প্রবাস দর্পন

অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে ধর্মীয় শ্রদ্ধা ও সাংস্কৃতিক ঐক্যে উদ্ভাসিত ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন

  • 12:26 am - August 07, 2025
  • পঠিত হয়েছে:২০৩ বার
অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন

ডারউইন, ২ আগস্ট ২০২৫ — পবিত্রতা, ভক্তি ও আন্তরিকতা ছুঁয়ে গেল গোটা ডারউইনকে। ঐতিহাসিক গ্রে কমিউনিটি হল প্রাঙ্গণে অনাড়ম্বর অথচ গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৭তম পবিত্র জন্মবার্ষিকী। দিনব্যাপী এই মহোৎসবে নর্দান টেরিটরির বিভিন্ন অঞ্চল এবং অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজ্য থেকে আগত ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ী অংশগ্রহণ করেন, যা এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশের সূচনা করে এবং বহুসাংস্কৃতিক অস্ট্রেলিয়ার মানবিক ঐক্য ও শ্রদ্ধাবোধের প্রতিফলন ঘটায়।

সকাল শুরু হয় প্রার্থনার মাধ্যমে

ভোর ৬টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় উষা কীর্তন ও প্রার্থনার মাধ্যমে। ঠাকুরের বন্দনায় মুখরিত হয় কমিউনিটি হল। ভক্তরা যোগ দেন ভক্তিমূলক সঙ্গীত, ধ্যান এবং নামজপে। আধ্যাত্মিক প্রশান্তিতে পূর্ণ সকালের পরিবেশ এক অনুরণিত আবেশে পরিণত হয়।  উষা কীর্তনের নেতৃত্ব দেন ডারউইনের গুরুভাই ইন্দ্রজিৎ। 

শিশুদের সৎসঙ্গ এবং মাতৃ সম্মেলন: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার সেতুবন্ধ

বিকেল ২টায় শুরু হয় চিলড্রেন সৎসঙ্গ—যেখানে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা গান, কবিতা এবং ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের জীবনী ও শিক্ষার ওপর গল্প ও বক্তব্য উপস্থাপন করে। তাদের সপ্রাণ ও আন্তরিক উপস্থাপনা দেখে দর্শকরা বিস্ময়ে বিমুগ্ধ হন।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার সেতুবন্ধ চিলড্রেন সৎসঙ্গ

এরপর শুরু হয় মাতৃ সম্মেলন, যেখানে প্রবাসী মা-বোনেরা ঠাকুরের জীবনদর্শনের আলোকে পারিবারিক মূল্যবোধ, সন্তান প্রতিপালন এবং নারীর আত্মিক জাগরণ নিয়ে আলোচনা করেন। মায়েদের ভাবগম্ভীর বক্তৃতায় ফুটে ওঠে ঠাকুরের নৈতিকতা ও মানবিক দর্শনের গভীর প্রভাব।

মাতৃ সম্মেলন, যেখানে প্রবাসী মা-বোনেরা ঠাকুরের জীবনদর্শনের আলোকে পারিবারিক মূল্যবোধ, সন্তান প্রতিপালন এবং নারীর আত্মিক জাগরণ নিয়ে আলোচনা করেন।

সৎসঙ্গ উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সংগীতাঞ্জলি

সৎসঙ্গ উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া সংগীতাঞ্জলি পরিবেশনা। আনুশকা রায়ের উপস্থাপনায় সংগীতাঞ্জলি পর্বে ধর্মীয় নৃত্য ছাড়াও শ্রী শ্রী ঠাকুরের উপর লিখিত বেশ কয়েকটি গান পরিবেশিত হয়। “প্রেমী তোমারে প্রণাম জানাই”, “সুন্দরও ভুবনে তুমি ভগবান”, এবং “ভালোই যদি চাস সবার ভালো করেন যিনি তার”—এই গভীর অনুভূতিসম্পন্ন ও আধ্যাত্মিক বার্তায় ভরপুর গানগুলো ভক্তদের মনে ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের প্রেম, সেবা ও মানবিক শিক্ষার অনুরণন জাগিয়ে তোলে।

অনুষ্ঠানের এই পর্যায়ে উপস্থিত ছিলেন কেজুয়ারিনার সংসদ সদস্য ও খনি ও জ্বালানি সহকারী মন্ত্রী জনাব খোদা প্যাটেল (Mr. Khoda Patel)। তিনি বলেন,

“এই ধরনের আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠান আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য যেমন প্রয়োজনীয়, তেমনি এটি একটি বহুমাত্রিক সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা তৈরি করে।” নর্দান টেরিটরি মাল্টিকালচারাল কাউন্সিলের সভাপতি জনাব এডউইন জোসেফ (Mr. Edwin Joseph) আয়োজকদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন,

“এই আয়োজন একতা, সহমর্মিতা ও সাংস্কৃতিক সহাবস্থানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এমন আয়োজনে অংশ নিতে পেরে আমি গর্বিত।”

