তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করলে গোল্ডেন বুট পাবে এমবাপ্পে?
মেলবোর্ন, ১৯ জুলাই- বিশ্বকাপের পর্দা নামতে বাকি আর মাত্র দুটি ম্যাচ। রোববারের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। তার আগে শনিবার অনুষ্ঠিত হবে…
মেলবোর্ন, ১৮ জুলাই- জাপানের গোয়েন্দা কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কার আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও কৌশলগত অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
চলতি বছরের মে মাসে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে গোয়েন্দা সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার করা হয়। একই মাসে জাপানের পার্লামেন্ট (ডায়েট) নতুন একটি আইন পাস করে, যার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় গোয়েন্দা কাউন্সিল গঠন এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা প্রতিষ্ঠার পথ উন্মুক্ত হয়।
নতুন এই সংস্থা বর্তমান ক্যাবিনেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিসার্চ অফিসকে প্রতিস্থাপন করবে এবং প্রাথমিকভাবে প্রায় ৭০০ কর্মকর্তা নিয়ে কার্যক্রম শুরু করবে। এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় পুলিশ সংস্থা এবং পাবলিক সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির মধ্যে সমন্বয় আরও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা দূর করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানের মানও উন্নত হবে। পাশাপাশি এ বছরের শেষ নাগাদ জাপান প্রথমবারের মতো একটি জাতীয় গোয়েন্দা কৌশল প্রকাশ করতে যাচ্ছে, যা দেশটির নিরাপত্তা নীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
এছাড়া সরকার একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা গঠনের পরিকল্পনাও করছে, যা ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে চালু হতে পারে। সংস্থাটি বিদেশে গোপন মানব গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে কাজ করবে। এর কার্যক্রম অনেকটা অস্ট্রেলিয়ার অস্ট্রেলিয়ান সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) এবং যুক্তরাজ্যের এমআই৬-এর মতো হতে পারে।
জাপানের গোয়েন্দা ব্যবস্থার এই আধুনিকায়নের পেছনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সময় থেকে শুরু হওয়া সংস্কার প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে ২০১৪ সালে কার্যকর হওয়া স্পেশালি ডিজাইনেটেড সিক্রেটস অ্যাক্ট জাপানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য মিত্র দেশের নিরাপদ গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের পথ আরও সুগম করে।
এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা শিগেরু কিতামুরা। তিনি গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়কে “রস সংরক্ষণের পাত্র”-এর সঙ্গে তুলনা করে ব্যাখ্যা করেছিলেন যে, শক্তিশালী আইন ও নিরাপদ কাঠামো ছাড়া আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সহযোগিতা সম্ভব নয়। তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২২ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ান ইন্টেলিজেন্স মেডেল লাভ করেন।
তবে এই সংস্কার নিয়ে জাপানের ভেতরেও বিতর্ক রয়েছে। বিরোধী দলগুলো সরকারি কর্মকাণ্ডে আরও বেশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে চীনের পক্ষ থেকে এই সংস্কারকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পূর্ব সামরিক নীতিতে ফিরে যাওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, জাপানকে একদিকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা বাড়াতে হবে, অন্যদিকে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা ও আইনের শাসনও নিশ্চিত করতে হবে। এতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা আরও বাড়বে এবং তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ফাইভ আইজ জোটে যোগ দেওয়া জাপানের অগ্রাধিকার নয়। বরং অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের গোয়েন্দা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করাই টোকিওর প্রধান লক্ষ্য। বিশ্লেষকদের ভাষ্য, জাপান-অস্ট্রেলিয়া গোয়েন্দা সহযোগিতা আরও গভীর হলে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au