ইরান যুদ্ধে যেভাবে ব্যবহৃত হয়েছে মাস্কের এআই ‘গ্রোক’
মেলবোর্ন, ১৮ জুন- ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে মার্কিন বাহিনী ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল ‘গ্রোক’ ব্যবহার করেছে বলে এক আইনি নথিতে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের…
মেলবোর্ন, ৫ আগষ্ট- ভারত রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনা অব্যাহত রাখায় দেশটির পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৪ আগস্ট) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে এই হুমকি দেন তিনি।
পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “রাশিয়া চাপিয়ে দেওয়া এক ভয়াবহ যুদ্ধে ইউক্রেনের মানুষ মারা যাচ্ছে, কিন্তু ভারত তাতে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনেই যাচ্ছে তারা। যুক্তরাষ্ট্র আর এই ধরনের আচরণ সহ্য করবে না।” তিনি আরও লেখেন, “ভারতের ওপর উল্লেখযোগ্য হারে শুল্ক আরোপ করা হবে। এই অর্থ আমরাই পাবো। ভারত আমাদের খরচ মেটাবে।”
এই হুমকির প্রেক্ষাপটে আগামী ৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হতে যাওয়া পাল্টা শুল্কের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এর আগে, ৩১ জুলাই ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে বিভিন্ন দেশের ওপর আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, যার আওতায় ভারতের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ট্রাম্পের ঘোষণার পেছনে মূল কারণ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ভারতের অবস্থান। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ভারত রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণে তেল আমদানি করে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো এই যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করলেও নয়াদিল্লি সরকার এখনো রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নেয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক সস্তা দামে তেল পাওয়ার সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সত্ত্বেও দেশটির সরকার তাদের অভ্যন্তরীণ তেল সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে রাশিয়া থেকে আমদানি বন্ধ করেনি।
ব্লুমবার্গের বরাতে জানা গেছে, ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলো রাশিয়ার তেল আমদানিতে অব্যাহতভাবে সক্রিয় রয়েছে এবং তাদের ওপর এখনো কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি।
তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং শুল্ক বৃদ্ধির হুমকি ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা।
প্রসঙ্গত, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। ২০২৪ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৯০ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ভারত যুক্তরাষ্ট্রে বড় আকারে বস্ত্র, ওষুধ, গয়না, প্রযুক্তিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে।
শুল্ক বৃদ্ধির কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে দাম বেড়ে যেতে পারে, ফলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ট্রাম্পের এই হুমকি রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে দেখা গেলেও, নির্বাচনের আগে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে জোরদার করার অংশ হিসেবেই তিনি এমন পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এখন দেখার বিষয়, ভারত এ বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া জানায় এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক কীভাবে এগোয়।
সুত্রঃ এএফপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au