয়েছে মাত্র ৬১৩ টাকা, মায়ের অ্যাকাউন্টে ২১ হাজার টাকার কিছু বেশি এবং বাবার অ্যাকাউন্টে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা। নিজের দুটি ব্যাংক হিসাব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে নয় লাখ টাকা থাকার কথাও তিনি জানিয়েছেন।
তবে অনেক বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছেন, দুর্নীতির অর্থ কি কখনো সরাসরি ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখা হয়? আর্থিক অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ধরনের দুর্নীতির অর্থ সাধারণত বিভিন্ন স্তরের মাধ্যমে ঘুরিয়ে লেনদেন করা হয়, যাতে সরাসরি প্রমাণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণেই আন্তর্জাতিক তদন্তে এখন ক্রিপ্টোকারেন্সি, অফশোর কোম্পানি এবং তৃতীয় পক্ষের আর্থিক লেনদেন বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হয়।
আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলবের ঘটনার পর ৪ মার্চ সাবেক এই ছাত্র উপদেষ্টা একটি সংবাদ সম্মেলন করেন এবং সেখানে তাঁর ব্যাংক সংক্রান্ত সব তথ্য প্রকাশ্যে তুলে ধরেন। সাধারণভাবে একজন ব্যক্তি ব্যাংকে নিজের বৈধভাবে অর্জিত অর্থই জমা রাখেন। অবৈধ উপায়ে বা দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ মানুষ সচরাচর ব্যাংকে রাখে না, কারণ সেই অর্থ গোপন রাখার জন্য বর্তমানে নানা বিকল্প পথ ও ব্যবস্থা রয়েছে।
বার্লিনভিত্তিক আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের এক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে দুর্নীতির অর্থ লুকিয়ে রাখার অন্তত পাঁচটি নিরাপদ উপায় এখন প্রচলিত রয়েছে। গবেষণাটি বলছে, বিটকয়েনসহ বিভিন্ন ধরনের সাইবার মুদ্রা বিশ্বজুড়ে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং দুর্নীতির অর্থ স্থানান্তর বা গোপন রাখার ক্ষেত্রেও এসবের ব্যবহার বাড়ছে। একই সঙ্গে কালোটাকা সাদা করার উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক পরিসরে বহু প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, যাদের কার্যক্রম দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে।
বিশেষ করে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে শতাধিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা বিনিয়োগের আড়ালে অবৈধ অর্থ বৈধ করার সুযোগ করে দেয়। এছাড়া কিছু করস্বর্গ (ট্যাক্স হ্যাভেন) দেশ রয়েছে যেখানে অর্থ পাঠানো হলে তা নিয়ে সাধারণত প্রশ্ন তোলা হয় না। এসব দ্বীপরাষ্ট্রে অর্থ স্থানান্তরের জন্য বিভিন্ন দেশে এখন মধ্যস্থতাকারী বা এজেন্টও তৈরি হয়েছে। দুর্নীতি নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপুল অঙ্কের অর্থ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বৈধ রূপ পেয়ে যেতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতিতে অবৈধ বা কালোটাকার প্রবাহ বাড়তে থাকায় প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থাও অনেক ক্ষেত্রে চাপে পড়ছে।
বাংলাদেশের তদন্তকারী সংস্থাগুলো, বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউ (বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট), এসব প্রবণতা সম্পর্কে অবগত বলেই ধারণা করা হয়। তবুও প্রশ্ন ওঠে, কেন এ ধরনের সংস্থা ব্যাংক হিসাব তলব বা জব্দ করার পদক্ষেপ নেয়। বাংলাদেশে বর্তমানে ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ডিজিটাল হওয়ায় একটি হিসাব খোলা থেকে শুরু করে সব ধরনের লেনদেনের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে কোনো সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারে। এ পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ব্যাংক হিসাব তলবের বিষয়টি কতটা প্রয়োজনীয় এবং এর পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেছেন, দুর্নীতির অভিযোগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা জরুরি। তার মতে, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় এনে আইনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কারণ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখা যাবে না।
রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনই মন্তব্য করা ঠিক হবে না; আগে তদন্তে কী বেরিয়ে আসে তা দেখতে হবে।

সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ, তদন্তে নামছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো। ছবি:সংগৃহীত
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভিযোগগুলো শুধু ব্যক্তিগত দুর্নীতির প্রশ্ন নয়; এটি রাষ্ট্রের জবাবদিহি এবং আইনের শাসনের প্রশ্নও। ক্ষমতায় থাকা বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়া কোনো ব্যক্তির জন্য আইনের বাইরে থাকার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে না। বরং অভিযোগ যত বড়, তদন্তও তত গভীর ও স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন।
এর আগে যুগান্তর পত্রিকায় ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক দুই উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পরও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাদিম মাহমুদ অভিযোগ করেন, এত অভিযোগ সামনে আসার পরও তদন্ত বা আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির। তিনি শুধু অভিযোগই তোলেননি, বরং এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচার নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন।
ছাত্রদলের আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অবশ্যই তদন্তের আওতায় আনতে হবে এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমেই সেই তদন্ত হওয়া উচিত। তার মতে, অভিযোগের সত্যতা থাকলে সেই দুর্নীতির বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হওয়া প্রয়োজন।
নাছির উদ্দিন নাছির আরও দাবি করেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ এখন দেশের মানুষের কাছে “ওপেন সিক্রেট”-এ পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের সময় আসিফ মাহমুদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তবে সেই আন্দোলনের পর রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে গিয়ে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থের দুর্নীতি করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) পলিটব্যুরো সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, “যখন সরকারপ্রধান ক্ষমতার সুযোগ নিয়ে নিজের স্বার্থে দুর্নীতির আশ্রয় নেন, তখন সরকারের অন্য সদস্যদেরও এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ানো অস্বাভাবিক নয়। অভিযোগ রয়েছে, তারা গত ১৮ মাসে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
পরবর্তী পর্বের জন্য চোখ রাখুন ওটিএন বাংলায়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au