পেলেটে ঝাঁঝরা মুখ, তবু অনুশোচনা নেই: হাসপাতাল থেকেই যন্তর মন্তরে ফেরার ঘোষণা
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনায় আহত হয়েও আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন ২৫ বছর…
মেলবোর্ন, ২ আগষ্ট- স্নায়ুযুদ্ধের যুগের ছায়া যেন আবারও ফিরে আসছে বিশ্ব রাজনীতির অঙ্গনে। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সাম্প্রতিক বাকযুদ্ধ, হুমকি ও পাল্টা হুঁশিয়ারির প্রেক্ষাপটে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন মোতায়েনের ঘটনা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার অর্থনীতিকে ‘মৃত’ বলে কটাক্ষ করেন। জবাবে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং বর্তমান নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ সতর্ক করে বলেন, ‘ডেড হ্যান্ড’ ব্যবস্থা এখনও সক্রিয় রয়েছে। এটি এমন এক স্বয়ংক্রিয় পরমাণু প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা, যা রাশিয়ার নেতৃত্ব ধ্বংস হয়ে গেলেও প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে সক্ষম।
ট্রাম্প এই হুমকিকে গুরুত্ব দিয়ে দুইটি পরমাণু সাবমেরিন উপযুক্ত অঞ্চলে মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মেদভেদেভের কথাবার্তা যদি নিছক রাজনৈতিক বক্তব্য না হয়ে থাকে, তাহলে পাল্টা প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
এই ঘোষণার পর রাশিয়ার পার্লামেন্ট সদস্য ভিক্টর ভোডোলাটস্কি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাশিয়ার কাছে আমেরিকার চেয়ে অনেক বেশি পারমাণবিক সাবমেরিন রয়েছে। তাদের সাবমেরিনগুলো বিশ্বের বিভিন্ন মহাসাগরে সক্রিয়।
এই উত্তপ্ত অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, প্রকৃতপক্ষে কে এগিয়ে—যুক্তরাষ্ট্র না রাশিয়া?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বাহিনী। তাদের বহরে রয়েছে অন্তত ৫১টি পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন। এর মধ্যে ১৪টি ওহাইও-ক্লাস ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন (এসএসবিএন)। এগুলো নিরব, নির্ভুল ও দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে সক্ষম। প্রতিটি ওহাইও সাবমেরিন ২০টি ট্রাইডেন্ট-২ ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম।
এছাড়া রয়েছে ২৪টি ভার্জিনিয়া-ক্লাস আক্রমণাত্মক সাবমেরিন, যা টমাহক মিসাইল, টর্পেডো এবং বিভিন্ন নজরদারি সরঞ্জামসহ সজ্জিত। সিউলফ-ক্লাস সাবমেরিনের সংখ্যা ৩টি এবং ৬৮৮ (লস অ্যাঞ্জেলেস)-ক্লাসের রয়েছে প্রায় ২৪টি।
এই সাবমেরিনগুলো কেবল সমুদ্রের গভীরতায় লুকিয়ে থেকে আক্রমণ চালাতে পারে না, তারা বিশেষ অভিযানের জন্য ডুবুরি ও রোবট প্রযুক্তিও ব্যবহার করতে পারে।
অন্যদিকে রাশিয়ার সাবমেরিন বহরকে ধরা হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরমাণু সাবমেরিন শক্তি হিসেবে। তাদের বহরে আছে প্রায় ৬৪টি সাবমেরিন, যার মধ্যে অন্তত ১৪টি ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন রয়েছে—বোরেই এবং ডেল্টা-৪ ক্লাস মিলিয়ে।
বোরেই-ক্লাস সাবমেরিন হচ্ছে রাশিয়ার সবচেয়ে আধুনিক কৌশলগত সাবমেরিন। প্রতিটিতে ১৬টি বুলাভা এসএলবিএম ও ৬টি টর্পেডো লঞ্চার রয়েছে। এগুলো শত্রুর সাবমেরিন ও জাহাজ ধ্বংসে অ্যান্টি-সাবমেরিন রকেট ও মাইন ব্যবহারে সক্ষম।
এছাড়া রাশিয়ার কাছে রয়েছে ৪টি ইয়াসেন-ক্লাস আক্রমণ সাবমেরিন, যেগুলো অত্যন্ত ক্ষিপ্রগতিসম্পন্ন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে দক্ষ। আকুলা-ক্লাস নামে পরিচিত সাবমেরিনগুলোও রাশিয়ার বহরে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এগুলো মার্কিন লস অ্যাঞ্জেলেস-ক্লাসের জবাবে তৈরি।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন প্রযুক্তি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা থাকলেও রাশিয়ার সংখ্যাগত দিক থেকে এগিয়ে থাকা এবং কিছু অতিরিক্ত ধ্বংসাত্মক বৈশিষ্ট্য তাদের সাবমেরিন বহরকে ভয়াবহ করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের এ ধরনের শক্তি প্রদর্শন এবং হুমকি পাল্টা হুমকি স্নায়ুযুদ্ধের মতো উত্তেজনাকর পরিস্থিতির জন্ম দিচ্ছে। তবে এখনো প্রত্যাশা রয়েছে—এই প্রতিযোগিতা যুদ্ধের দিকে না গড়িয়ে কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান হবে।
বিশ্ববাসী তাই তাকিয়ে আছে—সত্যিই কি আমরা ফিরে যাচ্ছি সেই পুরনো উত্তপ্ত সময়ের দিকে? নাকি এটি কেবল রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল?
সুত্রঃ এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au