ইরান যুদ্ধে যেভাবে ব্যবহৃত হয়েছে মাস্কের এআই ‘গ্রোক’
মেলবোর্ন, ১৮ জুন- ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে মার্কিন বাহিনী ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল ‘গ্রোক’ ব্যবহার করেছে বলে এক আইনি নথিতে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের…
মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট- দীর্ঘ আড়াই বছর পর প্রিয় স্বদেশে ফিরছিলেন বাহার উদ্দিন। ওমান প্রবাসে থাকা এই যুবক ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন—“স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার।” কিন্তু সেই স্বপ্নের যাত্রা রূপ নেয় বিভীষিকায়। বাড়ি ফেরার পথে তার মা, স্ত্রী, মেয়ে ও আরও চারজন স্বজনের মৃত্যু হয় এক সড়ক দুর্ঘটনায়।
বুধবার (৬ আগস্ট) ভোরে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের জগদীশপুর এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। বাহার উদ্দিনকে আনতে তার পরিবারের ১২ সদস্য একটি মাইক্রোবাসে করে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু বাড়ি পৌঁছানোর আগেই বিপত্তি ঘটে—চালক ঘুমিয়ে পড়লে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাসটি রাস্তার পাশে খালের পানিতে পড়ে যায়।
মাইক্রোবাসে থাকা বাহার উদ্দিন ও আরও চারজন গ্লাস ভেঙে বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও সাতজন ভেতরে আটকা পড়ে পানির নিচে দমবন্ধ হয়ে প্রাণ হারান।
নিহতদের মধ্যে ছিলেন বাহারের স্ত্রী কবিতা আক্তার (২৪), দুই বছরের কন্যা মীম আক্তার, মা মুরশিদা বেগম (৫০), নানী ফয়জুন নেছা (৭০), দুই ভাতিজি রেশমা (৯) ও লামিয়া (৮), এবং বড় ভাইয়ের স্ত্রী লাবনী আক্তার (২৫)। তারা সবাই লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের চৌপল্লী এলাকার বাসিন্দা।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শাহাদাত হোসেন ফাহিম জানান, ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে দ্রুতগতির মাইক্রোবাসটি আচমকা খালে পড়ে যায়। চালক তখনই পালিয়ে যান। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। বেগমগঞ্জ ও মাইজদী থেকে দুটি ইউনিট এলেও ডুবুরি না থাকায় তারা উদ্ধার তৎপরতায় ব্যর্থ হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশের রেকারের মাধ্যমে গাড়িটি তুললে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন ভূঁইয়া বলেন, গাড়িতে মোট ১৩ জন যাত্রী ছিলেন। চালক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর তিনি পালিয়ে গেছেন। গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের নোয়াখালী অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ জানান, স্থানীয় ইউনিটগুলোতে ডুবুরি না থাকায় তারা চাঁদপুর থেকে ডুবুরি চেয়েছিলেন। তবে তার আগেই উদ্ধারকাজ শেষ হয়।
এই দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাহারের পুরো পরিবার একসঙ্গে হারিয়ে গেছে। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। বাহারের স্বপ্নের দেশে ফেরা পরিণত হয়েছে নিদারুণ এক বেদনায়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au