কুমিল্লায় দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার কিশোরী, গ্রেপ্তার ২
মেলবোর্ন, ১৮ জুন- কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী। ভুক্তভোগীর মায়ের অভিযোগ পেয়ে পুলিশ জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে অভিযানে নেমেছে। বুধবার…
মেলবোর্ন, ১৮ জুন- ভারতের জাতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) ঘিরে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনলাইন প্রতারণা রোধে টেলিগ্রামের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম। সরকারের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং ডিজিটাল স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়া নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বুধবার দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন জমা দেন টেলিগ্রামের আইনজীবীরা। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আদালত বিষয়টি শুনানির জন্য গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারত সরকারের অভিযোগ, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে টেলিগ্রামের কিছু চ্যানেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এসব চ্যানেলে পরীক্ষার প্রশ্ন আগাম সরবরাহের দাবি করে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ কর্তৃপক্ষের।
এদিকে টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ সরকারের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, টেলিগ্রাম বন্ধ করে প্রশ্নফাঁস ঠেকানো সম্ভব নয়। বরং এর ফলে ভারতের প্রায় ১৫ কোটি সাধারণ ব্যবহারকারী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সম্প্রতি ভারতের অন্যতম বৃহৎ ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’ ঘিরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রায় ২৩ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়া পরীক্ষাটির ফলাফল বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ঘটনায় দেশের বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও ওঠে।
সরকারের দাবি, প্রশ্নফাঁস চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এনক্রিপটেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অবৈধভাবে পরীক্ষার তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছিল। সেই কারণেই সাময়িকভাবে টেলিগ্রামের কার্যক্রম সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক অধিকারকর্মীদের একাংশ মনে করছেন, কয়েকটি চ্যানেলের কর্মকাণ্ডের জন্য পুরো প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়া সমাধান নয়। তাদের মতে, অপরাধীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে কোটি কোটি ব্যবহারকারীর যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করা মতপ্রকাশ ও তথ্যপ্রাপ্তির স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এখন দিল্লি হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষ, ব্যবহারকারী এবং প্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্টরা। আদালতের রায়ই নির্ধারণ করবে ভারতে টেলিগ্রামের ওপর আরোপিত সাময়িক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে, নাকি তা প্রত্যাহার করা হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au