আগে ‘শিবির’, এখন ‘ছাত্রলীগ’: বদলায়নি ট্যাগিংয়ের রাজনীতি
বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো ব্যক্তিকে রাজনৈতিক দল, সংগঠন বা মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত করে চিহ্নিত করার প্রবণতা দীর্ঘদিনের। সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ক্ষমতার সমীকরণ বদলালেও এই…
মেলবোর্ন ২ আগস্ট-অস্ট্রেলিয়ার একটি নারী ফুটবল ক্লাব থেকে সরাসরি খেলার প্রস্তাব পেয়েছেন বাংলাদেশের জাতীয় নারী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ঋতুপর্ণা চাকমা।
আগামী বছর অস্ট্রেলিয়াতেই প্রথমবারের মতো নারীদের এশিয়ান কাপে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশের বাঘিনীরা। আর দেশের ফুটবলে এমন গৌরব আনার পেছনে সবচেয়ে বেশি যার অবদান সেই ঋতুপর্ণা চাকমার ক্যারিয়ারেই আসছে এই নতুন মোড়।
বিষয়টি ওটিএন বাংলাকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম। তবে সবকিছু এখনো চূড়ান্ত নয়। পেছনে আছে কিছু জটিল সমীকরণ, শর্ত এবং অবশ্যই সময়ের হিসাব।
বর্তমানে ভুটানের পারো এফসির হয়ে লিগ খেলছেন ঋতুপর্ণা। এবার আরও বড় মঞ্চে দেখা যেতে পারে তাঁকে। অস্ট্রেলিয়ার নারী ফুটবলের তৃতীয় স্তর, ‘ন্যাশনাল প্রিমিয়ার লিগ উইমেনস’-এ অংশ নেয় এমন একটি ক্লাব থেকে তাঁর প্রতি আগ্রহ দেখানো হয়েছে। যদিও ক্লাবটির নাম এখনো প্রকাশ করেনি বাফুফে, তবে তারা বলছে, সরাসরি ক্লাব কর্তৃপক্ষ নয়, বরং একটি প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা বা এজেন্ট যোগাযোগ করেছে।
বাফুফের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম বলেন, অস্ট্রেলিয়ার লিগ থেকে ঋতুপর্ণার ব্যাপারে আগ্রহ জানানো হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কিছু শর্ত পূরণ না হলে এটা বাস্তবায়ন নাও হতে পারে। তবুও এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয় যে, আমাদের নারী ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা তৈরি হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক নারী ফুটবলে বাংলাদেশের মেয়েরা এখন আর আন্ডারডগ নয়। বিশেষ করে ২০২২ সালের সাফ জয়ের পর তাদের নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে বহির্বিশ্বে। এরপরের আসরেও দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল। যার পেছনে ঋতুপর্ণার ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। সর্বশেষ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে তিনিই হয়েছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার সেরা নারী ফুটবলারর।
এমন প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়ায় খেলার সুযোগ নিঃসন্দেহে বড় অর্জন হতে পারত ঋতুপর্ণার জন্য। তবে তার সঙ্গে যোগ হয়েছে জাতীয় দলের দায়িত্ব, ঘরোয়া ফুটবলের প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক সূচি। কারণ আগামী বছর মার্চে অস্ট্রেলিয়াতেই বসবে নারী এশিয়ান কাপের আসর। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ নারী দল সেপ্টেম্বর থেকেই শুরু করবে হাই-ইন্টেনসিভ ট্রেনিং ক্যাম্প। সেই সঙ্গে বছরজুড়ে রয়েছে অন্তত ছয়টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা।
আর এখানেই গড়ে উঠেছে টানাপোড়েন। একদিকে বিদেশি ক্লাবে খেলে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ, অন্যদিকে জাতীয় দলের স্বার্থ, সব ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়দের পাওয়ার আশা। কারণ সাধারণত বিদেশি ক্লাবগুলো তাদের চুক্তিভুক্ত খেলোয়াড়কে পুরো মৌসুমের জন্যই ধরে রাখতে চায়। অন্যদিকে বাফুফের পরিকল্পনা, এশিয়া কাপসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ঋতুপর্ণাকে শতভাগ সময় মাঠে পাওয়া।
বাফুফে মনে করছে, জাতীয় দলের জন্য এই মুহূর্তে ঋতুপর্ণার গুরুত্ব অপরিসীম। তাঁর মতো অভিজ্ঞ ফুটবলার এ মুহূর্তে দলের কৌশলগত ভারসাম্যে বড় ভূমিকা রাখছেন। তাই তাকে ছাড়ার বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে যেতে চাচ্ছে না ফেডারেশন। তবে একইসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে ক্লাবটির সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পথ খোলা রেখেছে তারা।
বাংলাদেশের হয়ে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে তিন ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ৫ গোল করা ঋতুপর্ণা, ক’দিন আগেই ভুটানের লিগে এক ম্যাচেই করেছেন ৬ গোল। অর্থাৎ, সাম্প্রতিক সময়ে ফর্মের তুঙ্গেই আছেন এই ফুটবলার।
তবে ঋতুপর্ণার ক্যারিয়ার যেমন দেশীয় ফুটবলের সাফল্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে, তেমনি বিদেশি লিগে তার সম্ভাব্য অংশগ্রহণও বাংলাদেশের নারী ফুটবলের জন্য নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে। বাংলাদেশের নারী ফুটবলের জন্যও এটা এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এখন দেখার বিষয়, ফুটবল ফেডারেশন এবং সংশ্লিষ্ট ক্লাব এই বিষয়টি কতটা সুচিন্তিতভাবে সামলাতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au