ইরান যুদ্ধে যেভাবে ব্যবহৃত হয়েছে মাস্কের এআই ‘গ্রোক’
মেলবোর্ন, ১৮ জুন- ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে মার্কিন বাহিনী ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল ‘গ্রোক’ ব্যবহার করেছে বলে এক আইনি নথিতে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের…
মেলবোর্ন, ৪ আগষ্ট- ভারতের রাজধানী দিল্লি পুলিশের এক অফিসিয়াল চিঠিতে বাংলা ভাষাকে “বাংলাদেশের জাতীয় ভাষা” হিসেবে উল্লেখ করায় পশ্চিমবঙ্গজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এই মন্তব্যকে ‘চরম অপমান’, ‘দেশবিরোধী’ এবং ‘অসাংবিধানিক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, এটি শুধুই প্রশাসনিক ভুল নয়, বরং কেন্দ্রীয় সরকারের বাঙালি-বিরোধী মনোভাবের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।
ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের বরাতে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা যায়, দিল্লির বঙ্গভবনের অফিসার ইনচার্জের কাছে পাঠানো একটি চিঠিকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্কের সূচনা। দিল্লি পুলিশের এই চিঠিতে ‘ফরেনার্স অ্যাক্ট’-এর আওতায় করা একটি মামলার প্রসঙ্গে বাংলা ভাষাকে “বাংলাদেশি জাতীয় ভাষা” হিসেবে উল্লেখ করে অনুবাদকের প্রয়োজনের কথা বলা হয়।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, “দিল্লি পুলিশ বাংলা ভাষাকে যেভাবে বাংলাদেশি ভাষা বলে চিহ্নিত করেছে, তা কেবল বাঙালিদের অপমান নয়, বরং আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সংবিধানকে উপেক্ষা করার সামিল।” তিনি আরও বলেন, “বাংলা আমার মাতৃভাষা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, কাজী নজরুল ইসলাম, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ভাষা। আমাদের জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’ এবং জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’— দুটোই বাংলায় লেখা। এই ভাষা ভারতীয় সংবিধানে স্বীকৃত ভাষা, কোটি কোটি ভারতীয়ের প্রাণের ভাষা।”
মমতা ব্যানার্জি অভিযোগ করেন, “বাংলাকে বাংলাদেশের ভাষা হিসেবে বর্ণনা করে দিল্লি পুলিশ ভারতীয় গণতন্ত্র, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ও সাংবিধানিক মর্যাদার ওপর আঘাত করেছে। এটা কেন্দ্রের বাঙালিদের প্রতি বিদ্বেষেরই বহিঃপ্রকাশ।”
তৃণমূল কংগ্রেস দলও ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। দলের পক্ষ থেকে ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, “দিল্লির একটি মামলায় আটজন বাংলাদেশি সন্দেহভাজন নাগরিককে আটক করার পর দিল্লি পুলিশ বঙ্গভবনে চিঠি পাঠায়। সেই চিঠিতে ‘বাংলাদেশি জাতীয় ভাষা’য় অনুবাদক চাওয়া হয়েছে। এটা শুধু অজ্ঞতা নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ভারত সরকার এবং প্রশাসনের এমন গাফিলতিতে কীভাবে একটি স্বীকৃত রাজ্যভাষা ও তার ব্যবহারকারীদের অসম্মান করা হয়?
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. শ্যামল ভট্টাচার্য বলেন, “এই ধরনের মন্তব্য শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নয়, এটি সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মতোই। বাংলা শুধুমাত্র বাংলাদেশের ভাষা নয়, এটি ভারতের অন্যতম প্রধান ভাষা। পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, অসমসহ বহু রাজ্যে কোটি কোটি মানুষ এই ভাষায় কথা বলেন।”
এদিকে মমতা ব্যানার্জি বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাবেন বলে জানা গেছে। পশ্চিমবঙ্গের একাধিক সাংসদ ও মন্ত্রী ইতোমধ্যে এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দিল্লি পুলিশের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছেন।
সমালোচকরা বলছেন, এই ঘটনা কেবল ভুল শব্দ ব্যবহারের বিষয় নয়, বরং একটি জাতিসত্ত্বা ও ভাষাকে উপেক্ষা ও হেয় করার রাজনৈতিক দৃষ্টান্ত। বাংলাকে কেবল বাংলাদেশের ভাষা হিসেবে সীমিত করে দেখা ভারতীয় ঐক্যের পরিপন্থী বলেও মত দিয়েছেন তারা।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বাঙালি পরিচিতিকে নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে যেভাবে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটেও এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অনেকেই মনে করছেন, এটি বিজেপির রাজনীতি থেকে উদ্ভূত বাঙালি ও বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে এক ধরনের মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।
বাংলার ভাষা ও পরিচিতিকে ঘিরে এই প্রতিবাদ কতদূর গড়ায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন বাঙালি সমাজ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au