পেলেটে ঝাঁঝরা মুখ, তবু অনুশোচনা নেই: হাসপাতাল থেকেই যন্তর মন্তরে ফেরার ঘোষণা
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনায় আহত হয়েও আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন ২৫ বছর…
মেলবোর্ন, ৩ আগষ্ট- বিহার রাজ্যের পূর্ণিয়া জেলার টেটগামা গ্রামের একটি আদিবাসী পরিবার গত ৬ জুলাই রাতে ভয়াবহভাবে আক্রান্ত হয়। ‘কালো জাদু’ চর্চার অভিযোগে এক উন্মত্ত জনতা ওই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। ঘটনাটি এখনো গোটা গ্রামে শোক ও আতঙ্কের ছায়া ফেলে রেখেছে।
গত ৬ জুলাই রাতে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। নির্মম এই ঘটনায় নিহতরা হলেন ৭১ বছরের বিধবা কাটো ওঁরাও, তাঁর ছেলে বাবুলাল, পুত্রবধূ সীতা, নাতি মঞ্জিত ও তাঁর স্ত্রী রানি। এদের মধ্যে একমাত্র কিশোর বয়সী একটি ছেলে কোনওভাবে পালিয়ে প্রাণে বেঁচে যায়।
পরিবারটির আত্মীয় মনীষা দেবী (ছদ্মনাম) বলেন, সেদিন(৬ জুলাই) রাত ১০টার দিকে গ্রামের লোকজন বাবুলালের বাড়ির সামনে জড়ো হয়। তারা দাবি করে, পরিবারের সদস্যরা কালো জাদুর মাধ্যমে একজন কিশোরকে অসুস্থ করেছে। অভিযোগ ছিল, এর আগেও রামদেব ওঁরাওয়ের ছেলে তাঁদের কালো জাদুর কারণেই মারা গেছে।
পরে রামদেব ওঁরাও তাঁর অসুস্থ ভাতিজাকে কাটো দেবীর বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে স্থানীয় ওঝা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রপাঠ ও ঝাড়ফুঁকের একপর্যায়ে কাটো ও সীতা দেবীকে ডাইনি বলে দোষারোপ করা হয়। এরপরই শুরু হয় গণপিটুনি ও হত্যাকাণ্ড।
বিবিসি ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পেরেছে, সেদিন রাতেই পাঁচজনকে রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করে গ্রামের পুকুরপাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। ময়নাতদন্তে আগুনে পোড়া ও গুরুতর আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। তবে ঠিক কীভাবে মৃত্যু হয়েছে—তা এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের প্রাথমিক অভিযোগে বলা হয়েছে, অন্তত ২৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং ১৫০–২০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। ঘটনার প্রায় ১১ ঘণ্টা পর পুলিশ জানতে পারে। পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক গাফিলতির কথা স্বীকার করেছেন। সংশ্লিষ্ট থানার অফিসারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ওঝাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত রামদেব ওঁরাও এখনো পলাতক।
প্রাণে বেঁচে যাওয়া কিশোর বর্তমানে পুলিশের সুরক্ষা হেফাজতে আছে এবং তার কাউন্সেলিং চলছে। নিহতদের বাকি স্বজনদের জন্য সরকার খাবার ও সহায়তার ব্যবস্থা করেছে।
ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দাঙ্গা, বেআইনি জমায়েত, প্রমাণ লোপাট, হত্যাচেষ্টা ও হত্যার মামলা দায়ের করা হয়েছে। দোষ প্রমাণিত হলে যাবজ্জীবন কিংবা মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।
এই ঘটনার পেছনে সামাজিক কুসংস্কার ও অশিক্ষার ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সমাজকর্মীরা। আদিবাসী অধ্যুষিত টেটগামা গ্রামের বেশিরভাগ শিশুই স্কুলে যায় না। তারা অভিভাবকদের সঙ্গে ইটভাটায় কাজ করে। পুরো গ্রামে শিক্ষার হার অত্যন্ত কম এবং চিকিৎসার চেয়ে ওঝা ও তান্ত্রিকদের ওপর নির্ভরতা বেশি।
স্থানীয় এক শিক্ষক বলেন, গ্রামের মাত্র তিনজন শিশু স্কুলে ভর্তি আছে, কিন্তু কেউ ক্লাসে যায় না।
ঘটনার পর গ্রাম কার্যত জনশূন্য। কাটো দেবীর বাড়ির আশপাশে এখনো দেখা যায় সেই রাতের ভয়াবহতার ছাপ। ঘরগুলো ফাঁকা, কিছু তালাবদ্ধ, কিছু হঠাৎ ফেলে যাওয়া ঘরের মতো। একটি ঘরে মঞ্জিত ও তাঁর স্ত্রীর বিছানায় এখনো মশারি টানানো, চাদরও গোছানো। মনে হয়, তাঁরা এখনো ফিরে আসবেন।
মনীষা দেবী ঘরের বাইরে বসে বলেন, “ওঁরা কীভাবে ছটফট করছিলেন, তা আমরা অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে দেখেছি। সেই দৃশ্য এখনও চোখের সামনে ঘুরে বেড়ায়।”
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au