অতিথিবৃন্দ সৎসঙ্গ উৎসবে অংশগ্রহণকারী ছোট ছোট ছেলেমেয়েদেরকে সার্টিফিকেট প্রদান করেন।

সান্ধ্যকালীন প্রার্থনার মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠানের মূল পর্ব। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল নর্দান টেরিটরি  সরকারি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি।

নর্দান টেরিটরির মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে প্রধান অতিথি ছিলেন সাংসদ ও মাল্টিকালচারাল বিষয়ক মন্ত্রী জনাব জিনসন চারডল (Hon. Jinson Chardl, MLA)।

নর্দান টেরিটরির মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে প্রধান অতিথি ছিলেন সাংসদ ও মাল্টিকালচারাল বিষয়ক মন্ত্রী জনাব জিনসন চারডল (Hon. Jinson Chardl, MLA)। তিনি তার বক্তব্যে বলেন,

“এই ধরনের আয়োজন সমাজে আধ্যাত্মিক সম্প্রীতি গড়ে তোলে এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দর্শন সময়োপযোগী ও মানবিক।”

ঠাকুরের জীবন আদর্শ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন সিডনি থেকে আগত সহ-প্রতি ঋত্বিক দেবতা  ডক্টর সুভাষ নন্দী এবং বিবেক নাগ। 

এরপর কীর্তনের আনন্দধারায় ভেসে যান উপস্থিত সকল ভক্তবৃন্দ, আর অনলাইনে যুক্ত থাকা ভক্তরাও একইভাবে আত্মবিস্মৃত হয়ে হৃদয় দিয়ে উপভোগ করেন এই আধ্যাত্মিক মুহূর্তগুলো—যেন ঠাকুরের প্রীতির সুরে সকলের হৃদয় এক মোহনায় মিলে যায়।

অনুষ্ঠান শেষ হয় সমবেত প্রার্থনা ও প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে। একসঙ্গে বসে ভক্তরা গ্রহণ করেন ঠাকুরের প্রসাদ, যা এক গভীর ভ্রাতৃত্ববোধ ও সেবার আবহ তৈরি করে।

শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের জন্মোৎসব ছিল কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়—বরং এটি ছিল ভালোবাসা, সত্য, সেবা ও মানবতার উৎসব। ডারউইনের প্রবাসী কমিউনিটি এই আয়োজনে যে আন্তরিকতা, শৃঙ্খলা ও ভালোবাসা দেখিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়। ঠাকুরের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বহু জাতিগোষ্ঠী, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষ একত্র হয়ে প্রমাণ করেছে—মানবতা-ই সর্বোচ্চ ধর্ম।

 

এই শাখার আরও খবর

জাবি মেডিক্যাল সেন্টারে ২১ দিনে প্রায় ২০ হাজার ওষুধের গরমিল

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিক্যাল সেন্টারে মাত্র ২১ দিনের ব্যবধানে প্রায় ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধের গরমিল ধরা পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ ক্রয় কমিটির…

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আত্মবিশ্বাস পলিন হ্যানসনের, মুসলিম অভিবাসন নিয়ে ফের বিতর্কিত মন্তব্য

মেলবোর্ন, ২১ জুলাই: অস্ট্রেলিয়ার ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ওয়ান নেশন-এর নেতা সিনেটর পলিন হ্যানসন বলেছেন, সুযোগ পেলে তিনি অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। একই…

আইএসে যোগদানের অভিযোগে অভিযুক্ত রায়ান এল হৌলি কঠোর শর্তে জামিন পেলেন

মেলবোর্ন, ২০ জুলাই-  অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের বাসিন্দা এবং ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংগঠনে যোগদানের অভিযোগে অভিযুক্ত রায়ান এল হৌলিকে কঠোর শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। জামিনের অন্যতম…

বিতর্কের মধ্যেই বার্নাবি জয়েসের সঙ্গে দ্বন্দ্বের গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন পলিন হ্যানসন

মেলবোর্ন, ১৯ জুলাই- অস্ট্রেলিয়ার ওয়ান নেশন পার্টির নেতা পলিন হ্যানসন তার সঙ্গে দলের সংসদ সদস্য বার্নাবি জয়েসের সম্পর্কের অবনতি নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন সরাসরি নাকচ করে…

সিডনিতে জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়ার বর্ণাঢ্য পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

মেলবোর্ন, ১৯ জুলাই: সিডনিতে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়া (JHAAA)-এর বহুল প্রতীক্ষিত রিইউনিয়ন ২০২৬। শনিবার (১৮ জুলাই) নিউ সাউথ ওয়েলসের ওয়েন্টওয়ার্থভিলের…

জাপানের গোয়েন্দা সংস্কারকে স্বাগত জানানো উচিত অস্ট্রেলিয়ার, বলছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা

মেলবোর্ন, ১৮ জুলাই- জাপানের গোয়েন্দা কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কার আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও কৌশলগত…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au