ইরান যুদ্ধে যেভাবে ব্যবহৃত হয়েছে মাস্কের এআই ‘গ্রোক’
মেলবোর্ন, ১৮ জুন- ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে মার্কিন বাহিনী ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল ‘গ্রোক’ ব্যবহার করেছে বলে এক আইনি নথিতে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের…
মেলবোর্ন, ৮ আগষ্ট- দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকাকে ঘিরে সাম্প্রতিক কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)। একইসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্যপ্রকাশের অবস্থা নিয়ে যে হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে, তা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) নোয়াব সভাপতি এ কে আজাদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা নিয়ে দেশবাসী যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, তাতে তথ্যপ্রকাশ, মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে গত এক বছরে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।”
জনকণ্ঠকে ঘিরে উদ্বেগ
নোয়াবের বিবৃতিতে বিশেষভাবে দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। সংগঠনটি দাবি করে, জনকণ্ঠের কার্যালয়ে “মব” তৈরি করে উদ্যোক্তাদের উচ্ছেদ ও দাবি আদায়ের অপচেষ্টা হয়েছে, যা সাংবাদিকতার নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের মতে, কর্মীদের কোনো আর্থিক দাবি থাকলে তা শ্রম আদালতের মাধ্যমে এবং সংবাদ সংক্রান্ত কোনো বিরোধ থাকলে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ করে তা মীমাংসা করা উচিত ছিল। কিন্তু এই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সরাসরি পত্রিকা কার্যালয়ে ও অনলাইন পোর্টালে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয়েছে।
টিআইবি প্রতিবেদনের উদ্বেগজনক তথ্য
নোয়াব টিআইবির রিপোর্টের তথ্য তুলে ধরে জানিয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত এক বছরে ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ২৬৬ জনকে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানসংক্রান্ত হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনের সময় তিনজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, ২৪ জন গণমাধ্যমকর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এছাড়া ৮টি পত্রিকার সম্পাদক এবং ১১টি টেলিভিশন চ্যানেলের বার্তাপ্রধানকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
সরকারের প্রতি আহ্বান
এই অবস্থাকে গভীরভাবে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে নোয়াব সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছে, অবিলম্বে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “কোনো সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমে ‘মব’ সৃষ্টি করে মালিকপক্ষকে হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।”
সংগঠনটি আরও বলেছে, “আমরা বিশ্বাস করি, গণমাধ্যমের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা গেলে তা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিতকে আরও দৃঢ় ও টেকসই করবে।”
নোয়াবের এই বিবৃতি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা ও মানবাধিকার রক্ষায় নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au