পেলেটে ঝাঁঝরা মুখ, তবু অনুশোচনা নেই: হাসপাতাল থেকেই যন্তর মন্তরে ফেরার ঘোষণা
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনায় আহত হয়েও আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন ২৫ বছর…
মেলবোর্ন, ১ আগষ্ট- রংপুরের গঙ্গাচড়ার আলদাতপুর হিন্দুপল্লিতে হামলার ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলামের রূঢ় আচরণ ও হুমকির শিকার হয়েছেন দুই সংবাদকর্মী। বুধবার (৩০ জুলাই) দুপুরে কিশোরগঞ্জ থানার সামনে প্রথম আলো ও কালবেলার দুই প্রতিবেদককে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন ওসি, পাশাপাশি উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দেন, “এই এদের ধরেন তো।”
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে ওসি আশরাফুল ইসলামের অপসারণ ও বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন, রিপোর্টার্স ক্লাব, নীলফামারী সাংবাদিক ইউনিয়ন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠন। তারা বলেন, এ ধরনের আচরণ সাংবাদিকতার স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।
ঘটনার শিকার রংপুরের কালবেলার প্রতিনিধি রেজওয়ান রনি ও প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক জহির রায়হান জানান, গঙ্গাচড়ার হামলার ঘটনার আগে কিশোরগঞ্জের বাংলাবাজারে এক মানববন্ধনে পুলিশের ভূমিকা জানতে চাওয়া হলে ওসি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। প্রথমে তিনি পুরো ঘটনা অস্বীকার করেন, পরে সাংবাদিকদের উসকানিদাতা হিসেবে গালাগাল করেন এবং গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, ওসি আশরাফুল বলেন, “উসকানি দিতে আসছে ওরা। সব খবর আছে, উসকানি দিচ্ছেন আপনারা। যোগ্যতা থাকলে ভালো জায়গায় থাকতেন।” এরপর বলেন, “চোখ দিয়ে তাকাচ্ছেন কেন?” এবং নির্দেশ দেন, “এই পুলিশ ডাকেন, ওদের ধরেন। প্ল্যান করছে দুজন, প্রমাণ আছে আমার কাছে।”
পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এসআই মহসিন এগিয়ে এলে তাকেও ধমক দেন ওসি। পরে ওই এসআই-ই সাংবাদিকদের থানার ভেতর থেকে নিরাপদে বের করে নিয়ে যান। এরপরও ওসি গালিগালাজ বন্ধ করেননি বলে অভিযোগ।
এ ঘটনায় সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন একযোগে প্রতিবাদ জানিয়েছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আইনজীবী, সম্পাদক ও পেশাজীবীরাও এর নিন্দা জানান। তারা এটিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক অভিযোগ করে বলেন, ওসি আশরাফুল ইসলাম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন এবং সাংবাদিক নির্যাতনের মাধ্যমে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছেন। তিনি আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ওসির অপসারণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
ওসি আশরাফুল ইসলাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদককে বলেন, “আমি আধুনিক পুলিশ, সাংবাদিকদের ভয় করে চলি না। চাকরি গেলে চাকরি করব না। সাংবাদিক হোক, রাজনীতিবিদ হোক, ফাইজলামো করলে পিটিয়ে সোজা করে দেব।”
ঘটনার ভিডিও ও অডিও ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সংবাদপত্র ও সাংবাদিক সংগঠনগুলো বলছে, এই ধরনের মনোভাব শুধু দায়িত্বজ্ঞানহীন নয়, তা গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হামলা।
তারা অনতিবিলম্বে অভিযুক্ত ওসিকে প্রত্যাহার করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au