পেলেটে ঝাঁঝরা মুখ, তবু অনুশোচনা নেই: হাসপাতাল থেকেই যন্তর মন্তরে ফেরার ঘোষণা
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনায় আহত হয়েও আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন ২৫ বছর…
মেলবোর্ন, ৩১ জুলাই- বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে খুব শিগগিরই ঘোষণা আসবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে আইন মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, “নির্বাচনের সময় তো… জাস্ট ওয়েট করেন, কিছুদিনের মধ্যেই ঘোষণা শুনবেন।” তিনি আরও বলেন, “ভোট দিতে সবাই পারবেন। আমাদের কোনো উদ্যোগ নেই, যা নেওয়া হচ্ছে না। ১৮ বছর ধরে আমরা ভোট দিতে পারিনি, সেই দুঃখ এবার ঘুচবে।”
২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় মন্তব্য করে আসিফ নজরুল বলেন, “অনেক সাংবাদিক কাজ করছেন, ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে আসবে ওই নির্বাচন নিয়ে। ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ আছে, আমি দ্বিমত করি না।”
নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হলেও সরকারের সদিচ্ছার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের ইচ্ছা, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো একটি নির্বাচন দেওয়া। এটা স্যার (প্রধান উপদেষ্টা) আমাদের বারবার বলেন।”
অপরদিকে, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “আগামী পাঁচ-ছয় দিনের মধ্যে আমরা বুঝতে পারব, আমরা কোথায় যাচ্ছি। তবে যা-ই ঘটুক না কেন, নির্বাচনে দেরি হবে না। প্রধান উপদেষ্টা এ বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানে আছেন।”
বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত সংলাপে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, “সরকারের জন্য সামনের কয়েকটি দিন কঠিন হতে পারে, কিন্তু দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঝুঁকির মধ্যে নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে।”
সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন শফিকুল আলম। তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এবারের নির্বাচন সবচেয়ে নিরপেক্ষ ও সহিংসতামুক্ত (‘জিরো ভায়োলেন্স’) হবে। কিছু রাজনৈতিক দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকলেও নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে না।”
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “সরকার একটি ঝুঁকিপূর্ণ অর্থনীতি থেকে দেশকে পুনরুদ্ধার করেছে। মুদ্রাস্ফীতি কমছে, রিজার্ভ বাড়ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল। পুলিশের মনোবলও ধীরে ধীরে বাড়ছে।”
বৈদেশিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, “পূর্ববর্তী সরকার তাদের পররাষ্ট্রনীতি বিদেশিদের কাছে বন্ধক দিয়েছিল। বর্তমান সরকার ভারতসহ সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে।”
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে তিনি দাবি করেন, “সরকারের সময় সাংবাদিকরা অবাধে কাজ করতে পারছেন। সমালোচনা করে সাংবাদিকতা করতেও কাউকে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। যদি কেউ সমস্যায় পড়েন, তিনি আমাকে জানাতে পারেন।”
তবে গণমাধ্যমের স্বচ্ছতা নিয়ে তিনি বলেন, “যেসব গণমাধ্যম কর্মীদের বেতন দিতে পারে না, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া উচিত। কারণ এসব প্রতিষ্ঠানই বেশি ভুল ও অপতথ্য ছড়ায়।”
চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক তহবিলের স্বচ্ছতা নিয়ে শফিকুল আলম বলেন, “চাঁদাবাজির বিষয়ে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। প্রমাণ পেলে যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও রাজনৈতিক দলগুলোর তহবিল সংগ্রহে স্বচ্ছতা না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au